• ই-পেপার

ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ছয়

বাড়ছে রিক্রুটিং এজেন্সি, বাড়ছে অভিযোগও

অনলাইন ডেস্ক
বাড়ছে রিক্রুটিং এজেন্সি, বাড়ছে অভিযোগও

এ বছর নতুন ২১৬টি রিক্রুটিং এজেন্সি নিবন্ধন পেয়েছে। এ নিয়ে আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সরকারি সংখ্যা। সরকারি নিবন্ধন নিয়েও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা বিক্রি ও প্রতারণার নানা অভিযোগ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এখন টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশে রিক্রুটিং এজেন্সি ২ হাজার ৮৪১টি। এরমধ্যে সক্রিয় ২ হাজার ১৭৫টি ও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২৯৭টির। ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকে তুলনামূলক বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশে। 

রাজধানী জুড়ে এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও অর্ধেকেরও কম প্রতিষ্ঠান সরাসরি শ্রম অভিবাসনে ভূমিকা রাখছে। অভিযোগ আছে, অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স বাড়ার কারণে বেড়েছে ভিসা বিক্রি ও প্রতারণা।

লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে বায়রার সদস্য প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্তির প্রতিযোগিতা থাকলেও অধিকাংশ এজেন্সি কাজ করে মূলত সাব এজেন্টের।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, দেড় থেকে ২০০ রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদি আরবে সরাসরি রিক্রুটমেন্টের সাথে জড়িত। এখন আমাদের লাইসেন্স সংখ্যা বাড়ার কারণে সেটি হয়তো ৩০০ এর মধ্যে গিয়ে পড়বে। বায়রারকে আমরা একটা পরিবার বলে থাকি। বায়রার কোনো একজন লোকের কাছে যদি ডিমান্ড আসে, সেই ডিমান্ডের মানে পরিবারের সদস্য হিসেবে ডিমান্ডের হক সবারই থাকে। এজন্য সবাই সবাইকে সহায়তা করে, আমরা বিষয়টাকে ওভাবেই দেখি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, যদি সরকার টাফ থাকে এবং তারা যদি চেক করে যে এই রিক্রুটিং লাইসেন্সের নামে কোনো কমপ্লেইন নাই, বা এক বছরে সে ১০০ লোক মিনিমাম পাঠিয়েছে, তাদের লাইসেন্সগুলি রিনিউ করা উচিত। এবং যেগুলি তারা লোক পাঠায় নাই, এগুলি ক্লোজ করে দিলেই আপনে অটোমেটিক আপনের লাইসেন্স এগুলি কমে আসবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সমন্বয়হীনতার কারণেই এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতারণার এড়াতে কাজের মূল্যায়নের পাশাপাশি যত্রতত্র লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করতে হবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘এতগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি হওয়ার কারণে, সেটা অনলাইন হোক আর অফলাইন হোক, সেগুলো মনিটর করা কিন্তু সরকারের পক্ষে কঠিন। যেটা ইমিডিয়েটলি করা দরকার—যে এক ধরনের একটা মূল্যায়ন করা দরকার, যে এতগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি আসলেই তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে কিনা। যারা খুবই তাদের পারফরম্যান্স খারাপ, তাদেরকে একটা আলাদা তালিকায় ফেলে রাখা যেতে পারে। যে এদেরকে খুব বেশি অনুমোদন দেওয়া যাবে না বা এদের ব্যাপারে আসলেই খুব নজরদারি বেশি রাখতে হবে। আর যারা ভালো কাজ করছে, তাদের সাথে হয়তো আরও নিয়মিতভাবে কাজ করা যায়।’

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘যদি আমরা এরকম সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাই যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গিয়েছে কিন্তু সে কাজ পাচ্ছে না, তাহলে অভিযোগ পাইলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। নিরাপদ শ্রম অভিবাসন ও কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা দিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও নজরদারির আৱওতায় আনতে হবে।’

প্রবাসী কার্ডে মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
প্রবাসী কার্ডে মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

আগস্টে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড। প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট এবং গ্রিট সেবা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়, দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীসেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে লাশ দেশে পরিবহনের সুবিধা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রেরণ ও সহজ লেনদেনের সুবিধা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সেবায় অগ্রাধিকার থাকবে।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

১০০ ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪০০ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

অনলাইন ডেস্ক
১০০ ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪০০ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

১০০ নতুন ইলেকট্রিক বাস কেনার জন্য ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইকুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) অর্থ সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

সমকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, বিআরটিসি পক্ষ থেকে এ ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলে সরকারের ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় অর্থ বিভাগ সরাসরি অনুদান না দিয়ে একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। অর্থ বিভাগের যুক্তি ছিল, ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। 

বিআরটিসি পুনরায় অনুদানের দাবি জানিয়ে যুক্তি দিয়েছে যে বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সম্ভব নয়। জনস্বার্থে পরিচালিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধের চাপ প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি ‘অনুদান’ বা ‘ইকুইটি’ হিসেবে দেওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে বিটিআরসি।

চিঠিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সমন্বিত, দক্ষ ও ‘সবুজ পরিবহন করিডোর’ নির্মাণের লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন এখন সময়ের দাবি। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ইলেকট্রিক বাস আমদানিসহ আনুষঙ্গিক খাতের সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা ১০০টি বাসের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হিসেবে মোট ২৪০ কোটি টাকা। বাসের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি স্টেশন নির্মাণে খরচ হবে দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া যন্ত্রাংশের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য ২০ কোটি টাকা, বাসের পরিবহন ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং বিআরটিসির ডিপোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে,  বৈদ্যুতিক বাসগুলো মূলত ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে চলাচল করবে। ঢাকার তীব্র বায়ুদূষণ রোধে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিআরটিসির দাবি, প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার ব্যয় প্রচলিত ডিজেল বা সিএনজিচালিত বাসের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের মান আরো উন্নত হবে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান এবং ক্রয় আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সারাবিশ্বেই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ভর্তুকি বা অনুদান দিয়ে পরিচালনা করে থাকে। কারণ এখানে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফার চেয়ে সামাজিক কল্যাণ বেশি জড়িত।

অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, অনুদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জনগণের করের টাকার কোনো অপচয় না হয়। বাস কেনা থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিসিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে যে কোনো নতুন উদ্যোগ বা বাস কিনতে তাদের বারবার সরকারের কাছে অনুদান না নিতে হয়। 

রাজশাহী

পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড-এর মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রচলিত নিয়মে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশ আগে থেকে নির্বাচন অফিসে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ীভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। পরে ঘুসের বিনিময়ে তাদের একই কর্মস্থলে আউটসোর্সিং কর্মী দেখিয়ে নতুন চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়। এ নিয়োগে কোনও উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয় কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। বিশেষ পরিস্থিতিতে, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই সাধারণত এ পদ্ধতি ব্যবহার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে কী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি সংশ্লিষ্টদের কাছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদনেরই সুযোগ পাননি।

রুমা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি চলাকালে প্রথমে ৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪৩ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তালিকায় যুক্ত হন আরও ২৬ জন নিরাপত্তাপ্রহরী। এতে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩।

কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, রাজশাহী নির্বাচন অফিসের অস্থায়ী কর্মীদের বড় অংশের চুক্তির মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এর আগে ১৪ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি নির্দেশনা দেয়।

সেখানে বলা হয়, চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন করে সেবা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করতে হবে। এই নির্দেশনার পর ডিপিএম পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়া হয়।

তবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, চাকরি বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি গড়ে ৭৫ হাজার টাকা করে হিসাব করলে ১৪৩ জনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত একাধিক ব্যক্তি কেএসএফের নিয়োগ বাণিজ্যের কথা জানিয়েছেন। একজন বলেছেন, ‘চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি উল্টো কোপানির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চাকরি নিতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মী বলেন, ‘পুরো সিস্টেম ছিল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা না নিলেও কোম্পানির সঙ্গে তাদের যোগসাজশ ছিল বলে আমাদের ধারণা। কারণ যারা টাকা দেয়নি, তাদের অনেকের চাকরি হয়নি।’

১৪৩ জন আউটসোর্সিং তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রত্যাশীকে গত ৬ জুলাই নিয়োগপত্র নিতে ডাকা হয় কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের শ্যামলী কার্যালয়ে। সেখানে গেলে তাদের কাছে নিয়োগপত্রের বিনিময়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা অফিসের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আমরাও সেটিই করেছি। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড আমাদের তিনটি অঞ্চলে কাজ করছে। সবকিছু বিবেচনা করে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের আগের টেন্ডারের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পুনরায় ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেত। এতে করে নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় এবং কর্মরত শ্রমিকদের কয়েক মাস বেতনহীন থাকার আশঙ্কা ছিল। তাই অফিসের গতিশীলতা বজায় বাখতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ বক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। এখানে আমাদের হাতে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন জনবল চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।’

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা আমরা তৈরি করিনি। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান স্যার ৩০ জুন আমাদের একটি তালিকা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু কোনও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং পুরোনো কর্মীরাই তাদের পদে বহাল আছেন, তাই টাকা নেওয়ার সুযোগ বা কারণ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে ব্যক্তিগতভাবে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠানের নয়।’

ঢাকায় শ্যামলীতে কেএসএফের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, ‘একদিনে সব নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাদের পছন্দের ২০-৩০ জনকে ওই তালিকায় ঢোকানোর জন্য অনৈতিক চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না থাকার পক্ষটি হট্টগোল তৈরি করে।’

নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকা, ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘এটি ইতিবাচকভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ছয় | কালের কণ্ঠ