• ই-পেপার

নাটোরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : জয়নুল আবদিন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : জয়নুল আবদিন
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ-বিভক্তির সুযোগ নিয়ে একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। 

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কানকিরহাট উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নুল আবদিন বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ, বিভক্তি ও বিরোধের কারণে একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম ছিল। সংবিধানকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর সময় পর দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই বর্তমান সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’

জয়নুল আবদিন আরো বলেন, ‘ভুল হলে জনগণের কাছে তা স্বীকার করতে হবে। মানুষ ক্ষমা করে দেবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজসহ বিএনপির উপজেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ী হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ী হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ রানা হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন কুইজবাড়ী পশ্চিমপাড়ার মৃত শওকত আলীর স্ত্রী হনুফা বেগম (৩৮), ছেলে হুমায়ুন (২২), মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৬), বাবু (২৮) ও কুইজবাড়ী দক্ষিণপাড়ার আয়নাল হক (৫৫)।

ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এ হত্যায় সন্দেহভাজন হনুফা বেগমকে আটক করা হয়। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা শুক্রবার (১০ জুলাই) আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, নিহত মাসুদ রানার সঙ্গে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। 

গত ৫ জুলাই ব্যবসায়ী মাসুদ রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মান্দা

টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি
টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের  ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টি ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রাঙ্গণে  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণের ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে। পানিতে ডুবে গেছে ঘরে মেঝে। এতে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারই বাসিন্দাদের তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছে। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারে  নির্ঘুম রাত কাটছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে  ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি।’

এদিকে, আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘বন্যা নয়, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ (শনিবার) পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

মধুপুর গড়াঞ্চলে রোপওয়ে করিডর, কমবে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি

কাজল আর্য, টাঙ্গাইল
মধুপুর গড়াঞ্চলে রোপওয়ে করিডর, কমবে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর গড়াঞ্চল অংশে (পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর) বন্য প্রাণীর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পাঁচটি রোপওয়ে করিডর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্য প্রাণীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও দুর্ঘটনারোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাস্তার দুই পাশের সুউচ্চ গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে এই রোপওয়ে করিডরগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণীরা মাটিতে না নেমেই বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে যাতায়াত করছে।

বন্য প্রাণী গবেষকদের মতে, বর্তমানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এর মধ্যে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্বে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত, আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’-এর বিচরণ ইদানীং মধুপুরের শালবনেও লক্ষ করা গেছে। নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের এই বিরল প্রাণীটি মূলত গাছের মগডালে বা বাঁশঝাড়ে বাস করে। বন সংকোচন ও মহাসড়কের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের পথ সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছিল।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মধুপুর গড়াঞ্চলের বুক চিরে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যসংকট ও বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী প্রাণ হারাত। নতুন এই রোপওয়ে করিডর চালুর ফলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মিত পাঁচটি রোপওয়ে করিডরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের অন্যসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একই ধরনের রোপওয়ে নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্য প্রাণী বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্য প্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বণ্যপ্রাণির মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় রোপওয়ে করিডর নির্মাণের ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। গত জুন মাসে ৫টি রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।