• ই-পেপার

শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম

দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ দেওয়ার আহ্বান সাইফুল হকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ দেওয়ার আহ্বান সাইফুল হকের

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। একই সঙ্গে তিনি জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীতে পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এই দাবি জানান সাইফুল হক। পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মহানগর কমিটির সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চুন্নু সিকদার, জামাল সিকদার, সালাউদ্দিন, আরিফুল ইসলাম ও নান্টু দাস।

সভায় সাইফুল হক বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি। ফলে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ ও অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এসব এলাকার লাখো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই দুর্ভোগ মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থান বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে দুর্গত মানুষের উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

ছাত্রদল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

১. সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি গবাদি পশুকেও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি বা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।

৪. আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া পরিবারের বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৫. বন্যা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৬. সব ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৭. কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।

৮. বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।

৯. বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা থাকায় ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।

১০. ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সার্বিকভাবে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সব তথ্য ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনকে চলমান দুর্যোগ ও বন্যায় দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার  রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছে আড়াই হাজার মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চেষ্টা করছে জানিয়েছেন মাহদী আমিন।

পাহাড়ধসে প্রাণহানিতে শোক, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান এনসিপির

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ধসে প্রাণহানিতে শোক, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান এনসিপির
সংগৃহীত ছবি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা চার দিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা, ভয়াবহ পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় শিশুসহ ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আটকে থাকা পর্যটক উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক দিনেই সাত শিশুর অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এ অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি জানায়, টানা ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির সড়কে প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক আটকা পড়ার ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। এনসিপি অবিলম্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আষাঢ়ের প্রথম ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকার পর সাগরে লঘুচাপের কারণে এ ধরনের তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সংকেত। তবুও প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয় রোধে যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি জানায়, চট্টগ্রামকে রক্ষা করতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ করলেই হবে না। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের আওতায় এনে পাহাড়ধসের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। জনস্বার্থে এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।