কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হওয়া দুই জেলে ১৪ দিন পর দেশে ফিরেছেন। তাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রেখে দিনের পর দিন শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ফিরে আসা দুই জেলে হলেন- টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া ডেইলপাড়া এলাকার আব্দুর রহমান (৪২) ও ফরিদুল আলম (৫৪)।
পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই নাফ নদীতে মাছ শিকার শেষে ফেরার সময় পালংখালী খাল ও উলুবনিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদের নৌকা থামিয়ে জিম্মি করে। পরে হাত-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের মাছ, জাল ও নৌকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আব্দুর রহমান জানান, চোখ বেঁধে একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই তাদের মারধর করা হয়। শুরুতে অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেয়।
ফরিদুল আলম বলেন, বন্দিদশায় পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি। পালাক্রমে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা নৌকায় করে তাদের নাফ নদীর শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশে এনে ফেলে রেখে যায়। তখনও তাদের হাত বাঁধা ছিল। একজনের হাত খুলে দিয়ে সন্ত্রাসীরা মিয়ানমারের দিকে চলে গেলে কিছুক্ষণ পর বিজিবির টহলদল এসে তাদের উদ্ধার করে।
আব্দুর রহমানের ছোট ভাই আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চার রাস্তার মোড়ে বোরকা পরা এক নারীর মাধ্যমে নগদ ৫ লাখ টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর দুই জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের হ্নীলা ও মৌলভীবাজার সীমান্ত পয়েন্টের শূন্যরেখা এলাকা থেকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর টহলদল দুই জেলেকে উদ্ধার করে। পরিচয় নিশ্চিত ও প্রাথমিক যাচাই শেষে তাদের টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের বাংলাদেশ অংশ থেকে দুই নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্তে অপহরণ, চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিজিবির মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া দুই জেলেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা দীর্ঘদিনের। তারা সীমান্তে আরো কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং জেলেদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।






