• ই-পেপার

নাইজেরিয়া

গ্রামে ঢুকে বাড়িতে বাড়িতে আগুনের পর গুলি, শিশুসহ নিহত ৩০

ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনজন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সমর্থনের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং যুদ্ধের মূল লক্ষ্য কী। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে আরো দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে তার অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশ। গত মাসের তুলনায় এটি ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে এই হার এখনও তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালের তুলনামূলক নিচের দিকের অবস্থানগুলোর একটি। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণকে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের হাত থেকে মুক্ত করতে চান। আবার কখনও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাই উদ্দেশ্য। অন্য সময় তিনি জোর দিয়েছেন, ইরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া হয়।

তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও এই মত রয়েছে। প্রতি ১০ জন রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যে চারজনও একই কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তার ভাষ্য, ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একজন প্রেসিডেন্ট থাকা, যিনি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কখনোই ৪০ শতাংশে পৌঁছায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সেই যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরুর সময় সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। গ্যালাপের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রতি মানুষের অনীহা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে দলটি।

জর্জিয়ার স্টকব্রিজ শহরের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত টারবাইন মেরামত বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তার ভাষায়, 'আমরা কেন যুদ্ধ শুরু করেছি, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।' ওম্যাক একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জানান, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের নেতৃত্ব পছন্দ হওয়ায় তিনি রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি ট্রাম্পের ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছেন না। তার মতে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পারছেন না।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননে ইরান-সমর্থিত যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। দেশজুড়ে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের কিছু বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৩ ডলার। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়েছে।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং সাবেক হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যালেক্স কোন্যান্ট বলেন, এই যুদ্ধ রিপাবলিকান দলের জন্য নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, বছরের শুরু থেকে হোয়াইট হাউস অর্থনীতি নিয়ে জনমত নিজেদের পক্ষে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষের মূল মনোযোগ চলে গেছে পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধের দিকে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের ৩৬ শতাংশ আগামী কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেছেন ২০ শতাংশ। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ চলছে। এ কারণে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। 

জর্জিয়ার ফেয়ারবার্ন শহরের স্বতন্ত্র ভোটার রায়ান অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি মনে করেন, বিদেশে যুদ্ধের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।' নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহ–সংক্রান্ত দুটি চাকরি করা অ্যান্ডারসন জানান, ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, "আমাদের মিত্র আছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন, যাদের এখনই সাহায্য দরকার।"

রয়টার্স/ইপসোস মার্চের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে মার্কিন নাগরিকদের কাছে জানতে চাইছে, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন কি না। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই সমর্থনের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর দিন তা ছিল ২৭ শতাংশ। সে সময় ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছিলেন, তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। সর্বশেষ জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত হয়। এতে ১ হাজার ২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ত্রুটির সীমা দুই দিকেই ৩ শতাংশ পয়েন্ট। 


 

হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

হেপাটাইটিস এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এ দুই সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারায়। 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ে জীবনযাপন করছেন। শুধু ২০২৪ সালেই এ অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ সংক্রমণ এবং প্রায় ২ লাখ হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিকেও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের একটি। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি, নিয়মিত রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণও দেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ডব্লিউএইচও জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস ‘বি’-জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ যে ১০টি দেশে ঘটেছে, বাংলাদেশ সেই তালিকায় রয়েছে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচওর মতে, কার্যকর টিকা, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জনসচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ, সামাজিক অপবাদ এবং স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে বহু বছর ধরে নিরাপদ ও কার্যকর টিকা রয়েছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘সি’ আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ রোগী সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন না। ফলে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোগ শনাক্ত হয়, তখন চিকিৎসা হয়ে ওঠে আরো জটিল ও ব্যয়বহুল।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় অনেক মানুষ জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানান।

ডব্লিউএইচও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২০-২০৩০ সালের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা, নবজাতকের জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটির কারিগরি সহায়তায় এসব কার্যক্রম ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এখনো নানা কাঠামোগত ও সামাজিক বাধা রয়ে গেছে। অনেক মানুষ হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতন নন, ফলে পরীক্ষা করান না। অনেক এলাকায় সহজলভ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নেই। সামাজিক অপবাদের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। পাশাপাশি দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতাও এখনো সীমিত।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চারটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। এগুলো হলো—জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ টিকা নিশ্চিত করা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ইনজেকশন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি; প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, এইচআইভি, যক্ষ্মা ও রক্ত সঞ্চালন কর্মসূচির সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা একীভূত করা; জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হেপাটাইটিস ‘সি’ চিকিৎসা সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ নিশ্চিত করা; এবং সংক্রমণ, চিকিৎসার ফলাফল, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জাতীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

