• ই-পেপার

উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ : সিডিএ চেয়ারম্যান

চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন
মৃত নেজাম উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নেজাম উদ্দিন (৪৫) ওই গ্রামের মৃত আবদুল হামিদের ছেলে। তিনি শাকপুরার লালারহাট এলাকায় একটি মুদির দোকান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার বিকেলে জমিজমা নিয়ে নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে তার ছোট ভাই মো. সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন মাথায় আঘাত করলে নেজাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন পালিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিমুল দত্ত বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নেজাম উদ্দিনকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শাকপুরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনছুরুল হক বলেন, নেজাম উদ্দিন আমার ভাতিজির স্বামী। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। নেজাম নিজ বাড়িতে না থেকে রাতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি আরো বলেন, নেজাম জানতে পারেন, বাড়িতে তার ভাইয়েরা কাজ করছেন। বিষয়টি দেখতে গেলে সেখানে বিরোধের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল এবং তাকে বাড়িতে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, মধ্যম শাকপুরা এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভাই অপর ভাইকে মাথায় আঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কাজ অব্যাহত আছে।
 

চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে হত্যার দায়ে মো. আল আমিন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন (৪৪) কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার কারপাশা পুতিহারা এলাকার মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান এ রায় দেন বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ১২ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মো. আল আমিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার অপরাধে তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরের হালিশহর থানাধীন টোল রোড এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে মো. মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধের খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশু মাহফুজের বাবা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

চন্দনাইশ

বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কৃষি খাতে

এস এম মহিউদ্দিন, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দোহাজারীতে নষ্ট হওয়া একটি সবজিক্ষেত। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে সম্প্রতি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য ও সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের আট ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। 

উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বন্যায় কৃষি ও যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি ৮-৯ দিন ধরে জমে থাকায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। 

সকল ধরনের কৃষিক্ষেতের সবজি পচে গেছে। শতাধিক মাছের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৫৫টি প্রধান সড়কসহ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ছয়টি সেতু ও কালভার্ট  নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সড়কে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। 

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস জানান, এক হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৯৮০ হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭০ হেক্টরের পেঁপে, ৫০ হেক্টরের পান, ৪০ হেক্টরের আমন বীজতলা এবং ২০ হেক্টর জমির আদা, রসুন ও পিয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এবারের বন্যায় কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস। 

চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার এক হাজার ৬৫০টি পুকুরের প্রায় ৩৫০ হেক্টর মাছের প্রকল্প  পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। 

প্রাণিসম্পদ খাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার আট  ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার কয়ক শ গভীর ও অগভীর  নলকূপ ও শৌচাগার নষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকার ওপরে। 

চন্দনাইশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যায় আবাসন খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচাপাকা ও মাটির ঘর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে অন্তত ৩০০টি, টাকার মূল্যে যা ৩০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চরের সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০ কোটি টাকারও বেশি।

চন্দনাইশের অধিকাংশ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় পল্লী বিদ্যুতের ১২টি ট্রান্সফরমার, ২২টি খুঁটি ও ২৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে। 

জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্রণালয় এবং দুইটি পৌরসভার কাঁচা-পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার, যেখানে  ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি।

চন্দনাইশ উপজেলার সকল অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ের এ বন্যায় ৩ শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, চন্দনাইশে সাম্প্রতিক  বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। 

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

অনলাইন ডেস্ক
কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

কর্ণফুলী টানেলে রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত একটি টিউবে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে যান চলাচল সচল রাখা হবে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় ‘পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা’ অথবা ‘আনোয়ারা হতে পতেঙ্গা’ টিউবের যেকোনো একটিতে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, বিদ্যমান ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে টানেলের উভয় প্রান্তে যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।