টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ নদীর পানি বেড়ে সম্প্রতি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য ও সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দনাইশের আট ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পানি কমার সাথে সাথে ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, বন্যায় কৃষি ও যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি ৮-৯ দিন ধরে জমে থাকায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে।
সকল ধরনের কৃষিক্ষেতের সবজি পচে গেছে। শতাধিক মাছের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৫৫টি প্রধান সড়কসহ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চলাচলের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ছয়টি সেতু ও কালভার্ট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সড়কে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস জানান, এক হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৯৮০ হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭০ হেক্টরের পেঁপে, ৫০ হেক্টরের পান, ৪০ হেক্টরের আমন বীজতলা এবং ২০ হেক্টর জমির আদা, রসুন ও পিয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
এবারের বন্যায় কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭০ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস।
চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার এক হাজার ৬৫০টি পুকুরের প্রায় ৩৫০ হেক্টর মাছের প্রকল্প পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে।
প্রাণিসম্পদ খাতে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার আট ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার কয়ক শ গভীর ও অগভীর নলকূপ ও শৌচাগার নষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকার ওপরে।
চন্দনাইশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যায় আবাসন খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচাপাকা ও মাটির ঘর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে অন্তত ৩০০টি, টাকার মূল্যে যা ৩০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, চরের সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০ কোটি টাকারও বেশি।
চন্দনাইশের অধিকাংশ এলাকা পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় পল্লী বিদ্যুতের ১২টি ট্রান্সফরমার, ২২টি খুঁটি ও ২৫টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কোটি টাকার ওপর ক্ষতি হয়েছে।
জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদ, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্রণালয় এবং দুইটি পৌরসভার কাঁচা-পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি।
চন্দনাইশ উপজেলার সকল অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ের এ বন্যায় ৩ শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, চন্দনাইশে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে।






