• ই-পেপার

পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

মনিরামপুর

‘দুই কোটি টাকা’ নিয়ে সমিতির পরিচালক উধাও

আমানত রেখেছিলেন ৪০০ গ্রাহক দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
‘দুই কোটি টাকা’ নিয়ে সমিতির পরিচালক উধাও
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত

‘স্বামী-স্ত্রী মিলে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ আর একটি ঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল। ১০ শতাংশ লাভের আশায় সেই টাকা আমানত রাখছিলাম সমিতিতে। এখন জানতে পারলাম সমিতির পরিচালক উধাও। মনে হচ্ছে জীবনের সব পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।’

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা গ্রামের বাসিন্দা রিনা বিশ্বাস। তার মতো ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ গ্রাহক আমানত রেখেছিলেন হরিণা গ্রামে অবস্থিত প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে। সম্প্রতি সমিতির পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু চার শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রাহকদের চাপের মুখে সমিতির পরিচালকের পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লাভের আশ্বাসে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আমানত ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে আসছিল সমিতিটি। গত ৪ জুলাই তারা জানতে পারেন, পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু সমিতির বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপর থেকেই কার্যালয়ে তালা ঝুলছে এবং পরিচালক কিংবা দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিন সমিতির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায় কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। এ সময় কথা হয় সেখানে  গ্রাহক দাবি করা কয়েকজনের সঙ্গে। এ সময় প্রভাতী বিশ্বাস নামের একজনের দাবি, তিনি ১০ শতাংশ লাভের আশায় এককালীন আট লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে জানতে পারেন, পরিচালক উধাও হয়ে গেছেন। 

সাবিত্রী বিশ্বাস নামের একজন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন সেই টাকাই নেই। মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘পরিচালক সেন্টু শার্শায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কাছেই জবাব চাইছেন, কিন্তু আমিও তার (সেন্টু) অবস্থান জানি না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় বলেন, ‘আমি অনেককেই ওই সমিতিতে টাকা জমা রাখতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু বেশি  লাভের আশায় অনেকেই আমার কথা শোনেনি। এখন তারা সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।’ 

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, ‘গ্রাহকরা আমাদের কাছে এসেছেন। তবে সমিতির সবশেষ অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগকারী অনেক গ্রাহকের নাম পাওয়া যায়নি। যেহেতু সমিতিটির লাইসেন্স জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 
তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘ 

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও  আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কু‌ড়িগ্রা‌মে তাপপ্রবাহে জৈব চাষে টিকে থাকার লড়াই কৃষক‌দের

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে তাপপ্রবাহে জৈব চাষে টিকে থাকার লড়াই কৃষক‌দের
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামে বাড়ছে তাপমাত্রা, কমছে বৃষ্টিপাত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলার আবহাওয়ায় দেখা দিচ্ছে নতুন বাস্তবতা। ফ‌লে সরাস‌রি এর প্রভাব প‌ড়ে‌ছে কৃ‌ষি‌তে।

রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই-এই ছয় বছরে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ত‌বে কৃ‌ষি‌তে এর প্রভাব পড়ায় জৈব ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করে টিকে থাকার নতুন পথ খুঁজছেন জেলার কৃষকরা।

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে তারা ঝুঁকছেন জৈব সার, ট্রাইকো কম্পোস্ট, মালচিং, ফেরোমন ফাঁদ, রঙিন আঠালো ফাঁদ ও জৈব বালাই নাশকের ব্যবহারে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ফল মিলছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কু‌ড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ কার্যাল‌য়ের উপ-প‌রিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকরা মাটির স্বাস্থ্য, ফসল ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব বালাই দমন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকেন।’

জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর ও খণ্ডক্ষেত্র গ্রামের কৃষক-কৃষাণীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা শিম, করলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় ওই দুই গ্রামের লাভলী বেগম, মোসলেম, আবুল হোসেন, মিনতী রাণীসহ ২০ জন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করছেন। তারা ট্রাইকো কম্পোস্ট, মালচিং পেপার, হলুদ, সাদা ও নীল আঠালো ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছেন।

কৃষাণী লাভলী বেগম জানান, ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলার চাষ করেছেন তিনি। তার ভাষায়, হলুদ ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় বন্ধ করা গেছে। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে, ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভ আরও বাড়বে।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আগে নিয়মিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এখন জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ ও রঙিন আঠালো ফাঁদ ব্যবহারে ভালো ফল পাচ্ছেন। এতে সার ও কীটনাশকের খরচ যেমন কমেছে, তেমনি রোগবালাইয়ের আক্রমণও কমেছে।’

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ‘কৃষিনির্ভর এ এলাকায় একসময় অধিকাংশ কৃষক ধান ও পাট চাষ করতেন। এখন আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে অনেকেই সবজি চাষে ঝুঁকছেন। ফলে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান দুই-ই বেড়েছে।’

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, ‘জমিতে জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার করলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে। আবার মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব হয়। তাপপ্রবাহের সময় নতুন করে চারা রোপণ না করা। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং রোগবালাই দমনে নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।’

কু‌ড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ কার্যাল‌য়ের উপ-প‌রিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে কৃষিতে টিকে থাকতে হলে আগাম পরিকল্পনা, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষক মাঠ স্কুল, প্রদর্শনী প্লট, জৈব সার ব্যবস্থাপনা, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।’

আবারও শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেল চট্টগ্রামের ‘মমতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আবারও শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেল চট্টগ্রামের ‘মমতা’
মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় অনবদ্য অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে ‘মমতা’কে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন।

চট্টগ্রামের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মমতা’ মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় অনবদ্য অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ বেসরকারি সংস্থা’র পুরস্কার লাভ করেছে। শ্রেষ্ঠ বেসরকারি সংস্থা হিসেবে ‘মমতা’ এ পর্যন্ত ১৮ বার এই গৌরব অর্জন করেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয় ‘মমতা’কে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন ‘মমতা’র প্রধান নির্বাহী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি রফিক আহামদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা ক্যাটাগরিতেও ‘শ্রেষ্ঠ বেসরকারি সংস্থা’র পুরস্কার লাভ করেছে মমতা। বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার গ্রহণ করেন ‘মমতা’র উপপ্রধান নির্বাহী তৌহিদ আহমেদ ও জেলা পর্যায়ের পুরস্কার গ্রহণ করেন মমতা মাতৃসদনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোর্শেদা বেগম।

শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে জাতীয় পুরস্কার অর্জনের পর ‘মমতা’র প্রধান নির্বাহী রফিক আহামদ বলেন, “চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বেসরকারি পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নিরলসভাবে কাজ করে ‘মমতা’ সারা দেশের মধ্যে একটি ব্র্যান্ড এবং সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ খাতে চট্টগ্রামে মমতা যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই সরকারের নিকট হতে এ স্বীকৃতি অর্জন আমাদের তথা চট্টগ্রামবাসীর জন্য গৌরব। এ পুরস্কার  ‘মমতা’র একার নয় বরং চট্টগ্রামবাসী এর অংশীদার।”

এ সময় তিনি মমতা স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রশাসক, সহকারী পরিচালক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিক্যাল অফিসার, প্যারামেডিক, নার্স, সুপারভাইজার, স্বাস্থকর্মী ও আউট্রিচ ওয়ার্কারসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভোলায় পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

ভোলার চরফ্যাশনে নকল করতে না দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় এ মামলা করেন। 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। 

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। গত শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক পর্যায়ে কেন্দ্রটির ৩০৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের প্রশ্ন কমন পড়েনি। 

এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তবে নকল করার সুযোগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। মূলত এর পরপরই পরীক্ষার্থীরা কক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে নানান অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। পরে পরীক্ষা শেষে হলে একদল শিক্ষার্থী একযোগ হয়ে ১টা ৫ মিনিটের দিকে কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করা ৭ জন শিক্ষকসহ কলেজটির গভর্নিং কমিটির সভাপতিও আহত হন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।