• ই-পেপার

চট্টগ্রামে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ : সিডিএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ : সিডিএ চেয়ারম্যান
ছবি : কালের কণ্ঠ

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৮ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। এর আওতায় প্রকল্প এলাকায় ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন একটি নারিকেল ও একটি তালগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। বন বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্প এলাকায় আরও ১৪ হাজার গাছ লাগানো হবে। এছাড়া ২৮ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অবশিষ্ট গাছগুলো পর্যায়ক্রমে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্প ও এলাকায় রোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রামকে আরো সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি চারাকে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত করতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা করার নির্দেশনা দেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ নুরউল্লাহ নুরী (অতিরিক্ত সচিব), সদস্য ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সাত বছরের শিশু মাহফুজকে হত্যার দায়ে মো. আল আমিন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন (৪৪) কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার কারপাশা পুতিহারা এলাকার মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান এ রায় দেন বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ১২ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত মো. আল আমিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার অপরাধে তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরের হালিশহর থানাধীন টোল রোড এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে মো. মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধের খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশু মাহফুজের বাবা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

চন্দনাইশ

বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কৃষি খাতে

এস এম মহিউদ্দিন, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দোহাজারীতে নষ্ট হওয়া একটি সবজিক্ষেত। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে সম্প্রতি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য ও সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের আট ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। 

উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বন্যায় কৃষি ও যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি ৮-৯ দিন ধরে জমে থাকায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। 

সকল ধরনের কৃষিক্ষেতের সবজি পচে গেছে। শতাধিক মাছের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৫৫টি প্রধান সড়কসহ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ছয়টি সেতু ও কালভার্ট  নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সড়কে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। 

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস জানান, এক হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৯৮০ হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭০ হেক্টরের পেঁপে, ৫০ হেক্টরের পান, ৪০ হেক্টরের আমন বীজতলা এবং ২০ হেক্টর জমির আদা, রসুন ও পিয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এবারের বন্যায় কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস। 

চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার এক হাজার ৬৫০টি পুকুরের প্রায় ৩৫০ হেক্টর মাছের প্রকল্প  পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। 

প্রাণিসম্পদ খাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার আট  ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার কয়ক শ গভীর ও অগভীর  নলকূপ ও শৌচাগার নষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকার ওপরে। 

চন্দনাইশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যায় আবাসন খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচাপাকা ও মাটির ঘর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে অন্তত ৩০০টি, টাকার মূল্যে যা ৩০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চরের সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০ কোটি টাকারও বেশি।

চন্দনাইশের অধিকাংশ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় পল্লী বিদ্যুতের ১২টি ট্রান্সফরমার, ২২টি খুঁটি ও ২৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে। 

জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্রণালয় এবং দুইটি পৌরসভার কাঁচা-পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার, যেখানে  ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি।

চন্দনাইশ উপজেলার সকল অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ের এ বন্যায় ৩ শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, চন্দনাইশে সাম্প্রতিক  বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। 

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

অনলাইন ডেস্ক
কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

কর্ণফুলী টানেলে রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত একটি টিউবে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে যান চলাচল সচল রাখা হবে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় ‘পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা’ অথবা ‘আনোয়ারা হতে পতেঙ্গা’ টিউবের যেকোনো একটিতে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, বিদ্যমান ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে টানেলের উভয় প্রান্তে যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।