• ই-পেপার

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

বাসস
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিরা মানবিক বিবেচনায় নিজ দেশে ফিরে বাকি সাজা ভোগের সুযোগ পাবেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাইকমিশন জানিয়েছে, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি শিগগিরই সই ও কার্যকর হবে। এর ফলে দুই দেশের আইনি ও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যা বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও সামাজিক পুনর্বাসনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সে দেশের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে কারাগারে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাইকমিশন জানায়, বর্তমানে মাফুশি কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পোশাক, আবাসন ও সামগ্রিক কারা-পরিবেশের খোঁজ নেন।

পরবর্তীতে মালদ্বীপের কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরে তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমূহ দ্রুত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি আরো বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিরা নিজ দেশে থেকে সাজা ভোগ পারবেন, যা প্রবাসে আটক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে ভারি বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারা দিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুমন জানান, আজ দিনভর প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরো সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় শনিবার (১১ জুলাই) তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন।

অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে নারী ও শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোনোভাবেই বিনষ্টের সুযোগ দেওয়া যাবে না। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান–সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সম্প্রীতির পরিবেশ যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নগরের মেন্দিবাগের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের স্মৃতিচারণা করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন কখনো ভুলব না। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ সিলেটের সম্প্রীতির অনন্য নজির হয়ে থাকবে।

সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবও দেশের ওপর পড়ছে।

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সেখানে আটটি মন্দির ও চারটি শ্মশানঘাটের সংস্কারকাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি জয়ন্তিয়া রাজবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন চন্দ্র ঘোষের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দীপু, সহসভাপতি ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য্য শিবুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫

উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলবে : পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলবে : পরিবেশমন্ত্রী
'দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫' অনুষ্ঠানে পদক প্রাপ্তদের সঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানব কল্যাণ হবে একই পথের সহযাত্রী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক এবং তরুপল্লব আয়োজিত ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন পরিবেশমন্ত্রী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে।”

পদকপ্রাপ্তদের ‘সবুজ ভবিষ্যতের নির্মাতা’ ও ‘নীরব পরিবেশযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই নিষ্ঠা ও উদ্যোগ সমাজজুড়ে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ 

উল্লেখ্য, এবার দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫-এ ভূষিত হয়েছেন—জীববৈচিত্র্য গবেষণায় অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান (নিসর্গ পুরস্কার), টেকসই কৃষি চর্চায় ‘প্রাণবৈচিত্র্য খামার’ (জীববৈচিত্র্য পুরস্কার), তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে মো. বাদশা মিয়া (বৃক্ষসখা সম্মাননা), ডিজিটাল মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে উম্মে কুলসুম পপি (সবুজ সারথী সম্মাননা), প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভিদ গণনায় সুমাইয়া মারিয়ম (নবীন নিসর্গী সম্মাননা) এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব (পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা)। 

অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পরিবেশবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন