• ই-পেপার

নোয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত

‘মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, সমগ্র দেশের গর্ব’

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
‘মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, সমগ্র দেশের গর্ব’
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রাখা একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর সম্পদ নন, তিনি পুরো দেশের গর্ব—এমন মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

শিল্পীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি সমগ্র দেশের গর্ব। তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। এমন একজন ক্ষণজন্মা গুণী শিল্পীর জন্ম রাজবাড়ীতে হওয়ায় এ জেলার মানুষ গর্বিত।

তিনি আরো বলেন, মুনসুর উল করিম বেঁচে থাকলে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হতো। তার সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুনসুর উল করিমকে ঘিরে রাজবাড়ীবাসীর গর্বের শেষ নেই। তার জন্মবার্ষিকীতে শিল্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি রাজবাড়ীকে দেশের অন্যতম সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, কবি সালাম তাছির, সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, আজিজা খানমসহ জেলার বরেণ্য শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লালন স্মৃতি সংসদের সদস্য এবং সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা মুনসুর উল করিমের শিল্পকর্ম, কর্মজীবন এবং দেশের শিল্পাঙ্গনে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, তার সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পদর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তার শিল্পকর্ম সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

পরে শিল্পীকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শেষে জন্মবার্ষিকীর কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মাধবদীতে ডাকাতদলের হামলায় নিহত ১

নরসিংদী প্রতিনিধি
মাধবদীতে ডাকাতদলের হামলায় নিহত ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর মাধবদীতে ডাকাতদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোহাম্মদ শাহজাহান (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার চাচা সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামের মনির হোসেন ও মিলনের বাড়িতে এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে ৬ জনের অজ্ঞাতনামা একদল সশস্ত্র ডাকাতদল বলভদ্রদী গ্রামের মনির হোসেন ও মিলনের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে মূল্যবান মালামাল, গয়না ও টাকা-পয়সা লুটপাটের চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজন তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাতদল ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বলভদ্রদী গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার চাচা সুরুজ মিয়া তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ডাকাতরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাধবদী থানার এসআই বারেক হাওলাদারকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সুরুজ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।’

তিনি আরো জানান, নিহত শাহজাহানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন—বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)।

ঘটনার রাতেই স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশের অভিযানে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে উপজেলার কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার

কোনোভাবেই পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না

দিনাজপুর প্রতিনিধি
কোনোভাবেই পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না
সংগৃহীত ছবি

কোনভাবেই পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিনাজপুর সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান। তিনি বলেছেন, সীমান্তে পুশইন সমস্যাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের পুশ ইনের এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়গ্রাম সীমান্তে বড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজিবি আয়োজিত এক ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজিবির ব্যবস্থাপনায় এই মানবিক চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সামগ্রী প্রদানের মত সীমান্ত এলাকায় হতদরিদ্র বেকার যুব শক্তিকে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে তোলার মত কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিজিবি।

২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পটি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ওই এলাকার ৬০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ্জামান,দিনাজপুর সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত এসএমও ক্যাপ্টেন এস এম মাহদী জামান,  সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্যা-আল-মামুন প্রমুখ।