• ই-পেপার

আরো নিরাপদ, আরো সাদা হচ্ছে হোয়াইট হাউস

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

অনলাইন ডেস্ক
বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২
সংগৃহীত ছবি

শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে হঠাৎ করে খাবার পরিবেশনের সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কারণ, খাসির মাংস খাওয়ানো কথা থাকলেও পাতে দেওয়া হয়েছে মুরগির মাংস! এ নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে বেঁধে গেল তুমুল মারামারি। একপর্যায়ে লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে চালানো এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, অদ্ভূত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের সাহরসা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর শহরে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ জাভেদ ওরফে মোটোর মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তারা জানান, বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা বেশ শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, যখন বরযাত্রীরা খাবারের টেবিলে বসেন। 

এ সময় বরের এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, বিয়ের মেনু্তে তাদের খাসির মাংস খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হলে দেখা যায়, খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বরপক্ষের লোকজন প্রতিবাদ জানালে কনেপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

মুহুর্তের মধ্যেই চরম আকার ধারণ করে উভয় পক্ষের এই মারামারি । পরে কনেপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বরযাত্রীদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সিমরি বখতিয়ারপুরের মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মারামারির বেশ কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। একটিতে দেখা গেছে, উন্মত্ত লোকজন লাঠি দিয়ে অতিথিদের পেটাচ্ছে এবং এমনকি খোলা তলোয়ার উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।

প্রায় ১৪ হাজার গাড়ি ফেরত নিচ্ছে নিশান অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রায় ১৪ হাজার গাড়ি ফেরত নিচ্ছে নিশান অস্ট্রেলিয়া
সংগৃহীত ছবি

জাপানি বহুজাতিক অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিশান। বিশ্বজুড়ে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এসইউভি মডেল নিশান এক্স-ট্রেইল। কিন্তু সেই এক্স-ট্রেইল নিয়েই বিপাকে পড়েছে নিশান অস্ট্রেলিয়া। গাড়ির ব্যাটারির একটি সফটওয়্যার সমস্যার কারণে এক্স-ট্রেইল ই-পাওয়ার মডেলের প্রায় ১৪ হাজার গাড়ি ফেরত (রিকল) নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিশান অস্ট্রেলিয়া।

ফেরত নেওয়ার ঘোষণায় বলা হয়েছে, “লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি কন্ট্রোলারের সফটওয়্যার সমস্যার কারণে গাড়িটি চালানোর সময় অথবা চালক যখন রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ব্যবহার করবেন, তখন এটি ‘ফেইল-সেফ’ মোডে চলে যেতে পারে। এর ফলে গাড়িটি চলনশক্তি হারাতে পারে এবং ব্যাটারি চার্জ হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘চলন্ত অবস্থায় হুট করে শক্তি হারিয়ে ফেলা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা গাড়ির আরোহী এবং পথচারীদের মারাত্মক আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’

২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তৈরি মোট ১৩ হাজার ৭৯৫টি এক্স-ট্রেইল ই-পাওয়ার গাড়ি এই ত্রুটির আওতায় পড়েছে।
বর্তমান চতুর্থ প্রজন্মের এক্স-ট্রেইলের জন্য এটিই প্রথম রিকল। এ ছাড়া গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই জনপ্রিয় এসইউভির ক্ষেত্রে এটি প্রথম রিকল ঘটনা।

এর আগের প্রজন্মের মডেলটি পেছনের দরজার লকের ত্রুটির কারণে ফেরত নেওয়া হয়েছিল। এক্স-ট্রেইল হচ্ছে নিশান অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল, যা চলতি বছরে তাদের প্যাট্রোল অফ-রোডার এবং নাভারা ইউটের চেয়েও বেশি বিক্রি হয়েছে।

নিশান জানিয়েছে, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর মালিকদের সঙ্গে নিশান যোগাযোগ করবে। সফটওয়্যারটি বিনা মূল্যে রিপ্রোগ্রামিং করিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের নিকটস্থ অনুমোদিত নিশান ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এক রাতে রাশিয়ার ২১ ট্যাংকারে ইউক্রেনের হামলা

অনলাইন ডেস্ক
এক রাতে রাশিয়ার ২১ ট্যাংকারে ইউক্রেনের হামলা
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেন এবং রাশিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত আজভ সাগরে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় চালিয়েছে ইউক্রেন। রাতভর চলানো এই হামলায় রাশিয়ার ২১টি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে অবস্থানরত রুশ বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, ট্যাংকারগুলোর পাশাপাশি ৪টি টাগবোট, ২টি কার্গো জাহাজ এবং একটি ড্রেজারেও হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেনের দাবি, এসব জাহাজ রাশিয়ার সামরিক রসদ পরিবহন এবং বন্দর অবকাঠামোকে সহায়তা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ইউক্রেনের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যা
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, ৩৫ বছর বয়সী রাজকুমার প্রথমে নিজের স্ত্রী পার্বতী সরিতা এবং তাদের ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন। 

এরপর তিনি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকেও হত্যা করেন। ওই কিশোরী এর আগে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজকুমার কিশোরীকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। পরে রাজকুমার ওই কিশোরীর মা ও নানিকেও হত্যা করেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীর ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বোন অক্ষত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

সবাইকে হত্যার পর রাজকুমার তার বাবাকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানান। সিনিয়র পুলিশ অফিসার তরুণ জোশী বলেন, “সে তার বাবাকে বলেছিল, ‘আমি এটা করেছি। আমি  সবাইকে হত্যা করেছি।’ এরপর সে তার ফোন বন্ধ করে দেয়। রাজকুমার আরো বলেছিল, সে আত্মহত্যা করবে, কিন্তু তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

তরুণ জোশী আরো বলেন, ‘অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং আমরা সূত্র পেয়েছি। তাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।’

২০১৮ সালের প্রেম-বিবাহ

রাজকুমার ও পার্বতী ২০১৮ সালে প্রেম করে বিয়ে করেন। এই দম্পতি প্রথমে গ্রামের বাইরে থাকতেন এবং পরে শাবাদ ও দেবালাগুড়ায় নিজেদের কেনা বাড়িতে স্থায়ী হন। তাদের তিনটি সন্তান ছিল। তাদের প্রথম সন্তান একটি কন্যা। সেই সন্তান শৈশবেই মারা যায়।

চলতি বছরের মে মাসে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয় এবং রাজকুমার গ্রেপ্তার হন। জোশী বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে তার কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করছিল এবং তার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল।’ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে ২০ হাজার রুপির বিনিময়ে ব্যক্তিগত মুচলেকায় আগাম জামিন দেওয়া হয়েছিল রাজকুমারকে। 

একজন কর্মকর্তা জানান, রাজকুমারের দীর্ঘদিনের আচরণগত সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে দুই-তিনবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। এ ছাড়া তার জুয়া খেলার অভ্যাস ছিল এবং তিনি আগে থেকেই ঋণের বোঝায় ছিলেন।’ পুলিশ এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছে।

‘ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুদের হত্যা’

ঘটনার পর  তার আত্মীয়রা জানান, দুই শিশুকে সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। যে ঘরে পার্বতীর মরদেহ পাওয়া যায়, সেখানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের দাবি, বাড়ির দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার ও কুলার চালু অবস্থায় ছিল।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝগড়ার কথা তারা জানতেন না। আগের সন্ধ্যাতেও পার্বতী স্বাভাবিকভাবে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা কিভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছেন।