• ই-পেপার

৫ ওভার-৫ মেডেন-৫ উইকেট! জাস্টিন গ্রিভসের অভূতপূর্ব বোলিং স্পেল

মাঠ থেকে পর্দায়

অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে রোনালদোর

ক্রীড়া ডেস্ক
অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে রোনালদোর
শুটিং সেটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার মাঠের বাইরে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছেন। প্রথমবারের মতো একটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করবেন রোনালদো। শুধু তাই নয়, নাটকে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও কাজ করবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, নতুন এই ধারাবাহিক নাটকের নাম Day 1s। এটি যুক্তরাজ্যের ফুটবল জগতকে ঘিরে নির্মিত একটি কল্পকাহিনি, যেখানে একজন প্রভাবশালী ফুটবল এজেন্টের জীবন ও পেশাগত নানা দিক তুলে ধরা হবে। 

ফুটবল এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ অভিনেতা ড্যামিয়ান লুইস, যিনি হোমল্যান্ড এবং বিলিয়নস নামের টেলিভিশন সিরিজে অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

নাটকটির ধারণা দিয়েছেন ফুটবল এজেন্ট ড্যারেন ডেইন। এটি নির্মাণ করছেন বিখ্যাত পরিচালক ম্যাথু ভন, যিনি কিংসম্যান চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত। রোনালদো ও ম্যাথু ভনের যৌথ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইউআর-মার্ভ স্টুডিওসের এটি প্রথম টেলিভিশন সিরিজ।

এই সিরিজে রোনালদোর সঙ্গে আরো থাকছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরি। এ ছাড়া ব্রিটিশ র‌্যাপার ডেভ ও নবাগত অভিনেত্রী কার্লোটা বানাটও অভিনয় করবেন। এরই মধ্যে লন্ডনে নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে।

দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো কোনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নাটকটির সম্প্রচার স্বত্ব কিনেনি। তবে বড় বড় স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, এর সঙ্গে ফুটবল ও বিনোদন জগতের একাধিক তারকা যুক্ত।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীনই রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। শোনা যাচ্ছে, পর্তুগালের জার্সিতে বিদায়ের দিনক্ষণও নাকি ঠিক করে ফেলেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। 

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লিসবনে ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ শেষে জাতীয় দলের জার্সি চিরতরে তুলে রাখতে পারেন রোনালদো। তবে আল নাসরের হয়ে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন। ফুটবলীয় কর্মব্যস্ততা কমে গেলে বিনোদন অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি আরো বাড়াতে পারেন রোনালদো।  

দলবদল নিয়ে খেপেছেন আর্জেন্টাইন তারকা, বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

ক্রীড়া ডেস্ক
দলবদল নিয়ে খেপেছেন আর্জেন্টাইন তারকা, বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের আর মাত্র দিনচারেক বাকি। ঠিক এই মুহূর্তে স্প্যানিশ ফুটবলে চরম নাটকীয় রূপ নিয়েছে হুলিয়ান আলভারেজের ট্রান্সফার ইস্যু। শৈশবের স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনায় পাড়ি জমাতে মুখিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার বর্তমান ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বড় প্রস্তাব পাওয়ার পরও সাড়া না দিয়ে উল্টো বার্সার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অ্যাতলেতিকো প্রেসিডেন্ট এনরিকে সেরেজো। ক্লাবের এমন আচরণে অসন্তুষ্ট আলভারেজ এবার নিজেই প্রকাশ্যে মুখ খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্প্যানিশ প্রভাবশালী ক্রীড়া মাধ্যম ‘স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে পারেন এই বিশ্বজয়ী তারকা। অ্যাতলেতিকোর সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও এবং বাই-আউট ক্লজ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো হওয়া সত্ত্বেও আলভারেজকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বড় কোনো ক্লাব থেকে ভালো প্রস্তাব পেলে আলোচনার টেবিলে বসবে কর্তৃপক্ষ। তবে বার্সেলোনার মতো ক্লাব মোটা অঙ্কের অফার নিয়ে আসার পরও ক্লাবের টালবাহানায় ক্ষুব্ধ আলভারেজ। 

নিজের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলবদল করলে সেটা শুধুই বার্সেলোনাতে। শৈশব থেকে বুকে লালন করা সেই স্বপ্নপূরণে প্রয়োজনে ক্লাবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতেও পিছপা হবেন না তিনি। বিশ্বকাপ চলাকালীনও নিজের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন আলভারেজ, ‘ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে দলবদল সবার জন্যই ভালো এবং আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

পিএসজি বা আর্সেনালের মতো ক্লাবগুলোর আগ্রহ থাকলেও আলভারেজের মন পচে আছে ন্যু ক্যাম্পেই। অন্যদিকে, আতলেতিকো তাদের এই ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে’ কিছুতেই ছাড়তে নারাজ। বিশেষ করে বার্সেলোনার কাছে বেচতে তাদের চরম আপত্তি।

বার্সেলোনা কোচিং স্টাফও আলভারেজকে আক্রমণভাগের আদর্শ সমাধান হিসেবেই দেখছেন। তবে ক্লাবের আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও অ্যাতলেতিকোর কঠোর অবস্থানের কারণে বার্সা এখন ‘ধীরচলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের সোজা কথা, বরফ গলাতে হলে উদ্যোগটা আলভারেজকেই নিতে হবে। 

মৌসুম শুরুর আগেই মহাবিপদে রোনালদোর ক্লাব, ঋণের বোঝায় বন্ধ দলবদল

ক্রীড়া ডেস্ক
মৌসুম শুরুর আগেই মহাবিপদে রোনালদোর ক্লাব, ঋণের বোঝায় বন্ধ দলবদল
ছবি : রয়টার্স

মাঠে বল গড়ানোর আগেই বড় ধাক্কা খেল রোনালদোর ক্লাব আল-নাসর। সৌদি প্রো লিগের নতুন মৌসুম শুরু হতে যখন হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, ঠিক তখনই মারাত্মক আর্থিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে ক্লাবটি। পাহাড়সম ঋণের চাপে নতুন খেলোয়াড় কেনা থেকে শুরু করে পুরো ট্রান্সফার কার্যক্রমই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদের এই পরাশক্তি।

আগামী ১৩ আগস্ট মাঠে গড়াচ্ছে সৌদি প্রো লিগের নতুন মৌসুম। অন্যান্য ক্লাবগুলো যখন দল গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত, আল-নাসর সেখানে পুরোপুরি স্থবির। সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আল-রিয়াদিয়াহ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাবটির ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (প্রায় ২১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল অঙ্কের দেনার কারণে আপাতত নতুন কোনো ফুটবলারকে রেজিস্টার করাতে পারছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

এই চরম অর্থসংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্লাবের দৈনন্দিন পরিচালনেও। পর্তুগিজ তারকা সামু কস্তাকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মায়োর্কার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলেও সই করানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, বাজেট না থাকায় আটকে আছে দলের তারকা উইঙ্গার আব্দুল রহমান ঘারিবের চুক্তি নবায়নের আলোচনাও। গত মৌসুমে কোনো বড় শিরোপা না পাওয়া দলটি যখন নতুন উদ্যমে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এমন পরিস্থিতি সমর্থকদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। 

তবে এই বিপর্যয় কাটাতে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে ক্লাবের ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (পিআইএফ)। তারা একটি ত্রিমুখী উদ্ধার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যার অধীনে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অযথা অর্থ খরচ বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক আয় বাড়াতে ও পরিচালন ব্যয় কমাতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আর্থিক ও আইনি উপদেষ্টা। গুঞ্জন রয়েছে, ক্লাবের কিছু অংশ বেসরকারি খাতের কাছে বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যার জন্য ইতোমধ্যে দুটি বড় প্রস্তাবও এসেছে। 

তবে এতসব হতাশার মাঝেও স্বস্তির খবর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। ক্লাবের এই সংকটকালে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকার অবস্থানে কোনো প্রভাব পড়ছে না। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানো পর্তুগিজ সুপারস্টার কেবল মাঠেই নন, ক্লাবের আংশিক মালিকানা ও বিশাল বাণিজ্যিক আকর্ষণের কারণে এই সংকট উত্তরণের মূল স্তম্ভ হিসেবেই থাকবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আল-নাসরের এই হাল আসলে পুরো সৌদি ফুটবলের নতুন নীতিরই প্রতিফলন। রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর ঢালাও নির্ভরতা কমিয়ে ক্লাবগুলোকে স্বাবলম্বী ও বাণিজ্যিকভিত্তিতে টেকসই করে তোলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, রিয়াদের ক্লাবটি এখন তারই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 
 

দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ মালদিনির

ক্রীড়া ডেস্ক
দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ মালদিনির

ইতালিয়ান ফুটবলের আকাশে আস্থার যে নতুন সূর্য উদয় হতে শুরু করেছিল, তিন সপ্তাহের মাথায় তা যেন গ্রহণের মুখে পড়ল। ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের (এফআইজিসি) কারিগরি পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি। তার সঙ্গে দায়িত্ব ছেড়েছেন তার উপদেষ্টা ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার লিওনার্দোও। সোমবার স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়া এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্বজয়ী ইতালির ফুটবলকে নতুন করে টেনে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মালদিনিকে। গাত্তুসোর বিদায়ের পর জাতীয় দলের নতুন কোচ খুঁজে বের করাই ছিল ৫৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই তাদের এই আকস্মিক পদত্যাগে ফুটবল বিশ্বে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, জাতীয় দলের কোচের দৌড় থেকে ইতালি ও এসি মিলানের সাবেক তারকা ফুটবলার আন্দ্রেয়া পিরলো নিজের নাম তুলে নেওয়াই হলো এই ভাঙনের মূল অনুঘটক। মালদিনির প্রথম পছন্দ ছিলেন পিরলো। কিন্তু রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি থাকায় পিরলোকে কোচ করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। আর এই জেরেই কোচ হওয়ার পথ থেকে সরে দাঁড়ান পিরলো। এর আগে অবশ্য পেপ গার্দিওলাকে কোচের অফার করা হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন।

এদিকে মালদিনি ও লিওনার্দোর এই যৌথ পদত্যাগ এফআইজিসি-র নবনিযুক্ত সভাপতি জোভান্নি মালাগোর জন্য বিরাট বড় এক ধাক্কা। দেশটির হতাশাজনক ইউরোপীয় পারফরম্যান্স এবং টানা বিশ্বকাপ মিসের খরা কাটিয়ে ওঠায় যখন পুরো নীল শিবির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পুরো প্রক্রিয়াটি বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

নতুন কোচ খুঁজে বের করা তো দূরের কথা, এখন ইতালিয়ান ফেডারেশনকে পুরো জাতীয় দলের কৌশলই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। পিরলোর বিদায়ের পর শূন্য পদে এখন বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কোচের নাম গুঞ্জন হিসেবে ভেসে বেড়াচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছেন রবার্তো মানচিনি, থিয়াগো মোত্তা এবং আন্তোনিও কোন্তে।

তবে আকস্মিক এই পদত্যাগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।