পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘পরিবেশ রক্ষার লড়াই সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার নীতি প্রণয়ন ও আইন প্রয়োগ করতে পারে; কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’
আজ শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)সহ ৩৩টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার।
বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এটি শুধু বনায়ন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।’
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন কোনো আশঙ্কা নয়, এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন ও উপকূলীয় লবণাক্ততা দেশের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত উন্নত ও ধনী দেশগুলো বেশি দায়ী। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার স্থানভিত্তিক বৃক্ষপ্রজাতি নির্বাচন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ, বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং ড্রোন, স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে প্রকল্প হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন ও রি-ওয়াইল্ডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের একার পক্ষে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘পরিবেশকে আমাদের সংস্কৃতি বলে বিবেচনা করতে হবে। বছরের এক দিনকে পরিবেশ সুরক্ষা দিবস হিসেবে বিবেচনা না করে বরং ৩৬৫ দিনকেই পরিবেশ সুরক্ষা দিবস হিসেবে ধরে কাজ করতে হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা, উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও অবকাঠামোও বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধসহ ৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।








