আইসিসি তাদের প্রতিবেদনে এই কীর্তিকে বলেছে, ‘অভূতপূর্ব বিশ্বরেকর্ড’। কোন কীর্তি, তা তো শিরোনামেই দেখতে পারছেন!
টানা ৫ ওভারে একটি করে উইকেট নিয়েছেন। এই ৫ ওভারে কোনো রান দেননি। অর্থাৎ, সবই উইকেটসহ মেডেন ওভার—যা টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম।
বাংলাদেশ সময় কাল রাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন এক বোলিং স্পেলের জন্ম দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩১১ রানের অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে শান মাসুদের সেঞ্চুরিতে ভর করে পাকিস্তান এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে ফেলেছিল।
তখন অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, পাকিস্তান প্রথম ইনিংস বড় লিড নিতে চলেছে। কিন্তু এরপর জাস্টিন গ্রিভসের ওই বোলিং স্পেলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপ।
বাবর আজমের দল ৩৮ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারায়, যার ৫টিই নেন গ্রিভস। অবিশ্বাস্যের ঘোরে বন্দী করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের লিড নেয়।
ক্যারিয়ারের ১৭তম টেস্ট খেলতে নামা গ্রিভসের এই বোলিং স্পেল আরো বিস্ময়কর, কারণ কাল তৃতীয় দিনের শুরুতে তিনি ৬ ওভার বল করে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। এরপর ফিরে এসে টানা পাঁচটি মেডেন ওভারে ৫ উইকেট তুলে নেন।
১০৯ রান করা শান মাসুদ ছিলেন গ্রিভসের প্রথম শিকার। মাসুদকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসে মড়ক লাগানোর কাজ শুরু করেন তিনি।
এর আগে কয়েকটি বল অফ স্টাম্পের বাইরে করে মাসুদকে খেলতে বাধ্য করেন গ্রিভস। এরপর হঠাৎ ভেতরে ঢোকা একটি বলে ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কিনারায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে।
পরের ওভারেই আমের জামালের মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেন গ্রিভস। এরপর আলী উসমানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মোহাম্মদ আব্বাসকে উইকেটকিপার শাই হোপের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে গ্রিভস বলেন, ‘আমি যখন আবার বোলিংয়ে আসি, তখন অধিনায়ক রোস্টন চেজ শুধু বলেছিলেন, তুমি যেভাবে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বোলিং করছ, সেটাই চালিয়ে যাও। দেখো, দলের জন্য কিছু উইকেট এনে দিতে পারো কি না।’
বার্বাডোসের ৩২ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আরো বলেন, ‘বল কিছুটা মুভ করছিল। আমি সেটারই পুরস্কার পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, দল চায় আমি যেন তাদের ভরসা হয়ে উঠি এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে বের করে আনতে পারি।’
টেস্টের এক ইনিংসে প্রথমবার ৫ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গ্রিভস বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। তবে ম্যাচ জিততে হলে এখনো অনেক কাজ করতে হবে।’
আক্ষরিক অর্থেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের এখনো অনেক কাজ বাকি। কারণ, প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধসের কারণে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের চার পেসার মোহাম্মদ আব্বাস, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আলী ও আমের জামালের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের এক পর্যায়ে মাত্র ৯৩ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অষ্টম উইকেটে শামার জোসেফ ও কেমার রোচের ৩৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তানকে কক্ষপথে ফেরানোর চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে সফরকারীরা ১৫৫ রানে এগিয়ে।




