• ই-পেপার

চট্টগ্রামে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

চন্দনাইশ

বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কৃষি খাতে

এস এম মহিউদ্দিন, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
বন্যায় বিভিন্ন খাতে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দোহাজারীতে নষ্ট হওয়া একটি সবজিক্ষেত। সম্প্রতি তোলা। ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে সম্প্রতি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য ও সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের আট ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। 

উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বন্যায় কৃষি ও যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি ৮-৯ দিন ধরে জমে থাকায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। 

সকল ধরনের কৃষিক্ষেতের সবজি পচে গেছে। শতাধিক মাছের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৫৫টি প্রধান সড়কসহ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ছয়টি সেতু ও কালভার্ট  নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সড়কে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। 

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস জানান, এক হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৯৮০ হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭০ হেক্টরের পেঁপে, ৫০ হেক্টরের পান, ৪০ হেক্টরের আমন বীজতলা এবং ২০ হেক্টর জমির আদা, রসুন ও পিয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

এবারের বন্যায় কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস। 

চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার এক হাজার ৬৫০টি পুকুরের প্রায় ৩৫০ হেক্টর মাছের প্রকল্প  পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। 

প্রাণিসম্পদ খাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার আট  ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার কয়ক শ গভীর ও অগভীর  নলকূপ ও শৌচাগার নষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকার ওপরে। 

চন্দনাইশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যায় আবাসন খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচাপাকা ও মাটির ঘর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে অন্তত ৩০০টি, টাকার মূল্যে যা ৩০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চরের সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০ কোটি টাকারও বেশি।

চন্দনাইশের অধিকাংশ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় পল্লী বিদ্যুতের ১২টি ট্রান্সফরমার, ২২টি খুঁটি ও ২৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে। 

জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্রণালয় এবং দুইটি পৌরসভার কাঁচা-পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার, যেখানে  ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি।

চন্দনাইশ উপজেলার সকল অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ের এ বন্যায় ৩ শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, চন্দনাইশে সাম্প্রতিক  বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। 

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

অনলাইন ডেস্ক
কর্ণফুলী টানেলে চার রাত আংশিক নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল

কর্ণফুলী টানেলে রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত একটি টিউবে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে যান চলাচল সচল রাখা হবে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় ‘পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা’ অথবা ‘আনোয়ারা হতে পতেঙ্গা’ টিউবের যেকোনো একটিতে ট্রাফিক ডাইভারসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, বিদ্যমান ট্রাফিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে টানেলের উভয় প্রান্তে যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম

সংবাদদাতা (চুয়েট) চট্টগ্রাম
চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের  যুগ্মসচিব কাজী নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, অধ্যাপক, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’

উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এতে বলা হয়, তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উপাচার্য হিসেবে তিনি তাঁর মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রান্তিক খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, একজন খামারি শুধু নিজের পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নই করেন না, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই সরকার সবসময় খামারিবান্ধব নীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়ায় একে ইউনাইটেড হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারি এবং সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই করে গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

পরিদর্শনের সময় তিনি খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উৎপাদন, মৎস্য বীজ সংরক্ষণ, পোনা উৎপাদন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত মৎস্য বীজ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খামারিদের পাশে থেকে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো বেগবান হবে।

সম্প্রতি ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় পটিয়া উপজেলার অনেক মৎস্য চাষি ও খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে দেখতে আমি পরিদর্শনে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি ও খামারিদের দ্রুত সহায়তা এবং তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পরিদর্শনকালে মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক, ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা, মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।