• ই-পেপার

বন্যার পানিতে তিন ঘণ্টা সাঁতরে বাবা-মায়ের খোঁজে যুবক

আট লাইনের চিঠিতে কী লিখলেন ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
আট লাইনের চিঠিতে কী লিখলেন ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে অনশনের ২২তম দিনে হাসপাতাল থেকেই নিজের হাতে চিঠি লিখলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির সংসদ ভবন অভিযানের যে কর্মসূচি রয়েছে, তা সফল করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই আন্দোলনকে তিনি ভারতের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকেই রবিবার (১৯ জুলাই) স্ত্রী গীতাঞ্জলির হাত দিয়ে নিজের লেখা আট লাইনের একটি চিঠি বাইরে পাঠান তিনি। চিঠিতে সোনম লিখেছেন, ‘২০শে জুলাই, দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন। ভয়মুক্ত ভারত, অন্যায়মুক্ত ভারত।’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তাকে বেআইনিভাবে হাসপাতালে আটকে রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, ‘পার্লামেন্টে চলুন। এই কর্মসূচিকে সফল করে তুলুন।’ পরে তার সমাজমাধ্যমেও এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।

গত ২৮ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন সোনম। তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, পুলিশ জোর করে হাসপাতালে নিয়ে আসলেও সোনমের অনশন ভাঙানো যায়নি। তিনি কোনো খাবার বা ওষুধ নিচ্ছেন না, কেবল লবণ-পানি পান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শরীর দুর্বল হলেও মানসিক জোর শক্ত রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সোনমকে বেআইনিভাবে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে সোনমের জায়গায় নতুন করে অনশন শুরু করেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। সোমবারের সংসদ ভবন অভিযানের প্রস্তুতি চললেও দিল্লি পুলিশ এখনও এর অনুমতি দেয়নি।

ভারত

ব্যাগভর্তি পিস্তল-গুলি-টাকা, কে এই ‘রিভলবার লেডি’?

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাগভর্তি পিস্তল-গুলি-টাকা, কে এই ‘রিভলবার লেডি’?
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগরে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজসহ এক নারী পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে অশোকনগর থানার পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। আটককৃত নারীর নাম পূজা বিশ্বাস।

পরনে সাধারণ সালোয়ার-কামিজ ও মাথায় ওড়না জড়ানো ওই নারীর ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৬টি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল (যার মধ্যে ৪টি ৭ এমএম এবং ২টি ৯ এমএম পিস্তল), ১২টি ম্যাগাজিন, প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, নগদ ১২ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল ফোন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ও ছাপোষা চেহারার এই নারী মূলত একটি বড় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্রের ক্যারিয়ার বা বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তিনি হাবরা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে রবিবার সকালে নৈহাটি-অশোকনগর রোডের ৮ নম্বর মোড় এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন পেতে ছিলেন সিআইডি ও অশোকনগর থানার কর্মকর্তারা। নৈহাটি দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী গাড়ি সেখানে পৌঁছালে সেটিকে থামানো হয়। গাড়ি থেকে নামার পরপরই পূজা বিশ্বাস নামের ওই নারীকে আটক করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের চালানের পেছনে একটি বড় আন্তঃরাজ্য চক্রের হাত রয়েছে। পূজার ব্যাগ থেকে বিহারের জামালপুরের একটি ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। এর সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই অস্ত্রগুলো বিহারের কুখ্যাত মুঙ্গের জেলা থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল। এই অস্ত্রগুলো ঠিক কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল এবং এই চক্রের মূল হোতা কারা, তা জানতে নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিআইডি। এদিকে রবিবার সকালে ব্যস্ত রাস্তায় এমন নাটকীয় অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে নারী বিদ্বেষী দুই ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণের অভিযোগে নারী বিদ্বেষী দুই ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার
ছবি : রয়টার্স

ধারাবাহিক ধর্ষণের অভিযোগে বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রত্যপর্ণের অনুরোধে মার্কিন মার্শালরা শনিবার (১৮ জুলাই) ফ্লোরিডার মায়ামি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের মুখপাত্র ব্র্যাডি ম্যাককারন জানান, একটি সিলমোহর করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই দুই ভাইকে মায়ামির ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানব পাচার, যৌন নিপীড়ন ও শিশুদের অশ্লীল ছবি রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে। বড় ভাই অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে ৪২টি অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। আর ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১৭টি। তাদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭ জন নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে লন্ডনের উত্তরে ইস্ট অফ ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ার এবং হার্টফোর্ডশায়ার এলাকায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটেছে।

বেডফোর্ডশায়ারের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল কারেনা থমাস বলেছেন, ’আমাদের মেজর ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা এই জটিল তদন্তের অংশ হিসেবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘নারী ও মেয়েদের ওপর পুরুষদের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা ভুক্তভোগীদের সহায়তা করতে এবং আমাদের কাছে আসা সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাব।’

জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান মায়ের সূত্রে যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। মায়ের সাথে যুক্তরাজ্যেই তাদের বেড়ে ওঠা। বড় ভাই অ্যান্ড্রুর ভানুয়াতুর পাসপোর্টও রয়েছে। ২০১৬ সালে দুই ভাই বিলাসবহুল ভিলা কিনে রোমানিয়ায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু রোমানিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নারী পাচার এবং তাদের যৌন শোষণের অভিযোগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রোমানিয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোমানিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তারা আরেকটি অপরাধের তদন্তের মুখোমুখি হন। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার ‘অফিস অফ স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন’-এর নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্ত করছে।

টেট ভাইয়েরা শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফলোয়ার রয়েছে। বিশেষ করে অল্পবয়সী তরুণদের মধ্যে তারা খুবই জনপ্রিয়। অনলাইনে দামি গাড়ি, টাকা-পয়সা ও বিলাসবহুল লাইফস্টাইল দেখিয়ে তারা তরুণদের আকৃষ্ট করেন। তবে উগ্র নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে দুই ভাই বিশেষ করে অ্যান্ড্রু চরম বিতর্কিত। অ্যান্ড্রু টেট নিজেকে একজন স্বঘোষিত নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দেন। নারীদের কুকুরের সাথে তুলনা করা, ধর্ষণের শিকার নারীদেরই দোষারোপ করা এবং নারীদের পুরুষের সম্পত্তি মনে করার মতো অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন। অ্যান্ড্রু পুরুষদের চরম আধিপত্যবাদী এবং নারীদের বশ্যতা স্বীকার করার সংস্কৃতি প্রচার করেন। সমাজে ঘৃণা ও বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র ছড়ানোর অভিযোগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সমাজকর্মীরা তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তীব্র ঘৃণা ছড়ানোর কারণে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক ও স্পটিফাইয়ের মতো বড় বড় প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন সময়ে টেট ভাইদের নিষিদ্ধ বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী, গ্রেপ্তার করতে চান মামদানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী, গ্রেপ্তার করতে চান মামদানি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসবে অভিহিত করেছেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে এলে মামদানি তাকে গ্রেপ্তার করতে চান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম সম্মেলন শুরু হবে। অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নেতানিয়াহুরও যেখানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা হেগ-এ (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত)। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যা করেছেন, শুধুমাত্র সে কারণেই বহু মানুষ এই একই মতামত পোষণ করেন।’

মামদানি এর আগে মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তিনি জানান যে, কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এই বিষয়ে তিনি সিটির আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।

মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটিতে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা ঠিক সেটাই করব।’

মামদানির এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্বে মনোনিবেশ করা এবং তার সিটিতে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষের ঠেকানোর বদলে, তিনি ইসরায়েলকে আক্রমণ করে শত্রুতা উস্কে দিতে এবং হেডলাইন তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছেন।’

ড্যানন আরো যোগ করেন, ‘এতে কোনো কিছুই পরিবর্তন হবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং ইসরায়েলের নাগরিকদের রক্ষা করার অবিচল অধিকারের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন।’

ড্যানন বলেন, ‘যদি কাউকে গ্রেপ্তার করতেই হয়, তবে তিনি হলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।’

সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি রেডিও শো’তে নেতানিয়াহু নিজেও মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, ‘আমি মনে করি, গোপনে তিনি (মামদানি) আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।’