কমনওয়েলথ গেমসের পঞ্চম দিনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সাফল্যের সাক্ষী থাকল প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্রীড়াঙ্গন। একই ইভেন্টে একই সঙ্গে পোডিয়ামে উঠলেন দুই ভারতীয়, একজন জিতলেন স্বপ্নের সোনা, অন্যজনের গলায় উঠল ব্রোঞ্জ। কমনওয়েলথের ইতিহাসে এমন ঘটনা এবারই প্রথম! শুধু তা-ই নয়, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডেও লেখা হয়েছে সাফল্যের নতুন ইতিহাস। সবমিলিয়ে পঞ্চম দিনে ভারতের ঝুলিতে এসেছে মোট ৬টি পদক, যার ওপর ভর করে চলমান আসরে তাদের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ।
পঞ্চম দিনে তারা সেরা সাফল্যটি পেয়েছে প্যারা গেমসে। মহিলাদের এফ৫৭ শটপুট ইভেন্টে ইতিহাস গড়েন ভারতের শর্মিলা ধনকড়। ৯.৮১ মিটার দূরত্বে শটপুট ছুড়ে ভারতকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক উপহার দেন তিনি। কমনওয়েলথ প্যারা গেমসে এটিই কোনো ভারতীয় অ্যাথলিটের প্রথম সোনা জয়ের রেকর্ড। রোমাঞ্চের তখনও বাকি ছিল! এই ইভেন্টে প্রথমে চতুর্থ হলেও পরবর্তীতে তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিযোগীর থ্রো বাতিল হয়ে যাওয়ায় ব্রোঞ্জ লাভ করেন ভারতের আরেক কন্যা শিল্পা শায়লা। আর তাতেই কমনওয়েলথের একই ইভেন্টে জোড়া পদক জয়ের বিরল নজির গড়ে ভারত।
এদিকে দিনের শুরুতে ভারোত্তোলনে নারীদের ৫৩ কেজি বিভাগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে রুপা জিতে নেন জ্ঞানেশ্বরী। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ১৯৯ কেজি ওজন তুলে আলো ছড়ান ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প থেকে উঠে আসা এই তরুণী।
এরপর হাই জাম্পের বার উঁচুতে তুলে ইতিহাস লেখেন সর্বেশ কুশার। হাই জাম্পে এর আগে কমনওয়েলথে ভারতের সর্বোচ্চ অর্জন ছিল ব্রোঞ্জ। সেই রেকর্ড ভেঙে রুপো জিতে গেমসের ইতিহাসে ভারতের সফলতম হাই জাম্পার হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে নেন সর্বেশ।
ভারতের জন্য ভারোত্তোলন থেকে দিনের শেষভাগে আসে আরো দুই সাফল্য। পুরুষদের ৭৯ কেজি বিভাগে মোট ৩৩০ কেজি তুলে রুপা নিশ্চিত করেন ভাল্লুরি অজয় বাবু। অন্যদিকে মহিলাদের ৫৮ কেজি বিভাগে ১৯৯ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ জেতেন বিন্দিয়ারানি দেবী।




