• ই-পেপার

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জরুরি, তবে পরিবেশ নষ্ট করে ইন্ডাস্ট্রি নয় : পরিবেশমন্ত্রী

রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

বাসস
রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।

রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে।

দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা ও ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। রেশন সুবিধা চালু হলে চাপ কমে জীবনযাত্রা সহজ হবে ও দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে। তাই ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থ বিভাগের আওতাধীন এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চিঠিতে প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং তিন মাস অন্তর বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে।

তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেশন সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া।

তিনি বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশন সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে সরকারকে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। অনিয়ম হলে বা প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা না পেলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।’

১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর।

২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

‘রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে’
ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন/ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি মহৎ দায়িত্ব। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে একজন চিকিৎসকের ওপর। তাই চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে মানবিকতা, পেশাগত নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরো সুদৃঢ় করতে হবে। রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান প্রদর্শন করে চিকিৎসা দিলে তা রোগীর মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেও সহায়তা করে।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যাংকিং পেশায় কর্মজীবনের শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। চিকিৎসকদেরও একই মানসিকতা নিয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনা মহামারি, হামের প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকরা দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার বড় উদাহরণ।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকে এ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই মানের সেবা পাওয়ার দাবিদার। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে জনগণের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের বিলম্ব করা যাবে না। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব গুণাবলি বজায় থাকলে চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আরো বেশি সম্মানিত ও আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন।

ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সকর্তবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সকর্তবার্তা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

শনিবার (১১ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কোনো আর্থিক সুবিধা, সম্মানি, ভাতা, অনুদান বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে যদি কেউ ব্যাংক হিসাব নম্বর, ওটিপি, পিন নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য বা অন্য কোনো গোপনীয় তথ্য জানতে চায়, তাহলে সেটি প্রতারণার অংশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের সব ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, ওটিপি, পিন নম্বর বা অন্য কোনো গোপন তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতারণার কোনো চেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ

অনলাইন ডেস্ক
সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মর্যাদাপূর্ণ ‘লেটার অব কমেন্ডেশন্স ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি-২০২৬’ (সমুদ্রে অসাধারণ বীরত্বের জন্য  সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার)-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ।

আগামী ১৪ ডিসেম্বর সংস্থাটির লন্ডনস্থ সদর দপ্তরে  আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। চলতি বছরের শুরুতে কর্ণফুলী চ্যানেলে নিজের জীবন বাজি রেখে দক্ষতার সঙ্গে একটি বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত মহাবিপর্যয় সফলভাবে মোকাবেলা করায় তাকে এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী ১৫৯.৯ মিটারের জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’কে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল জেটিতে ভেড়ানোর (বার্থিং) কাজ করছিলেন আসিফ। জাহাজটিতে ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪,৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস ছিল।

হঠাৎ করেই কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া বিশাল জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। প্রবল স্রোতের টানে মুহূর্তের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দ্রুতগতিতে পার্শ্ববর্তী কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। অত্যন্ত দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থ বোঝাই এই জাহাজের সঙ্গে জেটির সংঘর্ষ হলে একটি ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারত।

বিস্ফোরণের ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক প্রাণহানি, দীর্ঘ সময়ের জন্য চট্টগ্রাম শহরের বাসযোগ্যতা হারানোসহ, বন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি এবং দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক প্রবেশপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসতে পারত।

ওই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্যাপ্টেন আসিফের হাতে ছিল ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। চরম সংকটের মুহূর্তে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি অসীম সাহস ও নিখুঁত পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন তিনি। জাহাজটির গতি রোধ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২টি নোঙর ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে টেক্সটবুক ম্যানুভারিংয়ের বাইরে গিয়ে ২টি নোঙর তুলে ফেলেন।

তার এই দূরদর্শী ও নিখুঁত কৌশলের কারণে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটির গতি কমে যায়। নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে ‘গ্যাস হারমোনি’ জেটি কাঠামো থেকে মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে এসে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে থেমে যায়।

বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের এই অনন্য সাধারণ মেধা, উদ্ভাবন, দৃঢ় মনোবল ও বীরত্ব ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ‘গ্যাস হারমোনি’ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও মালিক পক্ষও তাকে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, আইএমও অসাধারণ বীরত্ব পুরস্কার হলো বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেক্টরের সর্বোচ্চ সম্মাননা। সমুদ্রে নিজের জীবন বাজি রেখে বড় ধরনের বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা রোধে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিকভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ক্যাপ্টেন আসিফের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে।