• ই-পেপার

আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না : রুমিন ফারহানা

গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়াত আমির

রংপুর অফিস
গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়াত আমির
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিরোধী দলকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি। আমরা লড়াই করে যাব। গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব, ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণও আমরা সরব না।’

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

জামায়াতের আমি বলেন, ‘সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সুরসুরি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না সরকার।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মুখ থেকে সীমান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসেনি। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য? কোন দেশের শাসক আপনারা? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কি হয় সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটা বালুর উপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।’

বিরোধী দলীয় এই নেতা বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে প্রথমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করব। দুঃখের বিষয় তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল অনেক ভালো ভালো কথা বলছে। নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও এই আন্দোলন করেছে কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে দশ টাকারও কোনো বাজেট নেই। আমরা আর কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, দেখতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয় আগামীতে ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে এগারো দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এখন হিমাগারে রাখতে গেলে বস্তা প্রতি ছয়শ টাকা তাদেরকে দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়, এটা জুলুম। এটা বন্ধ করতে হবে। ন্যায্য দামেই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু এটি নয়, আরো যত জিনিস এখানে উৎপাদন হয়, তার ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি কৃষককে নিশ্চিত করতে হবে।’

জামায়াত আমির আরো বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। সরকারের হৃদয়ে এগুলো ঢোকে না। কারণ জনগণ তো চাঁদাবাজি করে না। তাদের তো অবৈধ অর্থের উৎস নেই। তারা ঘুষ দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমনে বুঝবে যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত? যারা ঘুষ দুর্নীতিতে ব্যস্ত, তারা এটা বুঝবে না।’

জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দিবে না জনগণ। তখন ন্যায় ইনসাফের ভিত্তির উপরে এগারো দল একটি সরকার গঠন করবে। যেই দেশে চাঁদাবাজ তো দূরের কথা, তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারো হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এরপরেও কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না। তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলের চীফ হুইপ ও এনপিসির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় আরো বক্তব্য দেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ প্রমুখ।

বন্যা পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জরুরি নির্দেশনা

সারা দেশে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যা, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে; বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও স্যালাইন বিতরণ করতে হবে; শিশু, নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে; বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান সারা দেশে বন্যাকবলিত জেলা ও মহানগর আওতাধীন সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ : রাশেদ খান

অনলাইন ডেস্ক
স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ : রাশেদ খান

গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় এনসিপির উত্থান জরুরি ছিল। কিন্তু জুলাই পদযাত্রায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এনসিপির ডাউন হয়েছে। শীর্ষ নেতারা পদযাত্রায় অংশগ্রহণের পরেও সাধারণ মানুষের সেই বিপুল আগ্রহ-উদ্দীপনা আর নাই।’

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সাভারে এনসিপির পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের পরে ঢাকায় বড় কোনো প্রতিবাদ হয়নি। বরং ইসহাক সরকারের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদী মিছিল হয়েছে, সেখানে ২০-২৫ জন লোক হয়েছে! তিনি একটা বোমা ফাটলে ১০টা বোমা ফাটানোর আওয়াজ দিলেও মানুষ সেই আওয়াজে কর্ণপাত করে নাই। অথচ একসময় ইসহাক সরকার ডাক দিলে যেকোনো সময় ৩-৪ হাজার লোক নেমে এসেছে।’

রাশেদ খান বলেন, ‘মূলত এনসিপি জামায়াতের সাথে যাওয়াতে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত পুরাতন জামায়াতের দখলে চলে গেছে। মানুষের ধারণা এনসিপির জামায়াতের আরেকটা অঙ্গসংগঠন। শিবির ও জামায়াতের লোকজন দিয়ে এনসিপিকে বড় করার প্রজেক্টও সাধারণ মানুষে কাছে খোলাসা হয়ে গেছে। যে কারণে জামায়াত-শিবির আর এই প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। তারা এখন নিজেদের দিকেই ফোকাস দিচ্ছে বলে আমার ধারণা।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপিই যদি জামায়াত হয়, তবে মানুষ কেন জামায়াতে বাদ দিয়ে এনসিপি করবে? সুতরাং এনসিপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে যে, আমরা আসলেই নতুন বন্দোবস্তের দল।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘কিন্তু শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি অংশ জামায়াতের ভোটে এমপি হয়ে হওয়ায়, তারা কি কখনো জামায়াত থেকে এনসিপিকে বের করতে চাইবে? যদি না চায়, তবে এ যাত্রায় নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ। আর এ আশা যতো ফুরিয়ে যাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ততো প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসার উঁকিঝুঁকি মারবে! যা জাতির জন্য অশনিসংকেত! তবে এক্ষেত্রে অনেকে মনে করতে পারে, জামায়াত তো আছে। সত্যি বলতে, জামায়াত কখনো পুরোপুরি সরকারি দল বা পুরোপুরি বিরোধীদল হওয়ার ঝুঁকি নিবে না। জামায়াত তার সক্ষমতা বুঝে ফেলেছে। স্বাধীনতা না চেয়ে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ঝুঁকি নেওয়া যায় না।’

বন্যা মোকাবেলায় এনসিপির রেসপন্স টিম গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা মোকাবেলায় এনসিপির রেসপন্স টিম গঠন
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দুর্গতদের সহায়তায় ‘ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে দলটি।

এতে বলা হয়, এই টিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। তারা দ্রুত ত্রাণ, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয় করবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ পৌঁছানো এবং উদ্ধার কাজ আরো সুসংগঠিত করতে এই টিম কাজ করবে।

টিমের সদস্য ও তাদের নম্বর : জাওয়াদুল করিম ০১৮৩২০৬০০৩১, জোবাইরুল হাসান আরিফ ০১৫৭৫৬৮১৭৩৪, এ.এস.এম. সুজা উদ্দিন ০১৬৪৮৩৪৭৯১৬, জোবায়ের মানিক ০১৬৪৭৪৫১২১৮, সাগুফতা বুশরা মিশমা ০১৬৭২৮৮৭০৮০, মীর শোয়াইব ০১৮১৩৪০৪১৭৫, আরিফ মঈনুদ্দিন ০১৬০৮৯৭১৯১৮, মোহাম্মদ সিফাত হোসাইন ০১৮৬৩৯৮৩৮১৩, সাজ্জাদ উদ্দীন ০১৮২২১১৭৭১০, মিশকাত হোসেন ০১৮৮১৩১৬৪৩০, আকাশ নূর ০১৭০৬৬৬২৭১২, আকরামুল হক ০১৮৩৭০৩১২৩১, আবদুল করিম টিপু ০১৬১২০৬৫৫২৩, আলী নেওয়াজ ইমন ০১৮১৫৩৫৭১৩২, রকিবুল হাসান ০১৫৩৩০২৯৫২৮, মোহাম্মদ আজাদ ০১৬৪৭৪১৫৫২৪ ও আব্দুর রহমান ০১৮৪৩০৭৫৯২৯।