• ই-পেপার

মান্দা

টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি

দিনাজপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৪ বাংলাদেশি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৪ বাংলাদেশি
ছবি: কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক নারীসহ চার বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজিবি জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের আকিরাপুর দাইনুর সীমান্তের ৩১৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে এক নারীসহ চারজন বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের বাধা দেন। পরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

বর্তমানে চারজনকে দাইনুর বিওপির শূন্যরেখায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। পুরুষদের একজন প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির তথ্যমতে, আটক চারজনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা হলেন- খুলনা সদর উপজেলার দৌলতপুর কারিকরপাড়া এলাকার মাসুদ মোল্লার ছেলে বাবুল মোল্লা (৫০), তার স্ত্রী মোছা. সুখী মোল্লা (৩৫), তাদের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ মোল্লা (১৫) এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাঁচকামনে গ্রামের মৃত তোরাব মোল্লার ছেলে গণি মোল্লা (৩৫)।

বিজিবির একটি সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে এই চারজন ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য পরিবারের একজন ছিলেন। পরে দেশে ফেরার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে তারা আটক হন এবং সেখানে প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চারজনকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। বিএসএফের সাড়া পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামড়ের পর হাসপাতালে মৃত সাপ নিয়ে হাজির রোগী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
কামড়ের পর হাসপাতালে মৃত সাপ নিয়ে হাজির রোগী
ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ে একই দিনে পৃথক দুই ঘটনায় সাপের কামড়ে আহত হন দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিতে আসার সময় সঙ্গে নিয়ে আসেন তাকে কামড় দেওয়া সাপটিও। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক এন্টিভেনাম দেন। অন্যদিকে একই দিন পাটক্ষেতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আহত আরেক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সাপে কাটা রোগীরা হলেন আটোয়ারী উপজেলার চুচুলী বটতলী এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৬) এবং বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে উমর ফারুক (২০)।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিজ বাড়ির খড়ির ঘরে কাজ করার সময় নজরুল ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে স্বজনরা সাপটি মেরে সেটি সঙ্গে নিয়েই বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সাপটি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে কোবরা সাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে নিশ্চিত হয়ে তাকে তাৎক্ষণিক অ্যান্টিভেনাম দেন। 

একই দিন দুপুরে বোদা উপজেলার একটি পাটক্ষেতে পাট কাটার সময় উমর ফারুক সাপের কামড়ে আহত হন। পরে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর বলেন, শনিবার সাপে কাটা দুজন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে বিষধর সাপ কামড় দিয়েছিল। তাই তাকে অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। অপর রোগী উমর ফারুককে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সোনারগাঁ পৌরসভা পরিদর্শনে এমপি মান্নান

অনলাইন ডেস্ক
নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সোনারগাঁ পৌরসভা পরিদর্শনে এমপি মান্নান
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁ পৌরসভার নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। পৌরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত এবং চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নিতে তিনি এ পরিদর্শন করেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সোনারগাঁ পৌরসভা কার্যালয়ে যান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

এ সময় তিনি পৌরসভার বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নাগরিকদের দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘পৌরবাসী যাতে নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের নাগরিক সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সেবার মান আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং করসহ পৌরসভার সব সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

এ সময় জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা। 

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরের শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার কাটিয়া, কামালনগর, পলাশপোল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড়, সুলতানপুর, বদ্দীপুর কলনি, মধুমল্যার ডাঙি, মাঠপাড়া, মাছখোলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বসতঘরে পানি জমেছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিয়া হল এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু জানান, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক ঠিকমতো চলতে পারছে না। হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো  ব্যবস্থা নেয় না। বাধ্য হয়ে আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প ঘুরে আদালতে বা বড় বাজারে যাতায়াত করছি।’

কাটিয়া এলাকার ফারুক হোসেন সোহাগ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে। পৌরসভার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন খুড়ে রাখলেও কাজ শেষ না করায় বিপাকে পড়েছি আমরা। তিনি বলেন, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রান্না ঘরে পানি জমেছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। পৌরসভার ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত। অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে খাল ও নদী পুনঃখননের পাশাপশি সড়ক সংষ্কার কাজ চলছে।পাশাপাশি শহরের স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হবে। প্রাণসায়ের খালে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে শহরের সব ড্রেন সচল করে ওই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। চলতি বছর  শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশাবাদী তিনি।

একই অবস্থা কলারোয়া, তালা, আশাশুনি উপজেলায়। অতি বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঘের ও পুকুরে পানি বেড়ে মাছ ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জুলফিকার আলী রিপন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এখন বেশ কয়েক দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।