কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মতিন বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন এ ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বাতিসা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মতিনের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আমিনুল হক তুহিনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে আমিনুল হক তুহিনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল আব্দুল মতিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা আব্দুল মতিনের ভাই আব্দুল মমিন সুজনের তিনটি ঘরের টিনের চাল, বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এসময় আব্দুল মতিন, আব্দুল মজিদ সুজন ও আব্দুল মমিন সুজন তাদের বাধা দিলে তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়াও তাদের পরিবারের নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি করা হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মতিন বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই চৌদ্দগ্রাম থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা পাশের আরো দুটি ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
প্রবাসী আব্দুল মতিন বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




