• ই-পেপার

অপহরণের ১৪ দিন পর মুক্ত দুই জেলে, গুনতে হয়েছে ৫ লাখ টাকা

রাখাইন থেকে টেকনাফ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, উখিয়া ক্যাম্পে আশ্রয় নিল ৫ রোহিঙ্গা

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
রাখাইন থেকে টেকনাফ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, উখিয়া ক্যাম্পে আশ্রয় নিল ৫ রোহিঙ্গা
ছবি: কালের কণ্ঠ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ দেশটির বুথিডং টাউনশিপ এলাকা থেকে টেকনাফ সীমান্ত অতিক্রম করে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে মিয়ানমারের বুথিডং এলাকা থেকে ওই পরিবারটি টেকনাফের একটি দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে স্থানীয় একটি দালাল চক্রের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তারা কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২০ (এক্সটেনশন)-এ পৌঁছায়।

সূত্র জানায়, রাত প্রায় ৯টার দিকে পরিবারটি ক্যাম্পে প্রবেশ করে। বর্তমানে তারা ক্যাম্পের এস-১বি-৪ ব্লকে থাকা এক স্বজনের বাসায় গোপনে অবস্থান করছে।

অনুপ্রবেশকারী পরিবারটিতে রয়েছেন একজন পুরুষ, একজন নারী, একজন কিশোরী ও দুই শিশু। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্যাম্প-২০ এক্সটেনশনের ক্যাম্প ইনচার্জ হোসেন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনা সত্য হলে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
মৃত নেজাম উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নেজাম উদ্দিন (৪৫) ওই গ্রামের মৃত আবদুল হামিদের ছেলে। তিনি শাকপুরার লালারহাট এলাকায় একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার বিকেলে জমিজমা নিয়ে নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে তার ছোট ভাই মো. সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন মাথায় আঘাত করলে নেজাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন পালিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিমুল দত্ত বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নেজাম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শাকপুরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনছুরুল হক বলেন, নেজাম উদ্দিন আমার ভাতিজির স্বামী। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। নেজাম নিজ বাড়িতে না থেকে রাতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি আরো বলেন, নেজাম জানতে পারেন, বাড়িতে তার ভাইয়েরা কাজ করছেন। বিষয়টি দেখতে গেলে সেখানে বিরোধের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল এবং তাকে বাড়িতে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, মধ্যম শাকপুরা এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভাই অপর ভাইকে মাথায় আঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কাজ অব্যাহত আছে।
 

উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ : সিডিএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ : সিডিএ চেয়ারম্যান
ছবি : কালের কণ্ঠ

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৮ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। এর আওতায় প্রকল্প এলাকায় ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন একটি নারিকেল ও একটি তালগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্প এলাকায় আরও ১৪ হাজার গাছ লাগানো হবে। এছাড়া ২৮ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অবশিষ্ট গাছগুলো পর্যায়ক্রমে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প ও এলাকায় রোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রামকে আরো সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি চারাকে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত করতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা করার নির্দেশনা দেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ নুরউল্লাহ নুরী (অতিরিক্ত সচিব), সদস্য ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে হত্যার দায়ে মো. আল আমিন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন (৪৪) কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার কারপাশা পুতিহারা এলাকার মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান এ রায় দেন বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ১২ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মো. আল আমিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার অপরাধে তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরের হালিশহর থানাধীন টোল রোড এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে মো. মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধের খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশু মাহফুজের বাবা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।