• ই-পেপার

বরিশাল সিটি করপোরেশনে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের অভি

স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত মরদেহ মিলল ঘরে

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত মরদেহ মিলল ঘরে
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একাকী ঘরে আবদুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক চার দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে নিজ ঘরেই তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া নগরপাড়া এলাকার নিজ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আবদুর রহমান ওই এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী ও তিন ছেলে দুবাইতে বসবাস করেন। গত জানুয়ারি মাসে মেজ ছেলের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারটির সব সদস্য দেশে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সবাই দুবাই ফিরে গেলেও মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজ বাপের বাড়িতে ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে দুবাই থেকে ছেলেরা ফোনে বাবাকে না পেয়ে বিষয়টি দোহাজারীতে থাকা তাদের ভাইয়ের স্ত্রীকে জানান।

সোমবার বিকেলে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখেন দরজার হুক ভেজানো অবস্থায় রয়েছে। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর আবদুর রহমানের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের ও পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রাইহান জানান, আবদুর রহমানের স্ত্রী সম্প্রতি দুবাইতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি নিজেও একসময় পরিবারের সঙ্গে প্রবাসে ছিলেন। 
প্রতিবেশীরা জানান, গত শুক্রবার তাকে শেষবারের মতো এলাকায় দেখা গিয়েছিল। সামাজিকভাবে কিছুটা একা থাকার কারণে তার অনুপস্থিতি কারো নজরে আসেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানা পুলিশের অনুমতি নিয়ে গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিম লাশটি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে।

চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাউসিয়া কমিটির উপজেলা মানবিক টিমের প্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশের সহায়তায় এশার নামাজের আগেই খাটের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. লিটন মিয়া জানান, খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গাউসিয়া কমিটির সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘পারিবারিক সূত্রমতে গত বৃহস্পতিবার ছেলেদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে ডুবে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে মো. ইমন (১০) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনামিয়া স্টেডিয়াম সংলগ্ন পারটেক্স পেপার মিলের সামনে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমন ঢাকার ডেমরা থানার বড় ভাঙ্গা (সারুলিয়া) এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মিলন মিয়া ও মমতাজ বেগমের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বাবা মিলন মিয়ার সঙ্গে সোনামিয়া স্টেডিয়াম এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে আসে ইমন। একপর্যায়ে কয়েকজন সমবয়সী শিশুর সঙ্গে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামে সে। গোসলের সময় হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায় ইমন।

বিষয়টি সঙ্গে থাকা শিশুরা তার বাবাকে জানালে স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন লিডার হারুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নদীতে গোসল বা পানিতে নামার সময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবোঝাই লরিতে আগুন

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবোঝাই লরিতে আগুন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ লোহা বোঝাই একটি লরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার সলিমপুর কালুশাহনগর এলাকায় রেলওয়ে ওভারব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এতে গাড়ির ইঞ্জিন, যন্ত্রাংশ ও স্ক্র্যাপ লোহার একটি অংশ পুড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে স্ক্র্যাপ লোহা নিয়ে একটি ড্রাম ট্রাক সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল মিলে যাচ্ছিল। পথে সলিমপুর কালুশাহনগর এলাকায় রেলওয়ে ওভারব্রিজের ওপর উঠলে হঠাৎ গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

আবুল খায়ের স্টিল মিলের ইনচার্জ ও এইচআর (অ্যাডমিন) মো. ইমরুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, বন্দর থেকে স্ক্র্যাপ লোহা নিয়ে কারখানায় আসার পথে গাড়িতে আগুন লাগে। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার সম্পদহানি হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিক আহমেদ মজুমদার বলেন, সন্ধ্যায় গাড়িটি ব্রিজের ওপর উঠলে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়নি।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. আরিফুল আলম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

যশোরে ধানের বস্তার ভেতর থেকে ওয়ান শ্যুটার গান উদ্ধার

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে ধানের বস্তার ভেতর থেকে ওয়ান শ্যুটার গান উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় একটি বাড়ির সিঁড়িঘরে ধানের বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখা একটি ওয়ান শ্যুটার গান উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া গ্রামের মিজান গাজীর বাড়ি থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

মিজান গাজী ওই গ্রামের মজিদ গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ মিজান গাজীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় একতলা বাড়ির সিঁড়িঘরে রাখা ধানের বস্তার মধ্যে লুকানো অবস্থায় একটি ওয়ান শ্যুটার গান পাওয়া যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিজান গাজী পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘মিজান গাজীর বাড়ির সিঁড়িঘর থেকে একটি ওয়ান শ্যুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।’