• ই-পেপার

হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

অনলাইন ডেস্ক
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১
ছবি : রয়টার্স

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক জোকালো পাবলিক স্কোয়ার ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুজন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) এই ঘটনাটি ঘটে।

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা সচিবালয় ঘটনাটিকে একটি সরাসরি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের হামলায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সী দুজন পুরুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গোলাগুলির পরপরই হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে ইতিমধ্যে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

হামলাটি ঐতিহাসিক সান্তো ডোমিঙ্গো স্কোয়ারে ঘটেছিল, যা চমৎকার ঔপনিবেশিক আমলের ভবনে ঘেরা হলেও ভুয়া কাগজপত্র ও জাল নথি তৈরি- বিক্রির আখড়া হিসেবে পরিচিত। সাধারণত মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে নিয়মিতই সহিংসতা বা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে রাজধানীতে ‘ইউনিয়ন টেপিটো’ ও ‘ফুয়েরজা অ্যান্টি-ইউনিয়ন’-এর মতো বেশ কিছু অপরাধী গ্যাং সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের সরাসরি হামলার ঘটনাকে বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে।

অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে মালয়েশিয়ায় বন্ধ রোহিঙ্গা স্কুল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণার ঢেউয়ে মালয়েশিয়ায় বন্ধ রোহিঙ্গা স্কুল
ছবি: রয়টার্স

মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ১২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুর গত জুন মাস থেকে আর স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে যাওয়ার পথে দুই ব্যক্তি তাকে মারধরের হুমকি দেয়। এরপর থেকে ভয়ে তার পরিবার তাকে আর স্কুলে পাঠায়নি।

নুর জানায়, ওই দুই ব্যক্তি তাকে বলেছিল, "তুমি স্কুলে যেতে চাও কেন? আমাদের দেশ দখল করতে চাও?" নিরাপত্তার কারণে নুরের পরিবার তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চায়নি। অধিকারকর্মী ও শিক্ষকদের ভাষ্য, নুরের মতো আরো অনেক রোহিঙ্গা শিশু একই ধরনের হুমকি, হয়রানি ও ভয়ের মুখে পড়েছে। এর ফলে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত একের পর এক শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশেই বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ বলেন, অনেক শিশু এখন এতটাই ভয় পেয়েছে যে তারা ঘরের বাইরে বের হতেও চায় না। তার ভাষায়, একটি শিশুকে কয়েক দিনের জন্য ভয় দেখানো মানে শুধু ওই সময়টুকুর ক্ষতি নয়। এতে তাদের মনে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত তৈরি হয়।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী ঘৃণামূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য, উসকানিমূলক পোস্ট এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের ওপর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। স্কুল বন্ধ ও এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলেও মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দেশটি তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসাবে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছেন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন তাদের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানো, স্থানীয় সংস্কৃতিকে অসম্মান করা এবং চাকরির প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মতো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লুকানিসমান আওয়াং সাউনি পার্লামেন্টে বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশের মানুষ নিজেদের ওপর অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন।

গত মে মাস থেকে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা বাড়তে শুরু করে। মেটার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস এবং বাইটড্যান্সের টিকটকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে একটি রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর কোরবানির সময় গরু জবাই করার ধর্মীয় রীতিকে পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। জুন মাসে সরকারকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি অনলাইন আবেদন চালু হয়। পরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের পর সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এর আগেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সেখানে স্বাক্ষর করেছিলেন। শারিফা শাকিরাহ বলেন, এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা করোনা মহামারির সময়কার চেয়েও অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে রোহিঙ্গাদের, এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মেটার মালিকানাধীন থ্রেডসে একটি আলোচনার শিরোনাম ছিল 'লেমপাং রোহিঙ্গা'। মালয় ভাষায় যার অর্থ, 'রোহিঙ্গাকে চড় মারো'। কিছু জনপ্রিয় অনলাইন ব্যক্তিত্ব মানুষকে রোহিঙ্গা বসতির ভিডিও ধারণ করতে এবং তাদের অবস্থান কর্তৃপক্ষকে জানাতে উৎসাহিত করেছেন। তবে জুন মাসে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বলেন, সরকার চাইলে ইচ্ছেমতো শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দিতে পারে না। তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সরকার ব্যবস্থা নেবে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন 'আর্টিকেল ১৯' বলেছে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি বেড়েছে। এর ফলে তদন্ত, অভিযান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘটনা ঘটছে। তবে সম্প্রদায়টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবাধিকারভিত্তিক কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে সংগঠনটির অভিযোগ। সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, সরকারের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আরো উত্তেজনা তৈরি করছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অনলাইনে বাড়তে থাকা ঘৃণামূলক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য এবং মানবিক মর্যাদা অস্বীকারের প্রচারণা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি জানায়, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করছে। তবে বিবৃতিতে স্কুল বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুমতি ছাড়া পরিচালিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে শরণার্থীদের আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি নেই। তাদের সন্তানরাও সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারে না। তাই তারা মূলত বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র ও অনানুষ্ঠানিক স্কুলের ওপর নির্ভরশীল। নুরের ঘটনার পর তার স্কুলের শিক্ষক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করে দেন। একই এলাকার আরো দুটি শরণার্থী স্কুলও বন্ধ হয়ে যায়।

