• ই-পেপার

গার্মেন্টসে ঈদের ছুটি ৩ দিনই

সারের কাঁচামাল আমদানির দরপত্রের সময়সীমা ২১ দিন নির্ধারণ

অনলাইন ডেস্ক
সারের কাঁচামাল আমদানির দরপত্রের সময়সীমা ২১ দিন নির্ধারণ

ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল জরুরিভিত্তিতে সংগ্রহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে উত্থাপিত এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।

কর্মকর্তারা জানান, এই সিদ্ধান্ত জরুরি সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখতে এবং সার উৎপাদনে কোনো ধরনের ব্যাঘাত রোধ করতে সহায়তা করবে; যার ফলে দেশের কৃষি খাতের প্রয়োজনে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া কমিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রস্তাবেরও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের একাংশ বাস্তবায়নের জন্য ‘ডেলিগেটেড প্রকিউরমেন্ট’ বা অর্পিত ক্রয় পদ্ধতির আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে (চট্টগ্রাম) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বন্যায় ৬ লাখ টন চাল উৎপাদন কমার শঙ্কা

নিজামুল হক
বন্যায় ৬ লাখ টন চাল উৎপাদন কমার শঙ্কা

মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে দুই দফায় উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকার বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে চট্টগ্রামে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এসব অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বন্যায় দেশে চালের মোট ঘাটতি ছয়-সাত লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় দেশের হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

হাওরের মোট কৃষিজমির ১০.৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে, যাতে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৩ হাজার টন। আকস্মিক এই দুর্যোগে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
হাওরের বন্যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় যে ধাক্কা দিয়েছিল, চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি আরো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তলিয়ে যাওয়া ফসল, ভেসে যাওয়া হাজারো মাছের ঘের আর গবাদি পশুর ক্ষতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

এক লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হওয়ায় ঝুঁকিতে আউশ ও আমন : চলতি মাসে চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে এই বিভাগের জেলাগুলোসহ মোট ৪৩ জেলার কৃষি ক্ষতির মুখে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের এক লাখ ১৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর ফসলি জমি বানের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সংকটে পড়েন পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৪ জন প্রান্তিক কৃষক।

চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশ ও আমনের চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে টানা ১০ থেকে ১২ দিন পাঁচ থেকে সাত ফুট পানির নিচে তলিয়ে থেকে বোনা ও রোপা আউশের ক্ষেত পচে গেছে। এই জেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আগামী মৌসুমে তীব্র চারাসংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের পেয়ারা বাগানসহ লেবু ও আনারস বাগানের শিকড় পচে গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষতি : চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ৩৫ হাজার ৫০০ পুকুর ও চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ায় অনেক চাষি এখন নিঃস্ব। মা মাছের হ্যাচারি প্লাবিত হওয়ায় রুই মাছের লাখ লাখ পোনা নষ্ট হয়েছে। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ডেইরি ও পোলট্রি খামারে গবাদি পশু ও কয়েক লাখ মুরগি মারা গেছে এবং দুধের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। সরকারি হিসাবে এই খাতে ৪৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. তারেক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্যার পর গবাদি পশুর মধ্যে সাধারণত বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপপরিচালক বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হলো গোখাদ্যের অভাব। অনেক এলাকার ঘাসের মাঠ, খড় ও পশুখাদ্যের মজুদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামারিরা বেশ সংকটে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে গোখাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় মানুষের বিভিন্ন সহায়তার পাশাপাশি পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. কে বি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন শুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, জরুরি ভিত্তিতে গোখাদ্য, ওষুধ ও টিকাদান জোরদার করতে হবে।

মাঠে নানা চ্যালেঞ্জ : কৃষি ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একাধিক মূল সংকট চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, আমন মৌসুমের শেষ মুহূর্তে নতুন বীজতলা তৈরি করা অসম্ভব। অন্য জেলা থেকে চারা এনে সরবরাহ করা না গেলে বিশাল জমি অনাবাদি থেকে যাবে। কৃষক-খামারিরা ব্যাংক বা এনজিওর ঋণে বিনিয়োগ করেছিলেন। পুঁজি হারিয়ে তাঁরা এখন নিঃস্ব। তাঁদের বিষয়টি ভাবতে হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, বন্যায় আউশের প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষতি হলে উৎপাদন অন্তত সাড়ে চার লাখ টন কমে যেতে পারে। হাওর অঞ্চলের আগের ক্ষতির সঙ্গে এই ক্ষতি যোগ হলে দেশে মোট চালের ঘাটতি ছয় থেকে সাত লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চালের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের কার্যকর নজরদারি জরুরি।  কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, বন্যায় সবজিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। শীতকালীন সবজির আবাদ সম্প্রসারণ করে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

সম্প্রতি বন্যাকবলিক এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদি পশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে?

