ডেটিং বা প্রেমের সম্পর্কে শুরুতেই অনেকেই নিজেকে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিজের দুর্বলতা, অদ্ভুত অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু এখন জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন একটি ডেটিং ট্রেন্ড ‘গবলিনটিমেসি’। এই ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—অভিনয় নয়, নিজের বাস্তব রূপ নিয়েই সম্পর্ক শুরু করা।
সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এই ধারণা মানুষকে শুরু থেকেই নিজের ভালো-মন্দ, অভ্যাস, অপূর্ণতা এবং ব্যক্তিত্বের বাস্তব দিকগুলো সৎভাবে তুলে ধরতে উৎসাহ দেয়। এতে নিজেকে অন্য কারো মতো দেখানোর চাপ কমে। একই সঙ্গে সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে, কারণ শুরু থেকেই দুজন মানুষ একে অপরকে বাস্তবভাবে চিনতে পারেন।
মনোবিজ্ঞানী রাশি গুরনানি বলেন, সম্পর্কে সৎ থাকলে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চাপ কমে যায়। এতে মানসিক স্বস্তি বাড়ে এবং সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের অনুভূতি তৈরি হয়। পাশাপাশি দুজন মানুষ একে অপরের সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিও শুরুতেই অনেকটা বোঝা যায়।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ থাকা আর সব ব্যক্তিগত বিষয় একসঙ্গে বলে ফেলা এক নয়। পরিচয়ের শুরুতেই নিজের সব কষ্ট, অতীতের অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিশ্বাস তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে সত্যবাদিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা—এই তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ ও জীবনধারা সম্পর্কে সৎ থাকুন। তবে অপর পক্ষের ব্যক্তিগত পরিসরকেও সম্মান করুন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে অনেকেই নিজেদের জীবনকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে বাস্তব জীবনের সঙ্গে অনলাইনের ছবির মিল না থাকলে সম্পর্কে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই এখন অনেকেই এমন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে ভান নয়, বাস্তব মানুষটিকেই গ্রহণ করা হয়।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—
সব সময় ‘পারফেক্ট’ দেখানোর মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া।
শুরুতেই দুজনের মানসিক ও ব্যক্তিত্বগত মিল বোঝা সহজ হওয়া।
সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় অভিনয় বা লুকোছাপা কমে যাওয়া।
দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নিজের মতো থাকা মানে সবকিছু একদিনেই প্রকাশ করে দেওয়া নয়। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সময়, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর। তাই নিজের আসল রূপ দেখানোর পাশাপাশি ধৈর্য ও ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।







