• ই-পেপার

২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?

ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে
ছবি : রয়টার্স

আর দুই তিন ম্যাচ পর শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ। শিরোপা লড়াইয়ে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের আগে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে স্টেডিয়ামে। 

1

স্টেডিয়ামের মাঠের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে দুই দলের ড্রেসিং রুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠকে খেলার দিনের জন্য উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। 

2

দর্শকের সারির আসনগুলো পরিপাটি করার কাজও শেষের দিকে। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নিয়ে দুই দেশের সমর্থকরা রয়েছে অধীর আগ্রহে।

3

 

বালোগানের শাস্তি বদলেছিল একক সিদ্ধান্তে

অনলাইন ডেস্ক
বালোগানের শাস্তি বদলেছিল একক সিদ্ধান্তে
ফোলারিন বালোগান। ছবি : সংগৃহীত

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ তার শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোর নাম থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এবারের বিশ্বকাপে দল বেশি, ম্যাচ বেশি, বিতর্কও বেশি। মাঠে হাইড্রেশন ব্রেক, রেফারিং আর ভিএআর নিয়ে বিতর্ক তো নিত্যদিনের। এ ছাড়া ফিফার প্যানেলে থাকার পরও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুল কাদির আরতানকে ঢুকতে না দেওয়া, ইরানকে খেলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে বাধ্য করার মতো ঘটনাও এবারের বিশ্বকাপকে বিতর্কিত করেছে। 

তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গেছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনে বদলে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তি। এখন জানা যাচ্ছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভাপতি একাই নিয়েছিলেন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত। এমনকি কমিটির কারো সঙ্গে তিনি পরামর্শও করেননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিফোনের মতো শাস্তি স্থগিতের একক সিদ্ধান্তও অস্বাভাবিক।  

রাউন্ড অব ৩২-এর বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ ছিল না তার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টেলিফোনেই বদলে যায় সবকিছু। ট্রাম্প তার বন্ধু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে দেরি করেননি ইনিফান্তিনো। ফিফার গভর্নিং বডি বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। 

প্রথমে বলা হয়েছিল, গভর্নিং বডি স্বাধীনভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, সেই স্বাধীনভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তটা ছিল একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত। আর তিনি হলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি। ১৮ সদস্যের ডিসিপ্লিনারি কমিটির অন্য কোনো সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে তিনি পরামর্শও করেননি।

এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান কামালি, ডেপুটি চেয়ারম্যান হোর্হে প্যালাসিও এবং কমিটির অন্য একজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি নিয়ে থাকে। আর ডিসিপ্লিনারি কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তা সাধারণত প্যালাসিও নিয়ে থাকেন। কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে সব কিছুই ছিল ব্যতিক্রমী। 

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জনই তাদের ম্যাচ না খেলার শাস্তি ভোগ করেছেন বা করবেন। বালোগানই একমাত্র সৌভাগ্যবান, যিনি লাল কার্ড দেখার পরের ম্যাচেও খেলতে পেরেছিলেন। অবশ্য তাতে লাভ হয়নি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে রাউন্ড অব ১৬-তেই থেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পথচলা।

যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক
যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ
প্রতীকী ছবি

এবারের বিশ্বকাপ অনেক প্রথমের সাক্ষী হয়েছে। শুরুটা হয় ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ দিয়ে। এ ছাড়া দল ও খেলোয়াড় মিলিয়ে আরো অনেক প্রথমের দেখা মিলেছে। সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার আরেকটি প্রথমের দেখা পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৪ দল সেমিফাইনালে সুযোগ পেয়েছে। ১৯৯২ সালে র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর এমন ইতিহাস কখনো দেখা যায়নি। ইতিহাস গড়া চার দল হচ্ছে—আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

রেকর্ডের সাক্ষী হওয়া চার দলেরই আবার নামের পাশে রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপ জিতেছে এমন ৪ দল তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে ঘটেছিল।

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিতে সুযোগ পাওয়া ৪ বিশ্বকাপজয়ী দল হচ্ছে ব্রাজিল, ইতালি, উরুগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানি। বিপরীতে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ৪ দল ছিল পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ড।

ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জেতার পর মেসিকে শূন্যে ছুঁড়েন সতীর্থরা। ছবি : রয়টার্স

কথায় আছে, অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকলে জীবন সুন্দর মতো চলবে না। তবে এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে আর্জেন্টিনা চাইলে অতীতকেই আঁকড়ে ধরতে পারে। কেননা অতীতেই লুকিয়ে আছে তাদের মঙ্গল।

সেটা কিভাবে? চলুন জেনে নেই। ইতিহাস জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ৬ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। যার কোনোটিতেই হারেনি তারা। এবার সপ্তমবারের মতো শেষ চারে খেলবে তারা। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামার আগে অতীতই লিওনেল মেসিদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ইতিহাস তাই জানাচ্ছে এবারও ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা।

তবে ইতিহাস পক্ষে থাকলেই হবে না, কাজটা করতে হবে মেসি-হুলিয়ান আলভারেজদেরকেই। ঠিক যেমন আগের সেমিফাইনালে তাদের পূর্বসূরি কিংবা নিজেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার খেলা সেমিফাইনালগুলোর ফলাফল।

আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল খেলার শুরুটা হয় ১৯৩০ বিশ্বকাপে। উরুগুয়ে বিশ্বকাপে সেবার যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়বার সেমিফাইনাল খেলার জন্য ৫৬ বছর অপেক্ষা করতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেবার দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ফল ছিল ২-০। মাঝে অবশ্য ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার সেমিফাইনালের ফরম্যাট ছিল না।

১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এবার ইতালিকে টাইব্রেকারে হারায় আলবিসেলেস্তারা। মূল ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। 

২৪ বছর পর আবারও সেমিফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকারে হারিয়ে মারাকানায় ফাইনাল খেলেন মেসিরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে সেবার ম্যাচের ফল ছিল ০-০।

মারাকানায় বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার খুব কাছে গিয়ে পারেননি মেসি। তবে সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেই স্বাদ পান তিনি। ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার আগে তার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায়। সেমিফাইনালের ফল ছিল ৩-০।

এবার ইতিহাসের বইয়ে আরেকটি পৃষ্ঠা যোগ হবে নাকি ওখানেই দাঁড়ি পড়বে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। ফল দেখতে আগামী ১৫ জুন রাতে আটলান্টায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা জয়ের হাসি হাসবে।