• ই-পেপার

গত ৬ মাসে ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

আদর্শ শিক্ষক ছাড়া আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব নয় : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
আদর্শ শিক্ষক ছাড়া আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব নয় : রিজভী

আদর্শ শিক্ষক ছাড়া আলোকিত সমাজ গড়া সম্ভব নয়, মানসম্মত শিক্ষার অভাবই নৈতিক অবক্ষয় ও মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আয়োজিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। কিন্তু দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের অভাবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে পড়ছে।

রিজভী বলেন, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং পেশার প্রতি আগের মতো দায়বদ্ধতা না থাকায় শিক্ষার মান ক্রমেই কমে যাচ্ছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক ছাড়া কখনোই আলোকিত ও মানবিক শিক্ষার্থী তৈরি করা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্বহীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক কর্মসূচির সুফল সাধারণ শিক্ষার্থী পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। বিশেষ করে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের খাদ্য নিয়ে যারা অনিয়ম করে তারা মানবতার শত্রু।

রিজভী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘুষের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত ও স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানান।
 

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. পাভেলকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে ডা. পাভেলের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় অধ্যাপক পাভেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালনে আকস্মিক জটিলতা জনিত কারণে অধ্যাপক ডা. পাভেল বর্তমানে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও অধ্যক্ষ। চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম বিশিষ্ট এই সার্জন দেশে-বিদেশে তার অসামান্য অবদানের জন্য সুপরিচিত এবং ‘সার্ক আইকন অব সার্জন’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিরল ‘কমলাবতী’ সাপের সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়ল কিভাবে?

বিবিসি বাংলা
বিরল ‘কমলাবতী’ সাপের সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়ল কিভাবে?

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর আগে প্রথমবারের মতো দেখা মেলে কোরাল রেড কুকরি বা কমলাবতী নামের সাপটির, যেটিকে বিশ্বে বিরল বলে মনে করা হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে উত্তরাঞ্চলে এই সাপ যে পরিমাণে দেখা গেছে, সেই সংখ্যাকে বিস্ময়কর বলছেন কেউ কেউ।

কমলাবতী নামটি আভিধানিক না হলেও গায়ের রঙের কারণেই স্থানীয়ভাবে ও গবেষকদের কাছে এই নামে পরিচিত সাপটি। লালচে কমলা রঙয়ের সাপটির মাথা অন্য সাপের চেয়ে বেশ আলাদা। এই সাপের প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ওলিগোডন খেরিনসিস (Oligodon Kheriensis)।

গবেষকরা জানান, এই প্রজাতির সাপ দৈর্ঘ্যে খুব বড় হয় না। প্রথম যেবার বাংলাদেশে এই সাপ পাওয়া যায়, তখন সেটি আড়াই ফুটের কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের ছিল। এবার প্রায় সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের কমলাবতী সাপ পাওয়া গেছে বলে জানান উদ্ধারকারীরা।

১৯৩৬ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রথম আবিষ্কারের পরও সারা বিশ্বে এই সাপ দেখা যাওয়ার রেকর্ড খুব কম ছিল। ভারতের হিমালয় অঞ্চলের এই সাপটিকে শুধু উত্তর ভারত ও নেপালে দেখা যেত।

তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর দেখা পাওয়ার পর এটি তালিকাভুক্ত করা হয় বলে একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারা পৃথিবীতে মাত্র ২২ থেকে ২৩ বার দেখা মেলার কথা গবেষকরা জানালেও সাপ উদ্ধারকারী বলছেন, এই সংখ্যা এখন বেশি।

22

বাংলাদেশে ২০২১ সালে যিনি এই সাপ উদ্ধার করেছেন তিনি হলেন মো. শহীদুল ইসলাম। ওই বছরের পর থেকে এখন পর্যন্ত শিশু ও পূর্ণবয়স্ক ৬৬টি সাপ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে একই জেলায় তিনি ছাড়াও আরো দুইজন এই প্রজাতির কয়েকটি সাপ পেয়েছেন, কিন্তু সেগুলোর তথ্য নথিভুক্ত নেই বলে উল্লেখ করেন শহীদুল।

তিনি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি।

শহীদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘২০২১ সালে প্রথম পাওয়ার পর থেকে গত কয়েক বছরে ৬৬টা সাপ পায়েছি। এর মধ্যে ১২-১৩টা বাচ্চা, বাকিগুলা পূর্ণবয়স্ক। প্রথমে পঞ্চগড়ে পেলেও পরে ঠাকুরগাঁওয়ে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই পঞ্চগড়ে ছিল।’

তবে কেন বাংলাদেশে এই সাপ আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে গবেষণার প্রয়োজন বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ভেনম রিসার্চ সেন্টারের ইনভেস্টিগেটর ও সুপারভাইজার অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

সাপের অন্যান্য প্রজাতির ওপর গবেষণার তথ্য থেকে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সাপের স্বাভাবিক গতিবিভি বাভাপ্রাপ্ত হলে এরা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক স্থানে ‘মাইগ্রেশন’ করে বা নতুন বসতি গড়ে তোলে।

হিমালয় অঞ্চলের সাপ উত্তরবঙ্গে

সম্প্রতি ৫ ও ৬ জুলাই দুইটি কোরাল রেড কুকরি বা কমলাবতী সাপ পাওয়া গেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায়। সেখানকার চৌরঙ্গী বাজার নামে একটি গ্রামের ক্ষেতে মাছ ধরার জন্য দেওয়া রিং জালে এই সাপ ধরা পড়েছে বলে জানান ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সাপ উদ্ধারকারী শহীদুল ইসলাম।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যতগুলো কোরাল রেড কুকরি সাপ পেয়েছেন তার মধ্যে ছয়ই জুলাই পাওয়া সাপটি সবচেয়ে বড়।

উদ্ধারের বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এই সাপ তাদের কাছে অপরিচিত মনে হয়েছে। লাল সাপ তারা জীবনেও দেখেনি, বাঁচানোর জন্য আমাকে ফোন দিয়েছে।’

তিনি জানান, এরকম যতগুলো সাপ পাওয়া গেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই পঞ্চগড়ের বোদা ও আটোয়ারি উপজেলা থেকে।

এর আগে বাঁশঝাড় বা বিভিন্ন ভবন খোঁড়ার সময় এই সাপটির দেখা মিললেও এবারই ফসলের ক্ষেতে, পানির কাছাকাছি দেখা গেল এটিকে। শহীদুল বলছেন, খাবারের সন্ধানে হয়তো সেখানে গিয়ে থাকতে পারে সাপটি।

এর আগে ২০২৩ সালের ২১ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলায় বাঁশঝাড়ের মাটি খনন করতে গিয়ে মা সাপসহ আটটি কমলাবতী সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কখনো ডিম পাইনি, চেষ্টা করছি কয়টা ডিম পাড়ে বোঝার জন্য। তবে একবার আটটি সদ্য প্রস্ফুটিত বাচ্চা পেয়েছিলাম, একটা মৃত ছিল। সেখান থেকে ধারণা করেছি, এই সাপ একসাথে ৮ থেকে ১০/১২টা ডিম পাড়ে।’

কোরাল রেড কুকরির বৈশিষ্ট্য

২০২১ সালে প্রথম এই সাপ বাংলাদেশে উদ্ধারের পর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অফ এশিয়া-প্যাসিফিক বায়োডাইভারসিটি’তে ‘ফার্স্ট রেকর্ড অফ দ্য কোরাল রেড কুকরি স্নেক ওলিগোডন খেরিনসিস ফ্রম বাংলাদেশ’ শীর্ষক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরীসহ তিনজন গবেষক এই আর্টিকেলটি লিখেছেন।

66

এই সাপটি নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব কমই তথ্য পাওয়া যায় এবং এর বায়োলোজি নিয়ে গবেষণা নেই বলে উল্লেখ করেন ড. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

সাপটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা কমলা রংয়ের সাপ। নরম মাটির নিচে থাকে। খুবই লজ্জাবতী ধরনের। কমলাবতী নামটি এসেছে এর রং থেকে, গবেষকরাই দিয়েছেন।’ দৈর্ঘ্যে খুব এই বেশি বড় আকারের হয় না বলেও জানান তিনি।

‘এই সাপটি গ্রুপে থাকে না, সে এককভাবে থাকতে খুব পছন্দ করে’ এবং এই প্রজাতির সাপ মূলত ‘নন-ভেনোমাস’ বা বিষাক্ত নয় বলেও জানান এই গবেষক।

এর খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন, জীবনকাল সম্পর্কে তথ্য খুব কম। তবে সাপটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি মনে করেন। সাপটি এখনো ন্যূনতম উদ্বেগজনক, সংকটাপন্ন, অতি সংকটাপন্ন কোন তালিকায় পড়বে সেটি আইইউসিএনের তালিকাভুক্ত হয়নি।

প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রাণীকে নয়টি ক্যাটাগরিতে আইইউসিএন এই ‘রেডলিস্ট’ তৈরি করে। ২০২৬ সালের এই রেডলিস্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইইউসিএনের তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে এই কোরাল রেড কুকরি সাপটি কোন ক্যাটাগরিতে সেটি বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে কেন বেশি পরিমাণে দেখা যাচ্ছে এই সাপ?

বাংলাদেশে ৬৬টি কোরাল রেড কুকরি সাপ পাওয়ার তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন গবেষক আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী।

তিনি বলছিলেন, বাংলাদেশে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্ধারকারী শহীদুল ইসলাম প্রথম সাপটির হদিস পেলেও এর আগেও বাংলাদেশে এই সাপের খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নথিভুক্ত না থাকায় দেশের সাপের তালিকায় সেটি আসেনি।

কিন্তু ২০২১ সালে পাওয়ার পর এটি দেশের ১০৩ তম সাপ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

কেন হিমালয় অঞ্চলের সাপটি উত্তরাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এবং এর সংখ্যা বাড়ছে কেন- এমন প্রশ্নে অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, অনুমান করে বলাটা কঠিন।

তবে বাংলাদেশের ৩১টি সাপ নিয়ে করা তার আরেকটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন তিনি, যেটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেই গবেষণায় তিনি দেখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যাসহ নানা কারণ সাপকে তার গতিবিধিসহ অভ্যাস বদলাতেও বাধ্য করে।

অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ‘ওদের ওপরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরাট প্রভাব পেয়েছি, বন্যার প্রভাব পেয়েছি। প্রতি বছর বন্যা কিন্তু বাড়ছিল।’

মানুষের কারণে সাপের আবাসস্থল, অভ্যাসগত ও আচরণগত পরিবর্তন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে সাপ তার পছন্দসই স্থানে ‘মাইগ্রেশন’ করে।

এই গবেষক বলেন, ‘যেখানে বন থাকার কথা সেখানে বিল্ডিং তুলে ফেলতেছি। এই ধরনের বিষয়গুলোর কারণে বেশিরভাগ প্রাণীর স্থানান্তর দেখা যায়। এটা হচ্ছে নরমাল মাইগ্রেশন বা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যায়।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জেলা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই সাপটি এখানে সহজে চলাচল করতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলছিলেন, বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গেই মূলত সাপটির দেখা যাওয়ার কারণ ওই এলাকা উঁচু ভূমি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওই অঞ্চলগুলো থেকে হিমালয় থেকে বেশি দূরে নয়, মনে করেন একশ বা দুইশো কিলোমিটার। পরের অংশগুলো জলাভূমি, নিচু বেসিন। তাই উঁচু ভূমিতেই তাদের পাওয়া যায়।’

অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর লেখা আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আসামের কোঁকরাঝাড়, ভারতের মেঘালয়ের পশ্চিম গারো পাহাড়, নেপালের হিমালয় অঞ্চল, দক্ষিণ-মধ্য নেপালের চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক, পশ্চিমের শুক্লাফান্তা ন্যাশনাল পার্ক এবং বারদিয়া ন্যাশনাল পার্ক দক্ষিণ-পূর্ব নেপালের ঝাঁপাও এবং বাংলাদেশের জেলা পঞ্চগড়ে এই সাপটির দেখা মিলেছে।

পরিবেশ রক্ষার লড়াই সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় : পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ রক্ষার লড়াই সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় : পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘পরিবেশ রক্ষার লড়াই সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার নীতি প্রণয়ন ও আইন প্রয়োগ করতে পারে; কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

আজ শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন : আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)সহ ৩৩টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এটি শুধু বনায়ন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।’

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন কোনো আশঙ্কা নয়, এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন ও উপকূলীয় লবণাক্ততা দেশের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত উন্নত ও ধনী দেশগুলো বেশি দায়ী। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার স্থানভিত্তিক বৃক্ষপ্রজাতি নির্বাচন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ, বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং ড্রোন, স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষাকে প্রকল্প হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন ও রি-ওয়াইল্ডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের একার পক্ষে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ কাজে সরকারের পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘পরিবেশকে আমাদের সংস্কৃতি বলে বিবেচনা করতে হবে। বছরের এক দিনকে পরিবেশ সুরক্ষা দিবস হিসেবে বিবেচনা না করে বরং ৩৬৫ দিনকেই পরিবেশ সুরক্ষা দিবস হিসেবে ধরে কাজ করতে হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা, উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও অবকাঠামোও বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধসহ ৭টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।