উজবেকিস্তানের সমরকন্দে ইসলামী সভ্যতা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘ইসলামিক সিভিলাইজেশন : দ্য পাথ অব পিস, টোলারেন্স, অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্ট’ শীর্ষক এ সম্মেলনে ইমাম বোখারি (রহ.), ইমাম তিরমিজি (রহ.) ও ইমাম মাতুরিদি (রহ.)-কে নিয়ে বিশ্বের ৪০টি দেশের তিন শতাধিক খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও বরেণ্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
‘ইমাম আল-বোখারিস আল-জামি আস-সহিহ : দ্য বুক অব দ্য উম্মাহ’ শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিন সমরকন্দ ঘোষণাপত্র ও সুপারিশ ঘোষণা করা হয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মির্জিয়োয়েভের সভাপতিত্বে এ ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন আইসেসকোর সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগের পরিচালক খালিদ ফাতালরহমান।
শুক্রবার (১০ জুলাই) আয়োজক সংস্থা আইসেসকো এক বিবৃতিতে সম্মেলনের ঘোষণা ও সুপারিশ তুলে ধরে।
ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেসকো)-এর আয়োজনে এবং তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টার ও ইমাম বোখারি ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারের যৌথ সহায়তায় এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পবিত্র কোরআনের পর নবী (সা.)-এর সুন্নাহ হলো আইনের দ্বিতীয় উৎস এবং এ দুটি অবিচ্ছেদ্য। এতে হাদিসের ইতিহাস বিষয়ক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয় এবং গবেষকদের বিভিন্ন প্রকার হাদিস অধ্যয়ন করতে ও নবী (সা.)-এর হাদিস সম্পর্কে কিছু লোকের করা দাবি খণ্ডন করতে উৎসাহিত করা হয়।
তা ছাড়া ঘোষণাপত্রে হাদিস অধ্যয়নের পদ্ধতি নবায়ন এবং যুক্তির খণ্ডনে প্রমাণের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
তাতে আরো বলা হয়, পবিত্র হাদিসের অধ্যয়ন কেবল এর আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সভ্যতার মূল্যবোধগুলোকেও তুলে ধরে।
এদিকে ইসলামী বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে সহিহ আল-বুখারির প্রচলনের ফলে সাংস্কৃতিক ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ আদান-প্রদান তুলে ধরার লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘আল-বোখারি রুট’ চালু করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়াও ইসলামী সভ্যতার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকে উৎসর্গ করে একটি দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সম্মেলনটি ইমাম মুসলিম ও তাঁর সহিহ গ্রন্থের জন্য উৎসর্গ করা হবে।
সম্মেলনে ঘোষিত সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে, আন্তর্জাতিক আল-বুখারী পুরস্কার প্রবর্তন; ইমাম আল-বুখারি, তাঁর শিক্ষক, ছাত্র এবং তাঁর গ্রন্থের ওপর একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্বকোষ প্রকাশ; সহিহ আল-বুখারি শিক্ষাদানের জন্য নিবেদিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান এবং ইনস্টিটিউটের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা; ইমাম আল-বুখারির জীবনের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ; জ্ঞান অন্বেষণ এবং হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর যাত্রার বিবরণ নিয়ে একটি বই প্রকাশ।
একইসঙ্গে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত নবীর সেই হাদিসগুলো নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা যেখানে মহৎ নৈতিক মূল্যবোধের বিবরণ রয়েছে। তা ছাড়া তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টারের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ইমাম আল-বোখারি এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের রয়েল কোর্টের উপদেষ্টা, কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্স-এর সদস্য এবং মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ, আইসেসকো-এর মহাপরিচালক ড. সালিম এম আল-মালিক, উজবেকিস্তানের মুসলিম বোর্ডের চেয়ারম্যান নুরিদ্দিন খালিকনাজারভসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।




