• ই-পেপার

গাজীপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

‘শুনেছি আমার ভাইয়ের মরদেহ আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে’

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
‘শুনেছি আমার ভাইয়ের মরদেহ আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে’
রাজিক বেপারী। ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম বেপারীর ছেলে রাজিক বেপারী (৫২) একজন। মাত্র আড়াই মাস আগে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে একটি দোকানে কাজ নেন তিনি। 

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সময় দোকানের ভেতরে থাকা আবাসিক কক্ষে সাতজন ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি আগুনে পুড়ে মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র আড়াই মাস আগে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রাজিক বেপারী। সেখানে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নের নির্মম পরিণতি হলো অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত রাজিক বেপারীর বোন ফাতেমা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের তিনটি মেয়ে রয়েছে। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। সংসারের হাল ধরতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে আগুন লাগার খবর পাই। পরে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নেই।’

নিহতের ভাই সালাম বেপারী বলেন, ‘শুনেছি, আমার ভাইয়ের মরদেহ আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, অন্তত তার মরদেহ দেশে এনে আমাদের কাছে যেন হস্তান্তর করা হয়।’

রাজিক বেপারীর মৃত্যুর খবরে দক্ষিণ কালিন্দিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

খালার বাসা থেকে বেরিয়েই নিখোঁজ, পরদিন মিলল কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
খালার বাসা থেকে বেরিয়েই নিখোঁজ, পরদিন মিলল কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে তানজিলা (১৭) নামের এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের গদারবাগ গ্রীন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তানজিলা বাঘৈর রাজেন্দ্রপুর এলাকার মৃত হাবিব মিয়া ও নাছিমা বেগমের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, বালুর মাঠ এলাকায় এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে তানজিলা নিজ বাড়ি থেকে কালিন্দী এলাকায় খালার বাসায় যান। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে পৌঁছে খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গদারবাগ গ্রীন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মা নাছিমা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের মা নাছিমা বেগম বলেন, তার মেয়ে সোমবার সকালে কালিন্দীতে বোনের বাসায় গিয়েছিল। দুপুরে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর আর ফেরেনি। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি
‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, বিড়ালের আঁচড়ে আহত শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম জানিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানান তানভীর হাসান। চিকিৎসক হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের টিকা না থাকায় বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তানভীর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?’ জবাবে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’

তানভীর হাসান বলেন, ‘আমি আমার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসার আশায়। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু ‘ভাই’ বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে নম্বর চাইতেই তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল-বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য ব্যক্তিগত নম্বরের পরিবর্তে হাসপাতালের অফিশিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। তার মতে, উভয় পক্ষের ভুল-বোঝাবুঝির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন
সংগৃহীত ছবি

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগ প্রতিরোধ সক্ষম ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষ উপযোগী ৬৮১টি জাত এবং ৬৯২টি অন্যান্য উৎপাদন প্রযুক্তিসহ মোট এক হাজার ৩৭৩টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা এবং ফলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বারির কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিজ্ঞানীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারি’র মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। বারি’র গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ। তিনি জানান, গত ২০২৫-২০২৬ সালে যেসব গবেষণা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মূল্যায়ন এবং এসব অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ২০২৬-২০২৭ সালের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়েছে। প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই-বাছাই ও দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মসূচি গ্রহণ করাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনকে সামনে রেখে কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো যুগোপযোগী করতে সবাইকে একত্রে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিএডিসি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বারি’র বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।