• ই-পেপার

যে দুই কারণে আটকে আছে পে স্কেল

জি-টু-জির আওতায় নির্মিত হবে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জি-টু-জির আওতায় নির্মিত হবে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি)-এর আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন করবে সরকার।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালীতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে ‘চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ (সিএনইই)-এর দাখিল করা প্রস্তাবটি জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

এছাড়া বৈঠকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন’ (বিপিসি) কর্তৃক আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে দরপত্র প্রস্তুত ও দাখিলের সময়সীমা ৪২ দিনের পরবর্তে কমিয়ে ২১ দিন নির্ধারণের একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : অনাস্থার মেঘ কেটে নতুন অধ্যায়ের আভাস

বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : অনাস্থার মেঘ কেটে নতুন অধ্যায়ের আভাস
সংগৃহীত ছবি

বাংলা বদ্বীপের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে যে কৃষকরা কাজ করেন, ধৈর্য তাদের পরম শিক্ষা। বীজ বোনার দিনেই তারা বুঝে যান আগামী দিনের ফসলের ভবিষ্যৎ। ক্ষেতজুড়ে আগাছা রেখে সোনারঙা ধানের প্রত্যাশা যেমন অমূলক, দুটি প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের সমীকরণও ঠিক তেমনই।

বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান আবার তেমনই এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরের টানাপোড়েন ও অনাস্থার বরফ গলিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্কের পথরেখা তৈরির সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সামনে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক রদবদল ও নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানো, ফোনালাপ এবং আসন্ন সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে নিছক ‘কূটনৈতিক প্রথা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পুরনো অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে আলোচনার টেবিল সাজানোর একটি সুস্পষ্ট বার্তা।

দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ যেন সরাসরি আলাপের চেয়ে ‘একে অপরকে নিয়ে’ মন্তব্য করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছে। ঢাকার রাজনৈতিক রূপান্তর, নয়াদিল্লির নিরাপত্তাকেন্দ্রিক উদ্বেগ এবং নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার সুযোগে কূটনীতির বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও গুজবের গতিই ছিল বেশি।

দুই দেশেরই রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু পক্ষ রয়েছে, যারা পুরনো ক্ষত তাজা রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পছন্দ করে। প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে এখানে ‘আত্মসমর্পণ’ বা প্রতিটি মতপার্থক্যকে ‘গোপন এজেন্ডা’ হিসেবে দেখার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তবে পত্রিকার মুখরোচক শিরোনামের খোরাক জোগালেও এই দৃষ্টিভঙ্গি যে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে না—তা আজ স্পষ্ট।

বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবে না—এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভাগ করে নেওয়া ভারতের ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাজনিত কিছু উদ্বেগ থাকা অস্বাভাবিক নয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল সংকটের শুরু তখনই হয়, যখন কোনো এক পক্ষ নিজের জাতীয় স্বার্থকে অন্য দেশের ওপর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার বলে মনে করে।

অথচ ইতিহাস, ভূগোল ও সংস্কৃতির দিক থেকে এ দুটি দেশের মধ্যকার সংযোগ অত্যন্ত গভীর। সীমানা তোয়াক্কা না করা নদ-নদী, যৌথ সাহিত্য, দেশভাগের স্মৃতিবাহী পরিবারগুলো এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—দুই দেশের সম্পর্কের মূল স্তম্ভ। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা ও সাধারণ মানুষের সংহতি ইতিহাসের এক চিরন্তন সত্য। তবে অতীতকে দীর্ঘমেয়াদি দেনা-পাওনার খাতা না বানিয়ে বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার আলো হিসেবে ব্যবহার করাই এখন সময়ের দাবি।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তীব্র সংঘাতের পরও বিশ্বমঞ্চে বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগ ইউরোপের অন্যতম বিপজ্জনক তিক্ততাকে আজ সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপ দিয়েছে। একইভাবে ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের তিক্ত অতীতকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের নতুন পথ তৈরি করেছে।

দক্ষিণ এশিয়াতেও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী যৌথ দূরদর্শিতার মাধ্যমে ইতিহাসের নতুন গতিপথ তৈরি করেছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত—অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক আস্থা।

অবশ্যই পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি সম্পর্কিত সংবেদনশীল ইস্যুগুলো রাতারাতি গায়েব হয়ে যাবে না। একটি পরিণত সম্পর্কের পরিচয় সমস্যার অনুপস্থিতিতে নয়, বরং সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা হচ্ছে—তার পরিপক্বতায়।

উগ্র বক্তব্য বা সাময়িক রাজনৈতিক আবেগের হাতে কূটনীতিকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি সমঝোতাকে ‘দেশ বিক্রি’ বা প্রতিটি আলাপকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখানোর মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

রাজনীতির চেয়ে ভূগোলের ধৈর্যই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। দুই দেশের সামনে এখন একে অপরকে ছাড় দেওয়ার নয়, বরং নিজ নিজ সার্বভৌম অবস্থান ধরে রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরবর্তী অধ্যায় লেখার সুযোগ এসেছে।

বাংলায় একটি পরিচিত প্রবাদ আছে—‘যেমন বুনবে, তেমনই কাটবে’। সম্পর্কের বীজ আজ মাটিতে পড়েছে, আগামী দিনে এর ফসল কেমন হবে—তা নির্ভর করছে আজ ঢাকা ও নয়াদিল্লি কিভাবে তা যত্ন করে লালন-পালন করবে তার ওপর।

বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রথম বৈঠক কমিটির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, এমপি; মো. হাসান রাজীব প্রধান, এমপি; জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি; মাহমুদা হাবীবা, এমপি; মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, এমপি; মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, এমপি এবং মো. আবুল হাসনাত, এমপি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং সদস্যদের পরিচিতি ও প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সদস্যরা চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের গুরুত্ব নিয়ে পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারি, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় সফর বিনিময় এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে অধিকতর বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে সার্বিক আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ ভবনে আগুন, তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবনে আগুন, তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনে অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।