• ই-পেপার

উজবেকিস্তানে ইমাম বোখারি (রহ.)-কে নিয়ে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

চেহারা না দেখিয়ে নারীর জন্য ভিডিও বানানো কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
চেহারা না দেখিয়ে নারীর জন্য ভিডিও বানানো কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অসংখ্য নারী চেহারা প্রকাশ না করে শুধু কণ্ঠ ব্যবহার করে, কিংবা হাত দেখিয়ে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করছেন। কেউ শিক্ষা দিচ্ছেন, কেউ রান্না শেখাচ্ছেন, কেউ দ্বীনি আলোচনা করছেন, আবার কেউ এসবের মাধ্যমে অর্থও উপার্জন করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— নারী যদি চেহারা প্রকাশ না করেন, শুধু কণ্ঠে কথা বলেন কিংবা হাত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করেন, তবে তা কি শরীয়তসম্মত? এবং এভাবে অর্জিত অর্থ কি হালাল?

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী-পত্নীরা! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না; তাহলে যার অন্তরে রোগ আছে, সে লোভে পড়বে। বরং তোমরা সংযত ও শালীন কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩২)

এ আয়াত থেকে ফোকাহায়ে কেরাম বলেন, নারীর কথা বলা মূলত নিষিদ্ধ নয়; তবে এমনভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ, যা ফিতনার কারণ হতে পারে। হানাফি ফিকহের গ্রহণযোগ্য মত হলো— নারীর কণ্ঠ নিজে সতর নয়। এজন্য নারী-সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতেন এবং অনেক পুরুষ সাহাবিরাও তাঁদের কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে ফিতনার আশঙ্কার কারণে ফোকাহয়ে কেরাম এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

শরীয়ত প্রয়োজনে নারীর কথা বলাকে বৈধ করেছে। যেমন— মাসআলা জিজ্ঞাসা করা, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক লেনদেন, সাক্ষ্য প্রদান এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন। কিন্তু নিয়মিত জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদান, বিনোদনমূলক উপস্থাপনা বা অনুসারী বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কণ্ঠ প্রচার—এসব ক্ষেত্রে ফিতনার সম্ভাবনা থাকাটা স্বাভাবিক। তাই তা পরিহারযোগ্য। আর শুধু চেহারা গোপন রাখলেই শরীয়তের পর্দার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। যদি ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে নারী নিজেই দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যান এবং এতে ফিতনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তবে তা শরীয়তের পর্দার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামী শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো— ‘সাদ্দুজ জারায়ে’ অর্থাৎ, যে বৈধ কাজ হারামের দিকে পৌঁছে দেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, প্রয়োজনে সেই পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইমাম কারাফী (রহ.) বলেন, ‘হারামের দিকে পৌঁছে দেয় এমন বৈধ মাধ্যমকেও শরীয়ত অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে।’ (আল-ফুরূক, ২/৩৩)

বর্তমানে বেশিরভাগ ইউটিউব চ্যানেলের আয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসে। বাস্তবে এসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই থাকে— গান-বাজনা, অশালীন দৃশ্য, সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রচার, হারাম পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং শরীয়তবিরোধী বিভিন্ন বিষয়। যেহেতু সাধারণ ব্যবহারকারী এসব বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তাই বহু সমসাময়িক ফকিহ এ ধরনের আয়কে সন্দেহযুক্ত অথবা অনেক ক্ষেত্রে নাজায়েজ বলে মত দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ছবি নির্মাতারা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫০)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘প্রাণীর ছবি অঙ্কন হারাম হওয়ার বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। তা কাপড়ে, দেয়ালে, মুদ্রায় বা অন্য যেকোনো স্থানে হোক; কারণ এতে আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়।’ (শারহু সহিহ মুসলিম, ১৪/৮১)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওকে ঐতিহ্যগত চিত্রাঙ্কনের একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এ বিষয়ে সমসাময়িক ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ অংশে ইজমা তথা ঐকমত্য দাবি করা যাচ্ছেনা। কেননা ইসলাম বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। প্রয়োজন দেখা দিলে নারী— প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবেন, দ্বীনি মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারবেন এবং শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারবেন। এর প্রমাণ সাহাবিয়াদের জীবন ও বহু সহিহ হাদিসে বিদ্যমান। তবে এসব হবে প্রয়োজনসীমার মধ্যে, শালীনতা বজায় রেখে এবং ফিতনার আশঙ্কা থেকে মুক্ত অবস্থায়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)

তাই ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নারীর জন্য নিজেকে এমন সব উপায় থেকেও দূরে রাখা, যা ধীরে ধীরে ফিতনা, অশ্লীলতা বা গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। 

বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়
সংগৃহীত ছবি

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস কিংবা অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে কঠিন পরীক্ষা হয়ে আসে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। এমন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। একজন মুমিন নিজের স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসবেন—এটাই ইসলামের শিক্ষা। অসহায় মানুষের চোখের অশ্রু মুছে দেওয়া, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিপদে সাহস জোগানো—এসব কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা করা তাকওয়ার পরিচয় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)
বন্যা ও দুর্যোগের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক কিংবা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষের উপকার করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।’ (তাবারানি, হাদিস : ৫৭৮৭)
অতএব, দুর্যোগে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এগিয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ।

মুমিনরা পরস্পরের ভাই : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)
আর ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

অন্যের কষ্ট দূর করার প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)
তাই বলা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কাজ করবে, আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

দান-সদকার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়; প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬১)
তাই দুর্যোগে দেওয়া একটি খাবারের প্যাকেট, একটি কম্বল বা সামান্য অর্থও আল্লাহর কাছে অমূল্য হয়ে যেতে পারে।