ওই স্কুলের শিক্ষক জানান, অনেক সময় রোহিঙ্গা শিশুদের সরকারি খেলার মাঠ থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২২ সালে এই শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে তারা অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসিত হতে পারে অথবা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্কুল রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাসে উৎসাহিত করে না বা স্থানীয়দের চাকরি নিতে সহায়তা করে না। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এই স্কুলের মাধ্যমে তিনি শিশুদের আইন মেনে চলতে শেখানোর চেষ্টা করছেন।

উত্তরাঞ্চলের কেদাহ রাজ্যের একটি শরণার্থী স্কুলও চলতি মাসে কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় অনুমতির অভাবের কথা বলা হয়। এর আগে স্কুলটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা ও শিক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ বা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অন্তত নয়টি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।এখনও চালু থাকা কয়েকটি স্কুল নিরাপত্তার জন্য নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের বাইরের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

অধিকারকর্মী শারিফা শাকিরাহ সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক সমস্যা আরো বাড়বে। তার মতে, এতে রোহিঙ্গা কিশোরীদের অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়বে। একই সঙ্গে অনেক শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে বা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেন যে রোহিঙ্গা শিশুরা রাস্তায় ভিক্ষা করে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকলে এমন শিশুর সংখ্যা আরো বাড়বে। অধিকারকর্মীদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতামূলক কনটেন্ট কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। আর্টিকেল ১৯ জানিয়েছে, তাদের অভিযোগের পর মেটা ও টিকটক কিছু পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে। তবে অনেক পোস্ট এখনও অনলাইনে রয়েছে। 

রয়টার্সের পাঠানো ১০টি পোস্টের মধ্যে মেটা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে সাতটি সরিয়েছে। টিকটক ১১টি পোস্টের মধ্যে আটটি সরিয়ে দিয়েছে। আর্টিকেল ১৯-এর ভাষ্য, নীতিমালা থাকলেও এসব প্ল্যাটফর্মে তার প্রয়োগ সব সময় একরকম হয় না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা অনেক সময় সাংকেতিক ভাষা, ছবি বা স্থানীয় ভাষার সূক্ষ্ম অর্থ বুঝতে পারে না। মেটা ও টিকটক জানিয়েছে, তারা ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও মানব পর্যালোচনা—দুই পদ্ধতিই ব্যবহার করে। টিকটক আরো জানায়, ক্ষতিকর মন্তব্য করার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও তাদের প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। 

স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন নুরের মতো অনেক শিশুর সামনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর রয়টার্সকে বলে, 'আমি যদি স্কুলে যেতে না পারি, তাহলে কিছুই শিখতে পারব না। আর জীবনে কিছুই হতে পারব না।'

ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে প্রতি তিনজন মার্কিনে একজনের সমর্থন, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনজন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সমর্থনের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং যুদ্ধের মূল লক্ষ্য কী। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে আরো দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে তার অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশ। গত মাসের তুলনায় এটি ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে এই হার এখনও তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালের তুলনামূলক নিচের দিকের অবস্থানগুলোর একটি। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণকে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের হাত থেকে মুক্ত করতে চান। আবার কখনও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাই উদ্দেশ্য। অন্য সময় তিনি জোর দিয়েছেন, ইরানকে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া হয়।

তবে জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও এই মত রয়েছে। প্রতি ১০ জন রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যে চারজনও একই কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনমত জরিপ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তার ভাষ্য, ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একজন প্রেসিডেন্ট থাকা, যিনি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কখনোই ৪০ শতাংশে পৌঁছায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সেই যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরুর সময় সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। গ্যালাপের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রতি মানুষের অনীহা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। ওই নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে দলটি।

জর্জিয়ার স্টকব্রিজ শহরের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত টারবাইন মেরামত বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তার ভাষায়, 'আমরা কেন যুদ্ধ শুরু করেছি, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।' ওম্যাক একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জানান, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের নেতৃত্ব পছন্দ হওয়ায় তিনি রিপাবলিকান রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। তবে বর্তমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি ট্রাম্পের ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছেন না। তার মতে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পারছেন না।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননে ইরান-সমর্থিত যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। দেশজুড়ে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের কিছু বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৩ ডলার। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়েছে।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ এবং সাবেক হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যালেক্স কোন্যান্ট বলেন, এই যুদ্ধ রিপাবলিকান দলের জন্য নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, বছরের শুরু থেকে হোয়াইট হাউস অর্থনীতি নিয়ে জনমত নিজেদের পক্ষে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষের মূল মনোযোগ চলে গেছে পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধের দিকে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের ৩৬ শতাংশ আগামী কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা বলেছেন ২০ শতাংশ। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ চলছে। এ কারণে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প অতীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। 

জর্জিয়ার ফেয়ারবার্ন শহরের স্বতন্ত্র ভোটার রায়ান অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি মনে করেন, বিদেশে যুদ্ধের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।' নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহ–সংক্রান্ত দুটি চাকরি করা অ্যান্ডারসন জানান, ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, "আমাদের মিত্র আছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন, যাদের এখনই সাহায্য দরকার।"

রয়টার্স/ইপসোস মার্চের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে মার্কিন নাগরিকদের কাছে জানতে চাইছে, তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন কি না। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই সমর্থনের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর দিন তা ছিল ২৭ শতাংশ। সে সময় ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছিলেন, তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। সর্বশেষ জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত হয়। এতে ১ হাজার ২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ত্রুটির সীমা দুই দিকেই ৩ শতাংশ পয়েন্ট। 


 

৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে ছাড়া পেলেন অপহৃত ভারতীয় ব্যবসায়ী

অনলাইন ডেস্ক
৫৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মালিতে ছাড়া পেলেন অপহৃত ভারতীয় ব্যবসায়ী
সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে অপহরণের শিকার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হীরা ব্যবসায়ী ধীরু রামানি বিপুলপরিমাণ মুক্তিপণের বিনিময়ে অবশেষে ছাড়া পেয়েছেন। অপহরণকারীদের  থেকে তাকে মুক্ত করতে তার পরিবারকে গুনতে হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫৬ কোটি টাকা)।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালি থেকে অপহৃত হন ধীরু রামানি। তিনি সম্প্রতি মালিতে একটি সোনার খনি কিনেছিলেন এবং কিছু দিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন। অপহরণের পর পরই দুষ্কৃতকারীরা তার পরিবারের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রামানির পরিবার দর কষাকষি করে সেই অঙ্কের পরিমাণ ৪০ লাখ ইউরোতে নামিয়ে আনে। গত সপ্তাহে এই বিপুলপরিমাণ অর্থ পরিশোধের পরেই মুক্তি পান এই প্রবীণ ব্যবসায়ী।

সূত্র জানিয়েছে, পুরো আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়াটি রামানির পরিবার নিজেরাই সম্পন্ন করেছে। এতে ভারত সরকারের বা কোনো কূটনৈতিক সংস্থার সরাসরি ভূমিকা ছিল না। বর্তমানে মুক্তি পেলেও ধীরু রামানি মালিতেই অবস্থান করছেন। পুরো ঘটনা ও অপহরণের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

উল্লেখ্য, মূল ভারতের গুজরাটের বাসিন্দা ধীরু রামানি ১৯৮০ এর দশক থেকে সুরাটে হীরার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসা বিস্তার করেন। গত এপ্রিলে তার অপহরণের ঘটনার পরপরই মালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছিল।