• ই-পেপার

চেহারা না দেখিয়ে নারীর জন্য ভিডিও বানানো কি জায়েজ?

উজবেকিস্তানে ইমাম বোখারি (রহ.)-কে নিয়ে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
উজবেকিস্তানে ইমাম বোখারি (রহ.)-কে নিয়ে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

উজবেকিস্তানের সমরকন্দে ইসলামী সভ্যতা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘ইসলামিক সিভিলাইজেশন : দ্য পাথ অব পিস, টোলারেন্স, অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্ট’ শীর্ষক এ সম্মেলনে ইমাম বোখারি (রহ.), ইমাম তিরমিজি (রহ.) ও ইমাম মাতুরিদি (রহ.)-কে নিয়ে বিশ্বের ৪০টি দেশের তিন শতাধিক খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও বরেণ্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‘ইমাম আল-বোখারিস আল-জামি আস-সহিহ : দ্য বুক অব দ্য উম্মাহ’ শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিন সমরকন্দ ঘোষণাপত্র ও সুপারিশ ঘোষণা করা হয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মির্জিয়োয়েভের সভাপতিত্বে এ ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন আইসেসকোর সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগের পরিচালক খালিদ ফাতালরহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আয়োজক সংস্থা আইসেসকো এক বিবৃতিতে সম্মেলনের ঘোষণা ও সুপারিশ তুলে ধরে।

ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেসকো)-এর আয়োজনে এবং তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টার ও ইমাম বোখারি ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারের যৌথ সহায়তায় এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পবিত্র কোরআনের পর নবী (সা.)-এর সুন্নাহ হলো আইনের দ্বিতীয় উৎস এবং এ দুটি অবিচ্ছেদ্য। এতে হাদিসের ইতিহাস বিষয়ক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয় এবং গবেষকদের বিভিন্ন প্রকার হাদিস অধ্যয়ন করতে ও নবী (সা.)-এর হাদিস সম্পর্কে কিছু লোকের করা দাবি খণ্ডন করতে উৎসাহিত করা হয়।

তা ছাড়া ঘোষণাপত্রে হাদিস অধ্যয়নের পদ্ধতি নবায়ন এবং যুক্তির খণ্ডনে প্রমাণের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। 

তাতে আরো বলা হয়, পবিত্র হাদিসের অধ্যয়ন কেবল এর আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সভ্যতার মূল্যবোধগুলোকেও তুলে ধরে।

এদিকে ইসলামী বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে সহিহ আল-বুখারির প্রচলনের ফলে সাংস্কৃতিক ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ আদান-প্রদান তুলে ধরার লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘আল-বোখারি রুট’ চালু করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়াও ইসলামী সভ্যতার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকে উৎসর্গ করে একটি দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সম্মেলনটি ইমাম মুসলিম ও তাঁর সহিহ গ্রন্থের জন্য উৎসর্গ করা হবে।

সম্মেলনে ঘোষিত সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে, আন্তর্জাতিক আল-বুখারী পুরস্কার প্রবর্তন; ইমাম আল-বুখারি, তাঁর শিক্ষক, ছাত্র এবং তাঁর গ্রন্থের ওপর একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্বকোষ প্রকাশ; সহিহ আল-বুখারি শিক্ষাদানের জন্য নিবেদিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান এবং ইনস্টিটিউটের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা; ইমাম আল-বুখারির জীবনের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ; জ্ঞান অন্বেষণ এবং হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর যাত্রার বিবরণ নিয়ে একটি বই প্রকাশ। 

একইসঙ্গে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত নবীর সেই হাদিসগুলো নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা যেখানে মহৎ নৈতিক মূল্যবোধের বিবরণ রয়েছে। তা ছাড়া তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টারের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ইমাম আল-বোখারি এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের রয়েল কোর্টের উপদেষ্টা, কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্স-এর সদস্য এবং মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ, আইসেসকো-এর মহাপরিচালক ড. সালিম এম আল-মালিক, উজবেকিস্তানের মুসলিম বোর্ডের চেয়ারম্যান নুরিদ্দিন খালিকনাজারভসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। 
 

বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়
সংগৃহীত ছবি

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস কিংবা অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে কঠিন পরীক্ষা হয়ে আসে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। এমন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। একজন মুমিন নিজের স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসবেন—এটাই ইসলামের শিক্ষা। অসহায় মানুষের চোখের অশ্রু মুছে দেওয়া, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়া এবং বিপদে সাহস জোগানো—এসব কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা করা তাকওয়ার পরিচয় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)
বন্যা ও দুর্যোগের সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক কিংবা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষের উপকার করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।’ (তাবারানি, হাদিস : ৫৭৮৭)
অতএব, দুর্যোগে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এগিয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ।

মুমিনরা পরস্পরের ভাই : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)
আর ভ্রাতৃত্বের এই সম্পর্ক শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।

অন্যের কষ্ট দূর করার প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)
তাই বলা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কাজ করবে, আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।

দান-সদকার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়; প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬১)
তাই দুর্যোগে দেওয়া একটি খাবারের প্যাকেট, একটি কম্বল বা সামান্য অর্থও আল্লাহর কাছে অমূল্য হয়ে যেতে পারে।

রহমত লাভের অন্যতম উপায় : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করে, পরম দয়ালু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪)
তাই অসহায় মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

শুধু অর্থ নয়, যেকোনো সহযোগিতাই সদকা : অনেকে মনে করেন, অর্থবানরাই শুধু সহযোগিতা করতে পারেন। অথচ ইসলাম বলে, সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতাই সদকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৫)
অতএব, খাদ্য বিতরণ, উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ, অসুস্থদের সেবা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, এমনকি সান্ত্বনার একটি বাক্যও আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ। একজন সত্যিকারের মুমিন কখনো অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে নির্লিপ্ত থাকতে পারেন না। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, কারণ তিনি জানেন—মানুষের সেবা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ।