অনলাইন ডেস্ক
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে?

আগস্টে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় তা পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষক ও প্রার্থীরা। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, আইন সংশোধনের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যাবে না। ইসি অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভায় সেখানে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন; জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের একাধিক বিধান পরিবর্তনে সরকারকে সুপারিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি একথা বলেন।

আইন সংশোধনের প্রস্তাবের কারণে নির্বাচন পেছাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইন সংশোধনের উদ্যোগে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। যদি কোনো সংশোধন হয়, সেই আইনেই বলা থাকবে যে এটি কবে থেকে কার্যকর। আর যদি সংশোধন নাও হয়, তাহলে বিদ্যমান আইন তো রয়েছেই। এ মুহূর্তে যে আইন রয়েছে, সেটিও দুর্বল না। এ আইন দিয়েও নির্বাচন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তিতে কিছু বিভ্রান্তি ছিল। সেই জিনিসগুলো যাতে এড়ানো যায়, সে জন্য কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন হলে সেই অনুযায়ী হবে, না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এতে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইনেও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা স্বীয় পদে থেকে নির্বাচন করার বিধান আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়টা যাতে পরিষ্কার হয় সেই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা করতে পারব। এ জন্য আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব। বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো একাধিক ধাপে ভোটগ্রহণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা কম সময়ে যাতে বেশি নির্বাচন করা যায় সে পরিকল্পনা করছি। প্রথম ধাপে কোন নির্বাচন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নাই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি উপজেলা নির্বাচন আগে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে বলব না। আইন-শৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করে যেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করা সম্ভব হবে, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আগে করব।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনো যোগাযোগ এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকবেই।

সহিংসতা কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং এটি বজায় রাখার জন্য কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা রাখবে।

এদিকে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এ প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য হবেন। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে প্রশাসকরাও পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। বিশেষ করে এ আইন সংশোধন হলে অনেকেই সংক্ষুব্ধ হতে পারেন।

ইসির স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সাবেক যুগ্ম সচিব (আইন) ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ইসি আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠালে সরকার চাইলে দ্রুত তা সম্পন্ন করতে পারে। তবে আইন সংশোধনের পরে তা চ্যালেঞ্জ করে কেউ আদালতে গেলে জটিলতা সৃষ্টি হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ধুঁকছে শিল্প ভুগছে গ্রাহক

অনলাইন ডেস্ক
ধুঁকছে শিল্প ভুগছে গ্রাহক

আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হোসেন ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লি. এবং মেহমুদ ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লি. কারখানা দুটি টঙ্গীর পাগার এলাকায় অবস্থিত। কারখানা চালাতে ১৫ পিএসআইয়ের গ্যাসের চাপ থাকার কথা থাকলেও গত দুই মাসে কারখানাগুলোতে এই চাপ ৪ পিএসআইয়ের ওপরে ওঠেনি। কখনো কখনো তা শূন্যে নেমে আসে। তখন কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। গ্যাসের সংকটে বর্তমানে এলপিজি, বিদ্যুৎ ও তেল দিয়ে কারখানার উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও এতে উৎপাদন খরচ প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন মেহমুদ।

মানিকগঞ্জের ধামরাইয়ে প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত ইনডেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিস অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার কারখানাটির মালিক। সাড়ে ৪ লাখ স্কয়ার ফুটের এ কারখানায় গ্যাস সংযোগ চাইতে মানিকগঞ্জের তিতাসের কার্যালয়ে কমপক্ষে ১০ বার গিয়েও কোনো সাড়া পাননি শাহরিয়ার। দুই বছর আগে কারখানাটি তৈরি করলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় বিদ্যুৎ দিয়েই কারখানাটির অর্ধেক অংশের উৎপাদন শুরু করেন। বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদনের জন্য খরচ ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসের শুরুতে গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানা একসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করায় ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এ পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায় বলে কারখানা বন্ধের নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের জ্বালানি খাতে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব ছিল। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানি প্রয়োজন, সেটির জোগান নেই। গত ১৭ বছরে দেশে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। ফলে পুরো দেশ এখন আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল বলেন, গ্যাস সরবরাহ কম হলে পণ্য উৎপাদন টার্গেট যেমন ব্যাহত হয় একই সঙ্গে বাজারে পণ্য সরবরাহেও ছেদ পড়ে। কারখানাগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে এমনটি চলতে থাকলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সংকোচন করতে হয়, শ্রমিক ছাঁটাই করতে হয়। এ অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে কারখানা বন্ধও করে দিতে হয়। প্রথমদিকে এ জিনিসগুলো ছোট কারখানা দিয়ে শুরু হয় আর দীর্ঘদিন এ ধরনের সমস্যা চললে তা বড় কারখানাগুলোতেও প্রভাব ফেলে। এখনো গ্যাসসংকটে বেশি মাত্রায় এলএনজি আমদানির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এলএনজি দিয়ে গ্যাসের সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে এবং নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

বন্ধ কারখানা : পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সূত্র জানায়, তাদের ৩২৮০টি কারখানার মধ্যে ৩০০টি গ্যাসসংকটসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, ধামরাই অঞ্চলের টেক্সটাইল কারখানায় প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে এখন সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদন হচ্ছে।

আর বিকেএমইএর সূত্র বলছে, তাদের সচল কারখানা ৭৫০টি। এর মধ্যে গত দুই বছরে ২২টি কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে  গেছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্র বলছে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়। এর মধ্যে ১২১টি স্পিনিং মিল। বাকিগুলো উইভিং, ডায়িং ও অন্যান্য টেক্সটাইল। গ্যাসের অভাবে পোশাক খাত ছাড়াও সিরামিক, টায়ার, ফুটওয়্যারসহ অন্য শিল্পগুলোও এখন ধুঁকছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি : বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইলে ২৩ বিলিয়ন ডলার আর অ্যাক্সেসরিজে ৬ বিলিয়ন ডলার, আরএমজিতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। গ্যাসসংকটের কারণে বর্তমানে মোট ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আছে। আবার গ্যাসসংকট বা গ্যাস সংযোগ না থাকায় দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীর ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ কোনো কাজে আসছে না।

৫৫০ কারখানার আবেদন ঝুলে আছে : জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, গ্যাস সংযোগ পেতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে জমা আছে ১ হাজার ৮০০টি আবেদনপত্র। এ আবেদনগুলোর মধ্যে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্য চার থেকে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় আছে দেশের ৫৫০-এর ওপর শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আছে স্টিল প্ল্যান্ট, তৈরি পোশাক কারখানা, সিমেন্ট কারখানা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল বলেন, গ্যাসসংকটের জন্য এরই মধ্যে কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বাকিগুলো ধুঁকছে। গ্যাসসংকট হলে রপ্তানি ব্যাহত হয়, দেরিতে পণ্য দেওয়া ও শর্ট শিপমেন্টের কারণে ব্যবসার ক্ষতি হয়। কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতাকে দেরিতে পণ্য দেওয়ার জন্য ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হয়। সব মিলিয়ে ব্যাংকের তালিকায় ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো তখন ঝুঁকিতে পড়ে। তার মতে, দিন দিন গ্যাসের অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

ধুঁকছে কারখানা : তিতাসের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে শিল্পের গ্রাহকদের যেখানে মাসে ৪ হাজার ৩৩০ এমএমসি গ্যাস সরবরাহ করা হতো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৭ এমএমসি। শিল্পমালিকরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, গ্যাসসংকটের কারণে কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, সাভার, আশুলিয়া, মির্জাপুর, ঘাটাইল এসব এলাকার পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু কারখানায় গ্যাসের চাপ মাত্র ৫ থেকে ৬ পিএসআই। এ ছাড়া নবীনগর ও মানিকগঞ্জ এলাকায় দিনের বেলায় এখন মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে। তারা জানান, ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কারখানা চালালেও ক্ষতি হয় না। কিন্তু যখন এর নিচে সরবরাহ নেমে যায় তখন থেকেই মালিকরা লাগাতার ক্ষতির মুখে পড়েন।

বাংলাদেশ সিরামিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম বলেন, সাভার, মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুরে থাকা টাইলস ও সিরাসিক কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই। এসব কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ বলা যায় শূন্য। গ্যাস ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাগুলো এখন ধুঁকছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাসের জন্য সরকারের ওপর চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও অনেক ছোট ছোট টাইলস কারখানা এরই মধ্যে সাময়িকভাবে এবং কিছু একেবারেই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

দিনের রান্না রাতে : গ্যাসসংকটে ভোগান্তি বেড়েছে আবাসিক গ্রাহকদেরও। দিনের বেলায় এখন গ্যাসের চাপ এতই কম থাকে যে তা দিয়ে রান্নার কাজ হয় না। রাতে চাপ কিছুটা বাড়লে গ্রাহকরা দিনের রান্না রাতেই সেরে রাখেন। মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার গৃহিণী জিনিয়া কবির বলেন, আমি এখন রাতেই পরের দিনের রান্না করে রাখি। কারণ দিনে গ্যাস থাকে না।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের বাসায় গত পাঁচ দিন ধরে গ্যাস নেই। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন তার প্রিপেইড কার্ডের ব্যালান্স শেষ। কিন্তু পরে জানতে পারেন আশপাশের অন্য বাড়িতেও গ্যাস নেই। নিরুপায় হয়ে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনেন। এর সঙ্গে বিশেষায়িত হাঁড়িপাতিলও কিনতে হয়। আমিনুল বলেন, গ্যাসের মাসিক বিলের সঙ্গে বৈদ্যুতিক চুলার বাড়তি খরচ আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় একলাফে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, পল্লবী, শেওড়াপাড়া, শনিরআখড়া, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, বাসাবো, সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চরম গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গত কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত গ্যাসের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। যার ফলে বছরজুড়ে গ্রাহকদের গ্যাসসংকটে ভুগতে হচ্ছে।

স্টেশনে তিন গুণ বেশি সময় অপেক্ষা : সিএনজিচালক রহিম মিয়া গতকাল ঢাকার প্রগতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের বাইরে গ্যাসের লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তিনি জানান, গ্যাসের চাপ দিন দিন কমছে। এক বছর আগেও যেখানে ৩০ মিনিটে কাক্সিক্ষত গ্যাস নিতে পারতেন এখন এর চেয়ে কম পরিমাণ গ্যাস নেন তিন গুণ বেশি সময়ে। মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সিরামিক ওয়ার্কস সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে গেলে এই স্টেশনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িচালকরা তাদের চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও এখন নিতে পারছেন না। এ স্টেশনের গ্যাস সরবরাহকারীরা জানান, দিনে গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। কখনো এটি ৯০-তে চলে যায়। এরপর গ্যাস দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। যে চালক আগে ৬০০ টাকার গ্যাস নিতেন তাকে এখন ২০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, ‘ঢাকার বাইরে গাজীপুরে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস না থাকায় সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় আমাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুতের খরচ দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের ব্যবসা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অনেক স্থানে গ্যাসের অভাবে সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন।’

রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গ্যাসসংকটের কারণে গ্যাসের লাইন মাইল ছাড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে একজন গাড়িচালক কাক্সিক্ষত গ্যাস পাচ্ছেন না। আগে দিনে একবার যে পরিমাণ গ্যাসে চলে যেত এখন গ্যাস কম পাওয়ায় দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত একজন চালককে গ্যাস নিতে হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। রাতের দিকে চাপ সামান্য বৃদ্ধি পায়।

রাজধানীর প্রগতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. মহসীন বলেন, ‘গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের এই সংকট দেখছি। আগে ৫০০ টাকার গ্যাস নিলে পুরো দিন আর গ্যাস নিতে হতো না। কিন্তু গ্যাসের চাপ এখন কম থাকায় মাত্র ১২০ থেকে ১৫০ টাকার গ্যাস নিতে পারছি। এজন্য প্রতিদিনই দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুই থেকে তিনবার গ্যাস নিতে হচ্ছে। এতে সময় ও শক্তি দুই অপচয় হচ্ছে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

গার্মেন্টসে ঈদের ছুটি ৩ দিনই | কালের কণ্ঠ