• ই-পেপার

দিনাজপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৪ বাংলাদেশি

বারহাট্টায় ১ হাজার ৯০০ কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ-সার বিতরণ

বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
বারহাট্টায় ১ হাজার ৯০০ কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ-সার বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার বারহাট্টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধান ও শাক-সবজির আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ৯০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (বারহাট্টা-নেত্রকোনা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা, বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মিলকি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, সিনিয়র সহসভাপতি আক্কাছ আলী, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তালুকদার, সদস্য মানিক আজাদ এবং বারহাট্টা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, অতীতে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণে নানা অনিয়ম ছিল। এবার প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি উফশী আমন ধানের বীজ এবং ২০ কেজি বিভিন্ন ধরনের সার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাষাবাদের পুরো সময়জুড়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন।

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। অস্ত্রটি ব্রাজিলের তৈরি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈন্যারটেক পুল এলাকার চার রাস্তার মোড়সংলগ্ন একটি ঝোপে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির সঙ্গে কোনো ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। পিস্তলটির বাট প্লাস্টিকের এবং বডি লোহার তৈরি। এ ছাড়া ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন অক্ষত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ব্রাজিলের টরাস (Taurus) কম্পানির তৈরি ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল। প্রাথমিকভাবে এটি এ-৩ সিরিজের একটি মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও এ ধরনের পিস্তল ব্যবহার করা হয়।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, অস্ত্রটি পূর্বে কোনো থানা থেকে লুট হওয়া কি না, কিংবা কোনো সরকারি সংস্থার বরাদ্দকৃত অস্ত্র কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও তদন্ত চলছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষা ও তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্যহাতি

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্যহাতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি ঢাল থেকে পিছলে পড়ে একটি বন্যহাতি গুরুতর আহত হয়েছে। বন বিভাগ ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলেই হাতিটির চিকিৎসা চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদেরও ডাকা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানান, খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত হাতিটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে এটি মাটিতে শুয়ে রয়েছে এবং খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। বিশেষ করে পেছনের দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগায় সেগুলো নড়াতে পারছে না। এ ছাড়া পেটেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থাকায় হাতিটিকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনাস্থলেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসছেন। হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আবার বনে অবমুক্ত করা হবে।

‘নকলের সুযোগ’ না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

ভোলা প্রতিনিধি
‘নকলের সুযোগ’ না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় নকলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষক, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পরে পেছনের ফটক ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। শিক্ষকরা তা প্রতিহত করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রে ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন, যাদের সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা বাধা দেন। এতে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তিনি আরো জানান, পরীক্ষা শেষে একদল পরীক্ষার্থী সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালায়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের প্রভাব পরীক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। তাদের অভিযোগ, কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’