• ই-পেপার

আগামীকাল সুন্দরবনে যাচ্ছে বাঘিনী

সিলেটে সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে মিনহাজ উদ্দিন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। 

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাখাট স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনহাজ গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ভাদেশ্বর গ্রামের কমর উদ্দিনের ছেলে। তবে ঘটনার সময় ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে গিয়েছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মিনহাজ উদ্দিন উপজেলার সোনারহাট-লাখাট সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের লাখাট স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করলে খাসিয়ারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে তার সঙ্গীরা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিনহাজ উদ্দিন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য এনে দেশে বিক্রি করতেন। তবে ঘটনার সময় তিনি কী কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা নিহতের বাড়িতে যাই এবং বিষয়টি পুলিশ ও বিজিবিকে অবহিত করেছি।’

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘খাসিয়ার গুলিতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর ফায়াজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারিসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : জয়নুল আবদিন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : জয়নুল আবদিন
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ-বিভক্তির সুযোগ নিয়ে একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। 

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কানকিরহাট উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জয়নুল আবদিন বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ, বিভক্তি ও বিরোধের কারণে একটি দল দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম ছিল। সংবিধানকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর সময় পর দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই বর্তমান সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’

জয়নুল আবদিন আরো বলেন, ‘ভুল হলে জনগণের কাছে তা স্বীকার করতে হবে। মানুষ ক্ষমা করে দেবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজসহ বিএনপির উপজেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ী হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ী হত্যা, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কুইজবাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ রানা হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন কুইজবাড়ী পশ্চিমপাড়ার মৃত শওকত আলীর স্ত্রী হনুফা বেগম (৩৮), ছেলে হুমায়ুন (২২), মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৬), বাবু (২৮) ও কুইজবাড়ী দক্ষিণপাড়ার আয়নাল হক (৫৫)।

ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এ হত্যায় সন্দেহভাজন হনুফা বেগমকে আটক করা হয়। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা শুক্রবার (১০ জুলাই) আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, নিহত মাসুদ রানার সঙ্গে এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। 

গত ৫ জুলাই ব্যবসায়ী মাসুদ রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মান্দা

টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি
টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের  ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টি ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রাঙ্গণে  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণের ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে। পানিতে ডুবে গেছে ঘরে মেঝে। এতে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারই বাসিন্দাদের তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছে। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারে  নির্ঘুম রাত কাটছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে  ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি।’

এদিকে, আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘বন্যা নয়, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ (শনিবার) পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’