• ই-পেপার

বিশ্বকাপের সময় সবচেয়ে বেশি অনুসারী বেড়েছে কোন ফুটবলারের

‘ফ্রান্স দলে ফরাসি ফুটবলার নেই’—স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

ক্রীড়া ডেস্ক
‘ফ্রান্স দলে ফরাসি ফুটবলার নেই’—স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর কিলিয়ান এমবাপ্পের পারিবারিক শেকড়, গায়ের রং ও শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন প্যারাগুয়ের নারী সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া। 

এবার সেমিফাইনাল সামনে রেখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয় ফ্রান্স দলকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ডালাসে আগামীকাল রাতে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। ম্যাচটি নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল দেবাতে’-এ একটি নিবন্ধ লিখেছেন রাখয়। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ফ্রান্স বেশ শক্তিশালী হলেও তাদের দলে ফরাসি খেলোয়াড় নেই। তার এই মন্তব্য দুই দেশেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাখয় নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ফ্রান্স দলে সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড় আছে। তবে হ্যাঁ, সেটা ফরাসি খেলোয়াড় ছাড়াই।’  

সমালোচকদের মতে, রাখয় মূলত অভিবাসী পরিবার থেকে আসা কিংবা ভিন্ন জাতিগত পটভূমির ফরাসি খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয়কে অস্বীকার করেছেন। এটি বর্ণবাদী ও বিদেশবিদ্বেষী মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ রাখয়ের কথার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘একজন মানুষের জাতীয় পরিচয় তার ত্বকের রং বা পারিবারিক উৎস দিয়ে নির্ধারিত হয় না। এমন মন্তব্য বিভাজন সৃষ্টি করে এবং তা আধুনিক ইউরোপের মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েস রাজখের মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স একটি বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ। আমাদের জাতীয় ফুটবল দল সেই বৈচিত্রেরই প্রতিফলন।’ 

রাখয়ের এই মন্তব্যের কারণে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএফএফ) আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ফ্রান্স সরকার। 

অবশ্য রাখয় তার নিবন্ধে ফ্রান্স দলকে প্রশংসাতেও ভাসিয়েছেন, ‘তারা অসাধারণ ফুটবল খেলছে। তারা আমাদের (স্পেনের) জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হতে চলেছে।’

এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে রাখয়ের মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরো কতটা উত্তপ্ত হয়।

গোড়ালির চোটে সেমিতে খেলা নিয়ে শঙ্কায় নিকোলাস গঞ্জালেস

ক্রীড়া ডেস্ক
গোড়ালির চোটে সেমিতে খেলা নিয়ে শঙ্কায় নিকোলাস গঞ্জালেস
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সেমিতে ইংল্যান্ডে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে নামার আগে ইনজুরি শঙ্কায় আর্জেন্টিনা শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে গোড়ালি চোট পান এই লেফট উইঙ্গার। কানসাসে সেমিফাইনালে আগে প্রথম অনুশীলনে তার ওপর তাই চিকিৎসকরা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিল। 

কানসাস সিটিতে অবস্থিত স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলনীকালে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে চিকিৎসক ও ফিজিওরা পর্যবেক্ষণে রাখেন তাকে। অন্যদের থেকে তাকে বেঞ্চে বিশ্রামে রাখা হয়ছিলো। পরে অবশ্য তাকে মার্কোস সেনেসি এবং জুলিয়ানো সিমিওনেদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন। অল্প কিছুক্ষণ এসময় অনুশীলনে ঘাম ঝরান তিনি।

মেডিকেল টিমের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনো পেশি বা হাড়ের ক্ষতি হয়নি। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তার দলে থাকা নিয়ে বড় কোনো সংশয় নেই। কোচ লিওনেল স্কালোনি মূলত তাকে সম্পূর্ণ ফিট করতে আগামী ৩ দিন এই রিকভারি প্রক্রিয়ার ওপরই জোর দিচ্ছেন বলে জানা গেছে

সোমবার কানসাসে শেষ অনুশীলনী সেরে আটলান্টার উদ্দেশে রওনা হবে স্কালোনি বাহিনী। আটলান্টায় সকালে শেষ অনুশীলনী করবেন মেসি-আলভারেজরা।

ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে
ছবি : রয়টার্স

আর দুই তিন ম্যাচ পর শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ। শিরোপা লড়াইয়ে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের আগে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে স্টেডিয়ামে। 

1

স্টেডিয়ামের মাঠের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে দুই দলের ড্রেসিং রুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠকে খেলার দিনের জন্য উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। 

2

দর্শকের সারির আসনগুলো পরিপাটি করার কাজও শেষের দিকে। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নিয়ে দুই দেশের সমর্থকরা রয়েছে অধীর আগ্রহে।

3

 

২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টটি ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে। ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি আসর হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকবে।

সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আমাদের শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কথা ভাবলে চলবে না। এটি পুরো বিশ্বের জন্য। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা (২০২৬) বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দলের মান অনেক বেড়েছে এবং তারা আরো উন্নতি করছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির অনুপ্রেরণাও কমে যাবে।’

ইনফান্তিনো মনে করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ দারুণ সফল হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এবার আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র ৫টি দল।

ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।

যদিও সবাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার মতে, আরো দল বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতায় ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য ‘ক্ষতিকর’ হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে বিড করতে পারে এবং টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলেও তা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।’

ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্যদের যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।