রহমত লাভের অন্যতম উপায় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করে, পরম দয়ালু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪)
তাই অসহায় মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

শুধু অর্থ নয়, যেকোনো সহযোগিতাই সদকা : অনেকে মনে করেন, অর্থবানরাই শুধু সহযোগিতা করতে পারেন। অথচ ইসলাম বলে, সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতাই সদকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৫)
অতএব, খাদ্য বিতরণ, উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ, অসুস্থদের সেবা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, এমনকি সান্ত্বনার একটি বাক্যও আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ। একজন সত্যিকারের মুমিন কখনো অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, কারণ তিনি জানেন—মানুষের সেবা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ।

আসুন, আমরা সবাই বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, শ্রম, সময় কিংবা আন্তরিক দোয়া—যে যেভাবে পারি সহযোগিতা করি। মনে রাখতে হবে, আজ আমরা অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ালে, কাল আমাদের বিপদের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও সাহায্য দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চার আলেম

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চার আলেম
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের চার শীর্ষ আলেম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন। আগামী ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিলিস্তিনের জন্য আলেমদের সম্মেলন’। ফিলিস্তিন ও পবিত্র কুদস ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে আলেমদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিন।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন দেশের চার বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন—জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, রাজধানীর মুহাম্মদপুরস্থ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রধান মুফতি মাওলানা হিফজুর রহমান এবং বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি আলেমদের ভিসা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার।

তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে পাঠানো হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিনের সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ও কুদস প্রশ্নে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে চিঠিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশি আলেমদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের (দিয়ানেত) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

আশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আলেমদের অংশগ্রহণ ফিলিস্তিন ও কুদস ইস্যুতে বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে এবং মুসলিম বিশ্বের আলেমদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাদিসের বাণী

এক পেয়ালা দুধে অবিশ্বাস্য বরকত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এক পেয়ালা দুধে অবিশ্বাস্য বরকত
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই, আমি ক্ষুধার তাড়নায় মাটির সঙ্গে গড়াগড়ি করতাম এবং পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। এভাবে একদিন আমি মানুষের চলার রাস্তায় বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর মহানবী (সা.) এসে আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি আমার মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমার পেছনে পেছনে আসো। আমি তাঁর পিছু পিছু তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করার পরে আমার প্রবেশের অনুমতি (তাঁর স্ত্রীদের কাছে) চাইলেন। তারা আমাকে অনুমতি দিলে আমি প্রবেশ করলাম।

মহানবী (সা.) ঘরে ঢুকে এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাস করলেন, এ দুধ আসলো কোথা থেকে? জবাবে তারা বললেন, অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, আবু হির, (হে আবু হুরাইরা) আমি বললাম, লাব্বাইক (আমি উপস্থিত) ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, সুফফাবাসীদের কাছে গিয়ে তাদের ডেকে নিয়ে আসো। আর আহলে সুফফারা ইসলামের মেহমান ছিলেন, তাঁদের কোনো থাকার মতো ঘর-বাড়ি ছিল না। তাদের কোনো পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ কিছুই ছিল না।

মহানবী (সা.)-এর কাছে কোনো সাদাকাহের জিনিস এলে, তিনি তা সুফফাবাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সাদাকাহ থেকে মহানবী (সা.) কখনোই কোনো কিছু নিতেন না। আবার কোনো কিছু হাদিয়া আসলেও তিনি সেটা তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। হাদিয়ার জিনিস থেকে মহানবী (সা.) নিজে গ্রহণ করতেন এবং অন্যকেও দিতেন। তো, তিনি আমাকে সুফফাবাসীকে ডাকার জন্য বললেন। তখন আমার মনে সংকোচ হলো।

আমি (মনে মনে) বললাম, এই অল্প দুধ সবার জন্য কি যথেষ্ট হবে? তা ছাড়া এই দুধের অধিক হকদার হলাম আমি। এই দুধ পান করে একটু শক্তিশালী হবো। আহলে সুফফারা উপস্থিত হওয়ার পর, তাদের পান করার জন্য মহানবী (সা.) আমাকে আদেশ করবেন। তারপর তাদের পান করানোর পরে কতটুকুই-বা বাকি থাকবে! তা ছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথা মানা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।

তাই আমি তাদের কাছে এসে তাদের ডাকতে লাগলাম। তারা এসে অনুমতি চাইল, অনুমতি পেয়ে সবাই নিজ-নিজ জায়গায় বসে পড়লেন। এবার মহানবী (সা.) বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, পাত্রটি নিয়ে তাদের একেকজনকে দাও। ফলে আমি এক-একজনকে দিতে লাগলাম। প্রথমজন তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি ফেরত দিলেন। অতঃপর আমি অন্য একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এরপরে আরেকজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এভাবে সবার পালা শেষ করে আমি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে উপস্থিত হলাম। সবাই তৃপ্তিসহকারে পান করতে পেরেছে। এরপরে মহানবী (সা.) পাত্রটি নিয়ে তাতে নিজ হাত রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, এখন তো তুমি আর আমি বাকি। আমি বললাম, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।

মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, তুমি এবার বসে পান করতে থাকো। আমি বসে-বসে পান করতে লাগলাম। তিনি আবার বললেন, পান করো। ফলে আমি আবার পান করতে থাকলাম। তিনি আমাকে বারবার পান করার কথা বললে আমি বললাম, আর পারছি না। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, পান করার মতো আমার পেটে আর কোনো জায়গা ছিল না। অবশেষে তিনি বললেন, পাত্রটি আমাকে দেখাও। আমি পাত্রটি মহানবী (সা.)-এর কাছে দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে 'বিসমিল্লাহ' বলে বাকি দুধ পান করে নিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৫২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১০৬৭৯)