কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরের শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার কাটিয়া, কামালনগর, পলাশপোল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড়, সুলতানপুর, বদ্দীপুর কলনি, মধুমল্যার ডাঙি, মাঠপাড়া, মাছখোলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বসতঘরে পানি জমেছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিয়া হল এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু জানান, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক ঠিকমতো চলতে পারছে না। হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বাধ্য হয়ে আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প ঘুরে আদালতে বা বড় বাজারে যাতায়াত করছি।’
কাটিয়া এলাকার ফারুক হোসেন সোহাগ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে। পৌরসভার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন খুড়ে রাখলেও কাজ শেষ না করায় বিপাকে পড়েছি আমরা। তিনি বলেন, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রান্না ঘরে পানি জমেছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। পৌরসভার ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত। অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে খাল ও নদী পুনঃখননের পাশাপশি সড়ক সংষ্কার কাজ চলছে।পাশাপাশি শহরের স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হবে। প্রাণসায়ের খালে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে শহরের সব ড্রেন সচল করে ওই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। চলতি বছর শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশাবাদী তিনি।
একই অবস্থা কলারোয়া, তালা, আশাশুনি উপজেলায়। অতি বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঘের ও পুকুরে পানি বেড়ে মাছ ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জুলফিকার আলী রিপন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এখন বেশ কয়েক দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।