• ই-পেপার

সাড়ে ১৮ কোটি টাকা পাচারের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তা কারাগারে

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে
সংগৃহীত ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবেন না। তবে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে বা ফেরত আনা হলে তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে। আজ রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরে এ কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই আছেন। তার সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই প্রতিবেশী দেশটিতে আছেন বলে বিভিন্ন সময় নিজেরাই জানান দিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীও ভারতে আছেন। গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে দেশের কিছু গণমাধ্যমও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি বছর ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে তার সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার তাকে ভারত সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তার আসার কোনো সুযোগ নাই। হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।’ নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করেন আমিনুল ইসলাম।

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এ রকম নজির নাই। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে জেলে যাবেন এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।’

এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেকশন ২১-এর ৩-এ পরিষ্কার করে বলা আছে, ৩০ দিনের পরে (রায় ঘোষণার) আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয় তা হবে।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ১০টি মামলার তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

হামে মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।  

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি গ্রহণের উপাদান না থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় খারিজের আদেশ দেওয়া হয়। 

এর আগে গত ৫ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটির আবেদন জমা দেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। এরপর বিকেলে ওই আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আজ রবিবার দিন নির্ধারণ করেন। আজ বিকেলে মামলাটি খারিজের আদেশ এলো।

মামলায় আবেদনে অপর আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, বাদীর ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যাসংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

মামলায় অভিযোগে আরো বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তারা হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন। 

বিবাদীদের এসব কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উগ্রবাদী সংগ্রহে সম্পৃক্তার অভিযোগে সাত আসামি  ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
উগ্রবাদী সংগ্রহে সম্পৃক্তার অভিযোগে সাত আসামি  ৩ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক পেজ ও গ্রুপ খুলে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আসামিদের ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে ।

রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশনের উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান  আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ এর মধ্যে ছয় আসামিকে ইতোমধ্যে  দুই দফায় রিমান্ডে পাঠানো হয়। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

একইদিনে প্রথমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাদের প্রত্যককে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

​রিমান্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিরা হলেন- শাহ আমানত সাবির (২৩), মো. হোসাইন তানিম (২০), জুনায়েদ (২২), আতাউল্লাহ শাহ (৩২), মো. আবিদুর রহমান (২০), মো. বায়োজিত (৩০) এবং তাহসিন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসায়াব (১৯)।

গতকাল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রিমান্ডপ্রাপ্ত ৭ জনসহ মোট ১৬ জন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক মামলা করেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষে মো. সাদ্দাম হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিনসহ পৃথক আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

​মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে উগ্রবাদী ফাতাহ কমব্যাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে করে পুলিশ। আরেক আসামি তাহসীনকে  যশোর থেকে 

গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি)  পুলিশ। আসামিরা ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামক একটি উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যানারে একত্রিত হয়ে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক ফেসবুক পেজ, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আসছিলেন। এসব প্ল্যাটফর্মের আড়ালে তারা উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের লিপ্ত ছিলেন বলে   উল্লেখ করেন পুলিশ। 

​রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন , মামলার মূল রহস্য উদঘাটন,এজাহারনামীয় পলাতক, অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তার, ও ফাতাহ কমব্যাটে সিস্টেমের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ এ এস এম শাহাদাৎ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এ মামলার আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও সাগর।

জামিনে রয়েছেন মো. রুমান বেপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ। এ ছাড়া পলাতক রয়েছেন মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। শুনানিকালে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) এলোপাতাড়িভাবে পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পরের দিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্তকারী এ কর্মকর্তা। 

পরবর্তীতে আবারও ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ মে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মিটফোর্ড এলাকার রজনি ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন।