• ই-পেপার

কাভার্ড ভ্যানচাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল ৯ মাসের শিশু

১৯ দিনে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
১৯ দিনে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকা
সংগৃহীত ছবি

১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছে। টাকা গণনা শেষে দানবাক্সে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী গণনা শেষ হওয়ার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্সের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ গণনা অনুষ্ঠিত হয়। মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হলো।

প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কমিটির সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে। প্রাপ্ত অর্থ নির্ধারিত সোনালী ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

এর আগে, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা করা হয়। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরে সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত জুন মাসে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং পুরনো তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। পরবর্তীতে আর্থিক কার্যক্রম আরো স্বচ্ছ করতে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ করবে।

বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে নৌবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে নৌবাহিনী

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় পানিবন্দি হয়ে পড়া চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছে নৌবাহিনী।

শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বিজয় নগর, আকমল আলী রোড, নিউ মুরিং মাদ্রাসা, নারিকেলতলা ও নেভি হাসপাতাল গেট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নৌবাহিনী দল। এ সময় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে বাহিনীর সদস্যরা ২ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়।

মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে নৌবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত নৌবাহিনীর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বান্দরবান

বন্যা পাহাড়ধস বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে জনজীবন বিপর্যস্ত

পানিবন্দি প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

জহির রায়হান, বান্দরবান
বন্যা পাহাড়ধস বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে জনজীবন বিপর্যস্ত
বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় পাহাড়ধসে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে একটি বসতঘরের ওপর। শনিবার সকালে তোলা। কালের কণ্ঠ

টানা সাত দিনের অতিভারি বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং একের পর এক পাহাড়ধসে বান্দরবানের সাত উপজেলাই এখন কার্যত দুর্যোগকবলিত। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আরো প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা। 

বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আবারও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ শনিবার বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি উপজেলা রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়া এবং পাহাড়ধসের কারণে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াতও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আধানির্মিত ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও স্যানিটেশনের সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

জেলা শহরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলানগর, ওয়াপদা সেতু এলাকা, বনানী স'মিল, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা, বালাঘাটা, কালাঘাটাসহ সাঙ্গু নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে লামা ও আলীকদম উপজেলার বহু নিম্নাঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। এসব এলাকার কোথাও কোমর সমান, কোথাও আবার গলা সমান পানি। মানুষ নৌকা, ভেলা কিংবা হেঁটে প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন। সুযোগ বুঝে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে নৌকা ভাড়া।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সরেজমিন বান্দরবান জেলা শহর এবং সদর উপজেলার গোয়ালাখোলা, মাঝেপাড়া, সুলতারপুর, চেমিমুখ, খানসামা, বাঘমারা ও রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উজানের ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যায় শত শত পরিবার পানিবন্দি। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি কোমর থেকে ছাদ সমান পানিতে ডুবে রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে এসব এলাকার কয়েক শ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে।

বন্যার সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে কৃষিতে। বান্দরবান সদর, গোয়ালাখোলা, মাঝেপাড়া, সুলতারপুর, চেমিমুখ, খানসামা, বাঘমারা, রোয়াংছড়ি ছাইঙ্গ্যা, লামা ও আলীকদমের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানির নিচে।

শুধু বসতঘরই নয়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমির আমন ও মৌসুমি ফসল ১০ থেকে ১২ ফুট পানির নিচে। অসংখ্য মাছের ঘের, পুকুর এমনকি লেকও পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাছ ভেসে গেছে, অনেক মাছ মারাও গেছে। এতে কৃষক ও মাছচাষিরা ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে এবং অনেক পরিবার দীর্ঘমেয়াদি খাবার সংকটে পড়বে।

সুয়ালকের আমতলী মারমাপাড়ার কৃষক মংপু মারমা বলেন, আমার পাঁচ কানি বরবটির ক্ষেত পুরো শেষ হয়ে গেছে। তিনটি মাছের ঘেরে প্রায় ৮০ হাজার টাকার পোনা ছেড়েছিলাম। মাছ বড় হয়েছিল। আর ১০ থেকে ১৫ দিন পর বিক্রি করার কথা ছিল। বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। 

খানসামা-পূর্ণবাসনের কৃষক শ্যামল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, প্রায় ১২০০ ফলন্ত পেঁপেগাছ পানির নিচে। তিন কানি সবজির জমিও শেষ। অন্তত ১২-১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে ঋণ শোধের পথও অন্ধকার হয়ে গেছে।

এদিকে বন্যা শুধু ঘরবাড়ি নয়, মানুষের স্বাভাবিক জীবনও থামিয়ে দিয়েছে। ছাইঙ্গ্যা এলাকার বাসিন্দা মো: ইলিয়াস বলেন, পাঁচ-ছয় দিন ধরে পানিবন্দি। ঘরে খাবার নেই। বাজারে যেতে পারছি না।

গোয়ালাখোলার মো. ইদ্রিস বলেন, ছোট মেয়েটা দুই দিন ধরে অসুস্থ। চারদিকে পানি। নৌকা ভাড়াও অনেক বেশি। আমি দিনমজুর। এক সপ্তাহ ধরে কাজ নেই। মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার টাকাও নেই।

একই অবস্থা লামা ও আলীকদম উপজেলায়। আলীকদমের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, মাতামুহুরী নদীর দুই পাড়ে শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কয়েক শ মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। শত কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছি।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানি কমলে ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পাড়াপ্রধানদের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়লেন ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র

নোয়াখালী প্রতিনিধি
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়লেন ২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র
ছবি : এআই দিয়ে প্রস্তুত করা

নোয়াখালীর মাইজদীতে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দুই পরীক্ষার্থী স্বর্ণালংকার, পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়েছেন। এ ঘটনায় তারা নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ভুক্তভোগীরা হলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা (১৯) ও প্রাহিমা আক্তার শশী (১৯)। তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল সোনাপুর কলেজ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাইজদী শহরের মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাঈমা ও প্রাহিমা একই এলাকার বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সকালে তারা পরীক্ষা দিতে সোনাপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের অচেতন করে ফেলে। পরে তাদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার এবং সঙ্গে থাকা পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, পরে সিএনজিচালক অচেতন অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীকে রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।