শুধু গালাগাল, অশালীন বা কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনের দৃষ্টিতে অশ্লীলতা হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ এক মামলার শুনানিতে এ আদেশ দেন। খবর এনডিটিভি
আদালত বলেন, কোনো বক্তব্যকে অশ্লীল হিসেবে বিবেচনা করতে হলে সেটি অবশ্যই যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে, কুরুচিপূর্ণ আগ্রহ উসকে দেয় এবং তা মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটানোর প্রবণতা রাখে—এমনটি প্রমাণ করতে হবে।
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, শুধু গালাগাল, কটু ভাষা বা অশালীন শব্দ ব্যবহার যতই আপত্তিকর বা অভদ্র হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ (খ) ধারার আওতায় অশ্লীলতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
আদালত আরো বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ২৯৪(খ) ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য জনসমক্ষে এমন আচরণে অন্যদের বিরক্তি বা উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে— এটিও প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আলোচিত মামলায় এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বেঞ্চের ভাষ্য, অভিযোগকারীসহ অন্য কেউ জনসমক্ষে এসব শব্দ ব্যবহারে বিরক্ত হয়েছেন—এমন দাবি বা প্রমাণ নেই। ফলে আইপিসির ২৯৪(খ) ধারায় অপরাধের উপাদান এখানে পূরণ হয়নি।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্টে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। প্রথমে আবেদনকারী ও তার ভগ্নিপতির মধ্যে বিরোধ হয়। দুই দিন পর একই জমি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাতিজার সঙ্গে আবারও বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান আবেদনকারী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে গেলে আবেদনকারী তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন।
এর আগে ট্রায়াল কোর্ট আবেদনকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) (অশ্লীল আচরণ), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) এবং ৫০৬(২) (ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারাসহ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন।