আসুন, আমরা সবাই বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, শ্রম, সময় কিংবা আন্তরিক দোয়া—যে যেভাবে পারি সহযোগিতা করি। মনে রাখতে হবে, আজ আমরা অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ালে, কাল আমাদের বিপদের সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমত ও সাহায্য দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চার আলেম

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চার আলেম
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের চার শীর্ষ আলেম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন। আগামী ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিলিস্তিনের জন্য আলেমদের সম্মেলন’। ফিলিস্তিন ও পবিত্র কুদস ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে আলেমদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিন।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন দেশের চার বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন—জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, রাজধানীর মুহাম্মদপুরস্থ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রধান মুফতি মাওলানা হিফজুর রহমান এবং বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি আলেমদের ভিসা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার।

তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে পাঠানো হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিনের সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং ফিলিস্তিন ও কুদস প্রশ্নে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে চিঠিতে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশি আলেমদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের (দিয়ানেত) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

আশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আলেমদের অংশগ্রহণ ফিলিস্তিন ও কুদস ইস্যুতে বাংলাদেশের নৈতিক অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে এবং মুসলিম বিশ্বের আলেমদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাদিসের বাণী

এক পেয়ালা দুধে অবিশ্বাস্য বরকত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এক পেয়ালা দুধে অবিশ্বাস্য বরকত
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই, আমি ক্ষুধার তাড়নায় মাটির সঙ্গে গড়াগড়ি করতাম এবং পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। এভাবে একদিন আমি মানুষের চলার রাস্তায় বসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর মহানবী (সা.) এসে আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন। তিনি আমার মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, আমার পেছনে পেছনে আসো। আমি তাঁর পিছু পিছু তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করার পরে আমার প্রবেশের অনুমতি (তাঁর স্ত্রীদের কাছে) চাইলেন। তারা আমাকে অনুমতি দিলে আমি প্রবেশ করলাম।

মহানবী (সা.) ঘরে ঢুকে এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাস করলেন, এ দুধ আসলো কোথা থেকে? জবাবে তারা বললেন, অমুক আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। তিনি বললেন, আবু হির, (হে আবু হুরাইরা) আমি বললাম, লাব্বাইক (আমি উপস্থিত) ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, সুফফাবাসীদের কাছে গিয়ে তাদের ডেকে নিয়ে আসো। আর আহলে সুফফারা ইসলামের মেহমান ছিলেন, তাঁদের কোনো থাকার মতো ঘর-বাড়ি ছিল না। তাদের কোনো পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ কিছুই ছিল না।

মহানবী (সা.)-এর কাছে কোনো সাদাকাহের জিনিস এলে, তিনি তা সুফফাবাসীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। সাদাকাহ থেকে মহানবী (সা.) কখনোই কোনো কিছু নিতেন না। আবার কোনো কিছু হাদিয়া আসলেও তিনি সেটা তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। হাদিয়ার জিনিস থেকে মহানবী (সা.) নিজে গ্রহণ করতেন এবং অন্যকেও দিতেন। তো, তিনি আমাকে সুফফাবাসীকে ডাকার জন্য বললেন। তখন আমার মনে সংকোচ হলো।

আমি (মনে মনে) বললাম, এই অল্প দুধ সবার জন্য কি যথেষ্ট হবে? তা ছাড়া এই দুধের অধিক হকদার হলাম আমি। এই দুধ পান করে একটু শক্তিশালী হবো। আহলে সুফফারা উপস্থিত হওয়ার পর, তাদের পান করার জন্য মহানবী (সা.) আমাকে আদেশ করবেন। তারপর তাদের পান করানোর পরে কতটুকুই-বা বাকি থাকবে! তা ছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথা মানা ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।

তাই আমি তাদের কাছে এসে তাদের ডাকতে লাগলাম। তারা এসে অনুমতি চাইল, অনুমতি পেয়ে সবাই নিজ-নিজ জায়গায় বসে পড়লেন। এবার মহানবী (সা.) বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, পাত্রটি নিয়ে তাদের একেকজনকে দাও। ফলে আমি এক-একজনকে দিতে লাগলাম। প্রথমজন তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি ফেরত দিলেন। অতঃপর আমি অন্য একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এরপরে আরেকজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পাত্রটি দিলেন। এভাবে সবার পালা শেষ করে আমি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে উপস্থিত হলাম। সবাই তৃপ্তিসহকারে পান করতে পেরেছে। এরপরে মহানবী (সা.) পাত্রটি নিয়ে তাতে নিজ হাত রেখে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু হির, আমি বললাম, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, এখন তো তুমি আর আমি বাকি। আমি বললাম, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।

মহানবী (সা.) আমাকে বললেন, তুমি এবার বসে পান করতে থাকো। আমি বসে-বসে পান করতে লাগলাম। তিনি আবার বললেন, পান করো। ফলে আমি আবার পান করতে থাকলাম। তিনি আমাকে বারবার পান করার কথা বললে আমি বললাম, আর পারছি না। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, পান করার মতো আমার পেটে আর কোনো জায়গা ছিল না। অবশেষে তিনি বললেন, পাত্রটি আমাকে দেখাও। আমি পাত্রটি মহানবী (সা.)-এর কাছে দিলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে 'বিসমিল্লাহ' বলে বাকি দুধ পান করে নিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৫২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১০৬৭৯)