• ই-পেপার

‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুরে এক নারী পোশাক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর তারা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে গাজীপুর মহানগরীর পালেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মিম আক্তার (২৮) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার মাজিয়াইল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। স্বামী আলম হোসেনের (৩০) সঙ্গে পালেরপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তার ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মিম আক্তার নিজে উপার্জন করে সংসার চালাতেন। তার স্বামী আলম হোসেন কোনো কাজ করত না। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে মিমের শাশুড়ি জাহানারা বেগম ভাড়া বাসায় এসে ওঠেন। ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে স্বামী-শাশুড়ি মিলে ধারালো দা দিয়ে মুখমণ্ডল, হাত, ঘাড় ও পেটে উপর্যুপরি কুপিয়ে মিমকে হত্যা করা হয়। এরপর শিশু ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান তারা। পাশের বাসার এক ভাড়াটে ডাকতে গিয়ে মিমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ জানান, হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা জব্দ করা হয়েছে। নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম ওরফে রানা বাদী হয়ে মিমের স্বামী ও শাশুড়িকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

খালার বাসা থেকে বেরিয়েই নিখোঁজ, পরদিন মিলল কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
খালার বাসা থেকে বেরিয়েই নিখোঁজ, পরদিন মিলল কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে তানজিলা (১৭) নামের এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের গদারবাগ গ্রীন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তানজিলা বাঘৈর রাজেন্দ্রপুর এলাকার মৃত হাবিব মিয়া ও নাছিমা বেগমের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, বালুর মাঠ এলাকায় এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে তানজিলা নিজ বাড়ি থেকে কালিন্দী এলাকায় খালার বাসায় যান। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে পৌঁছে খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গদারবাগ গ্রীন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মা নাছিমা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের মা নাছিমা বেগম বলেন, তার মেয়ে সোমবার সকালে কালিন্দীতে বোনের বাসায় গিয়েছিল। দুপুরে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর আর ফেরেনি। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন
সংগৃহীত ছবি

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগ প্রতিরোধ সক্ষম ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষ উপযোগী ৬৮১টি জাত এবং ৬৯২টি অন্যান্য উৎপাদন প্রযুক্তিসহ মোট এক হাজার ৩৭৩টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা এবং ফলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বারির কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিজ্ঞানীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারি’র মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। বারি’র গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ। তিনি জানান, গত ২০২৫-২০২৬ সালে যেসব গবেষণা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মূল্যায়ন এবং এসব অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ২০২৬-২০২৭ সালের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়েছে। প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই-বাছাই ও দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মসূচি গ্রহণ করাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনকে সামনে রেখে কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো যুগোপযোগী করতে সবাইকে একত্রে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিএডিসি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বারি’র বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা

সড়ক বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ, অবরুদ্ধ ৬০ পরিবার

কুমিল্লা (উত্তর) ও মুরাদনগর প্রতিনিধি
সড়ক বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ, অবরুদ্ধ ৬০ পরিবার
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের চৈনপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার তোলা। কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের চৈনপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা একটি গ্রামীণ সড়ক বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার বিরুদ্ধে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ গ্রামের অন্তত ৬০ পরিবার। 

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম আনিসুর রহমান। তিনি বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে দলীয় পদবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  

স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সড়কটি থেকে স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৬০টি পরিবারের তিন শতাধিক সদস্যসহ গ্রামের বাসিন্দারা  চলাফেরা করেন। এলাকার শিক্ষার্থীরাও এ সড়ক ব্যবহার করে। এ ছাড়া গ্রামের কৃষকরা মাঠের যাবতীয় ফসল বাড়িতে আনা-নেওয়া করেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান জোর করে দীর্ঘদিনের চলাচলের সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কেউ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে  না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমের অভিযোগ, জোর করে সড়কে ঘর তুলেছেন আনিসুর রহমান। তারা বাধা দিলেও তাতে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলে। কিন্তু চলে যাওয়ার পর পর তারা ফের কাজ শুরু করেন। এখন পুরো সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন অভিযুক্তরা। ফলে গ্রামের শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন লিটন ও ভুক্তভোগী শাহ জালাল কালের কণ্ঠকে বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও কৃষকরা ফসল নিতে মাঠে যেতে পারছে না। গ্রামের সড়ক জোর করে বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা আদালতে মামলা করি। পরে আনিসুর ও তার ভাই মাসুদ সরকার আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। সড়কটি গত ১৬ বছর ধরে গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে আসছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘এখানে কোনো রাস্তাই নেই। এটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। তারা (গ্রামের বাসিন্দারা) অবৈধভাবে চলাচল করতে না পেরে আমার নামে আদালতে মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।