সংস্থাটির মতে, রোগের প্রকৃত বোঝা নিরূপণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্ত, নীতিনির্ধারণ ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য শক্তিশালী তথ্যব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছে এবং নির্মূলের পথে আরো দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারের এ প্রচেষ্টায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভবিষ্যতেও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, নবজাতকের জন্মের পরপরই টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে হেপাটাইটিস সেবা যুক্ত করার মতো পদক্ষেপ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ আশরাফ সেতু বলেন, হেপাটাইটিস শুধু একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি একটি পরিবারের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করে। দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ রোগীদেরই বহন করতে হয়। বিশেষ করে হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতার ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অথচ সময়মতো টিকাদান ও নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে ছাড়া পেলেন অপহৃত ভারতীয় ব্যবসায়ী

অনলাইন ডেস্ক
৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে ছাড়া পেলেন অপহৃত ভারতীয় ব্যবসায়ী
সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে অপহরণের শিকার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হীরা ব্যবসায়ী ধীরু রামানি বিপুলপরিমাণ মুক্তিপণের বিনিময়ে অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন। অপহরণকারীদের  থেকে তাকে মুক্ত করতে তার পরিবারকে গুনতে হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫৬ কোটি টাকা)।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালি থেকে অপহৃত হন ধীরু রামানি। তিনি সম্প্রতি মালিতে একটি সোনার খনি কিনেছিলেন এবং কিছু দিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন। অপহরণের পর পরই দুষ্কৃতকারীরা তার পরিবারের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রামানির পরিবার দর কষাকষি করে সেই অঙ্কের পরিমাণ ৪০ লাখ ইউরোতে নামিয়ে আনে। গত সপ্তাহে এই বিপুলপরিমাণ অর্থ পরিশোধের পরেই মুক্তি পান এই প্রবীণ ব্যবসায়ী।

সূত্র জানিয়েছে, পুরো আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়াটি রামানির পরিবার নিজেরাই সম্পন্ন করেছে। এতে ভারত সরকারের বা কোনো কূটনৈতিক সংস্থার সরাসরি ভূমিকা ছিল না। বর্তমানে মুক্তি পেলেও ধীরু রামানি মালিতেই অবস্থান করছেন। পুরো ঘটনা ও অপহরণের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

উল্লেখ্য, মূল ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা ধীরু রামানি ১৯৮০ এর দশক থেকে সুরাটে হীরার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসা বিস্তার করেন। গত এপ্রিলে তার অপহরণের ঘটনার পরপরই মালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছিল।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যোগ হলো ব্রাজিলের ‘আমাজোনিয়া থিয়েটারস’

অনলাইন ডেস্ক
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় যোগ হলো ব্রাজিলের ‘আমাজোনিয়া থিয়েটারস’
সংগৃহীত ছবি

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের দুইটি ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বৈঠকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘আমাজোনিয়া থিয়েটারস’ নামে তালিকাভুক্ত এই দুইটি স্থাপনা হলো—বেলেম শহরের ‘থিয়েট্রো দা পাজ’ ও মানাউস শহরের ‘টিয়েট্রো আমাজনাস’

উনিশ শতকে আমাজনে যখন রাবার ব্যবসার স্বর্ণযুগ চলছিল, তখন এগুলো নির্মিত হয়। ১৮৭৮ সালে বেলেমে ‘থিয়েট্রো দা পাজ’ এবং ১৮৯৬ সালে মানাউসে ‘টিয়েট্রো আমাজনাস’ চালু হয়। থিয়েটারগুলোর নকশায় ইউরোপীয় স্থাপত্যের প্রভাবের পাশাপাশি স্থানীয় কাঠ ও আমাজনের বন-অনুপ্রাণিত প্রতীকের চমৎকার মিশ্রণ ঘটেছে। ইউনেস্কোর মতে, এগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক ও নগর উন্নয়নের প্রতীক ছিল।

ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, আমাজন অঞ্চলকে আধুনিক করার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে যুক্ত করার ইতিহাসের প্রতীক হিসেবেই এই দুইটি থিয়েটারকে যৌথভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির ফলে স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ জোরদার হবে এবং বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যান্য বিখ্যাত স্থানের মধ্যে রয়েছে ভারতের তাজমহল, চীনের মহাপ্রাচীর ও মিশরের পিরামিড।

ব্রাজিলে বর্তমানে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬টিতে। নতুন থিয়েটারগুলোর আগে থেকেই আমাজন অঞ্চলে ‘সেন্ট্রাল আমাজন কনজারভেশন কমপ্লেক্স’ নামের একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা ইউনেস্কো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া বুসানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ফ্রান্সের ‘ডি-ডে অবতরণ সৈকত’ এবং গ্রিসের ‘মাউন্ট অলিম্পাস’কেও নতুন করে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।