• ই-পেপার

গলা কেটে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার পর থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

মাগুরায় ভারি বর্ষণে ধসে গেল কালভার্ট

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় ভারি বর্ষণে ধসে গেল কালভার্ট
ধসে যাওয়া কালভার্ট দেখে হতভম্ব পথচারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা শতখালী সড়কের গোবরা এলাকার একটি পুরাতন কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কটি কিছুদিন আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভারি বর্ষণের এক পর্যায়ে কালভার্টটি ধসে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ হচ্ছিল। বর্ষণের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে গোবরার এই পুরাতন কালভার্টটি ধসে যায়। একই সঙ্গে ধসে যায় কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এটি কিছুদিন আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।

কালভার্টটি স্থানীয় গোবরা খালের উপর অনেক বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল।

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আ. লতিফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার রাতে উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর সাতপুকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আ. লতিফের সঙ্গে তার স্ত্রী জুথি খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জুথি খাতুন অন্যত্র বিয়ে করেন। এ কারণে তাদের মেয়ে বেশিরভাগ সময় তার নানার বাড়ি গোপালপুর পৌরসভার বৈদ্যনাথপুর এলাকায় বসবাস করে এবং মাঝে মাঝে তার বাবার বাড়িতে যাতায়াত করত।  

গত বুধবার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে গভীর রাতে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন আ. লতিফ। সকালে নানার বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তাদের জানায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

পুরনো আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় : আবুল খায়ের এমপি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
পুরনো আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় : আবুল খায়ের এমপি
ছবি: কালের কণ্ঠ

পুরনো আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক অনেক গভীরে বিস্তার করেছে। বর্তমান বাস্তবতায় পুরনো আইন দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে মাদক নির্মূলে কার্যকর ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মধ্যসাগরদী জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজিবিরোধী মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভুঁইয়া এমপি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংসদে নতুন মাদকবিরোধী আইন প্রণয়নের জন্য বিল আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনও করা হচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদিভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

বামনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আইন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, রায়পুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, বামনীতে সম্প্রতি মাদক সেবন, বেচাকেনা, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনের আরো কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর : আজও শুকায়নি ৪৫ পরিবারের ক্ষত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর : আজও শুকায়নি ৪৫ পরিবারের ক্ষত

সময় গড়িয়েছে ১৫ বছর। তবুও ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের সেই দিনটি আজও দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষের জীবনে। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই নিভিয়ে দিয়েছিল ৪৫টি পরিবারের স্বপ্নের প্রদীপ। ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে সড়কের পাশের ডোবায় মিনি ট্রাক উল্টে পানিতে ডুবে মারা যায় ৪৩ জন শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন। একসঙ্গে এত কোমল প্রাণের মৃত্যু শুধু মিরসরাই নয়, স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো দেশকে।

সেদিন দুপুরে মিরসরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপভোগ শেষে গাদাগাদি করে একটি মিনি ট্রাকে বাড়ি ফিরছিল শিশুরা। উপজেলার আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আনন্দমুখর সেই যাত্রা পরিণত হয় হৃদয়বিদারক শোকে।

নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন ছিল মায়ানী ইউনিয়নের আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকিরা মঘাদিয়া ও মায়ানী ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। কেউ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানে। অনেক পরিবারে একমাত্র সন্তান, কোথাও পরিবারের ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসাটুকুও হারিয়ে যায় সেই দিনে।

১৫ বছর পরও অনেক মা সন্তানের স্কুলব্যাগ, বই কিংবা ছবি আগলে রেখে দেন। কেউ এখনও ছেলের ব্যবহৃত পোশাক স্পর্শ করে অশ্রু ঝরান। সন্তান হারানোর সেই বেদনা সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়নি। প্রতিবছর ১১ জুলাই এলেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্না আর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে ‘অন্তিম’ এবং আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ‘আবেগ’ নামে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ। এগুলো শুধু স্থাপনা নয়, হারিয়ে যাওয়া ৪৫টি স্বপ্নের নীরব সাক্ষী।

মিরসরাইয়ের মানুষের কাছে ১১ জুলাই শুধু একটি তারিখ নয়; এটি এক গভীর ক্ষত, যা সময়ের ব্যবধানে শুকালেও স্মৃতির ভেতর আজও রক্তক্ষরণ ঘটায়। ৪৫টি নিষ্পাপ প্রাণের অপূর্ণ স্বপ্ন আর স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস মনে করিয়ে দেয়—একটি দুর্ঘটনা কত শত জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।