ওয়াশিংটনের ১৬০০ পেনসিলভানিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিত হোয়াইট হাউস নিছক একটি ভবন বা স্থাপনা নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনটি এখন বিশ্বক্ষমতার কেন্দ্র।
১৭৯২ সালে শুরু হয়ে ১৮০০ সালের ১ নভেম্বর শেষ হয় হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজ। জন অ্যাডামসের পর থেকে সকল মার্কিন প্রেসিডেন্টই থাকছেন স্থাপত্য আর আভিজাত্যে অনন্য এই ভবনটিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক কার্যালয় ওভাল অফিসও এই ভবনেই।
নির্মাণের পর অন্তত দুইবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোয়াইট হাউস। বিভিন্ন সময়ে এ ভবনে নানা সংস্কার হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারকাজে হাত দিয়েছেন। ট্রাম্পের পরামর্শে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংটি ভেঙে পুরোপুরি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। নানা সমালোচনা এবং আইনি বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এ কাজ।
সেখানে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের নতুন গ্লাস-দেয়ালের বলরুম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে ১ হাজার অতিথি ধারণ করা যাবে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই বিশাল সংস্কারকাজ ২০২৮ সালের মাঝামাঝি শেষ হতে পারে। এ ছাড়া ট্রাম্পের পরামর্শে সোনালি সাইনেজ ঝোলানো এবং রোজ গার্ডেন পাকা করার কাজও করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংস্কার মূলত সৌন্দর্যকেন্দ্রিক।তবে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া চলমান সংস্কারকাজটি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক।
মূলত মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনকে আরো নিরাপদ ও সুরক্ষিত করে তুলতে গত সপ্তাহে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এ কাজ শেষ হতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ কিছু সংস্কার ও রঙের কাজও চলছে। এ কাজ অবশ্য দিন দশেকের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস দীর্ঘ দিন ধরে এই পরিবর্তনের পক্ষে সুপারিশ করে আসছিল। এবারের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো হোয়াইট হাউসের উত্তর পোর্টিকোতে অবস্থিত প্রবেশপথটিকে আরো সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা। মেরামত কাজের সুবিধার জন্য প্রবেশপথটির বাইরের দিকের স্তম্ভগুলো মাচা ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
প্রবেশপথকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি স্তম্ভগুলোর পাথর সংস্কার এবং রঙের কাজও করা হচ্ছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন বিশ্বনেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এসে স্তম্ভগুলোতে দরজার দাগ দেখে বলেন, দেখুন, এই সবকিছু মেরামত করা দরকার।’
সম্প্রতি ‘দ্য কেটি মিলার পডকাস্ট’-এ উপস্থিত হয়ে বারগাম বলেন, ‘এটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। আমার মনে হয় এগুলো মাত্র ১০ দিনের মতো সেখানে আছে, তবে এই কর্মীরা খুব দ্রুত কাজ করেন।’
মেরামত কাজ সম্পর্কে এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণ শ্রমিকরা স্তম্ভগুলো থেকে প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো রং তুলে ফেলে সেগুলোকে নতুন করে রং করেছে। তিনি আরো বলেন, স্তম্ভগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল এবং অনেক রাষ্ট্রপতির দ্বারা সেগুলোর সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আগে থেকে ঘোষণা না করা একটি হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস একটি আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরের প্রত্যাশায় ১৩ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে শেষ করেছে এবং বিলের সঙ্গে আরো ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার যোগ করেছে। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিশ্বনেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, যার সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন সফর করার কথা। এ ছাড়া নিরাপত্তা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের আশপাশের এলাকায় অবস্থিত লাফায়েক পার্ক এলাকা ঘিরে ফেলার জন্য নতুন বেষ্টনী বা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের সময় জনসাধারণের জন্য এই পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে শুক্রবার জমা দেওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে থাকা জোড়াতালির অস্থায়ী ব্যারিকেডগুলোর একটি স্থায়ী সমাধান করা, যাকে কর্মকর্তারা বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য ব্যাপক অথচ নমনীয় বেষ্টনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই স্থায়ী বেষ্টনীর উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনে রাস্তাটি বন্ধ করা আরও সহজ করা।
এই নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজগুলো যখন করা হচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। একাধিকবার ট্রাম্পের ওপর হামলাও হয়েছে। এ ছাড়া ইরান ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।




