বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্রাজি়লকেই ভেবে রেখেছিল। সেখানে এখন তাদের সামনে ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চির ‘স্নাইপার’ বা সাইলেন্ট আত্মঘাতি আর্লিং হাল্যান্ড।
মেসি-এমবাপ্পে থাকলেও যিনি সাত গোল করে দু’জনের ঘাড়ে যেমন নিঃশ্বাস ফেলছেন। ঠিক তেমনই এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কোচ টমাস টুখেলের আসল কাঁটা ওই আইকনিক চুল বাঁধার মালিক।থ্রি লায়ন্সরা কি পারবে ভাইকিংসদের থামতে?
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচে বসে ইংল্যান্ড সমর্থক গ্যারি হুয়ার্ট বিয়ারের গ্লাস হাতে উত্তেজিত কন্ঠে বলছেন, ‘হ্যারি ৬টা গোল করেছে। রিয়েল লিডার। আমরা সেমিফাইনালে যাচ্ছি। হাল্যান্ড কিছু করতে পারবে না।’
যে হারে ইংরেজ সমর্থকেরা মায়ামির বারগুলোর দখল নিয়েছেন, প্রশাসন অবশ্যই নিচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। স্টেডিয়ামে বা ফ্যান পার্কে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই সতর্কতা।
সমুদ্রসৈকত থাকবে আর জলদস্যুরা তার দখল নেবে না, হতে পারে না। লাল জার্সি পরা অসংখ্য নরওয়ে সমর্থকও দল বেঁধে বিচে ঘুরছেন। ‘ইটস কামিং হোম’ শুনলেই তারা সুর করে পাল্টা আওয়াজ তুলছেন, ‘হা-হা-হা হাল্যান্ড’, যা ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল। সঙ্গে নৌকো বাওয়ার ভঙ্গিতে বিখাত ‘ভাইকিং রো’ তো আছেই।
কী ছকে টিম নামাবেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস তুচেল? ৪-২-৩-১ ছকে খেলার কথা থ্রি লায়ন্সের। ডিফেন্সে বাঁ দিকে ও’রিলি, স্টপে গুয়েহি ও স্টোন্স আর রাইট ব্যাক কোয়ানসা। গুয়েহি পুরো ফিট কি না, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ থাকছে। তিনি ফিট না হলে ড্যান বার্ন খেলবেন।
ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে ডেক্লান রাইস আর অ্যান্ডারসন, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে গর্ডন, বেলিংহ্যাম আর সাকা। উপরে স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত যে ১১টা গোল করেছে, তার মধ্যে ছ’টা কেনের, চারটে বেলিংহ্যামের। ইংল্যান্ড মিডিয়া তো বটেই, ফুটবল দুনিয়াও মনে করছে, এখন পর্যন্ত কেন যে ভাবে টিমকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে তিনি টিমকে সেমিফাইনালে তুলবেনই।
অন্য দিকে, নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাক্কেন ব্রাজি়লকে হারিয়ে শেষ আটে উঠে এসেছেন। ২৮ বছর পরে নরওয়ে বিশ্বকাপে যোগ্যতা পেয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে। গোলের সামনে হাল্যান্ড কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন, ব্রাজি়ল ম্যাচে দুনিয়া তা দেখেছে। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির নয়নের মণি হাল্যান্ড, কিন্তু তিনিই এখন গোটা ইংল্যান্ডের ‘এনিমি নাম্বার ওয়ান।’ সঙ্গে ক্যাপ্টেন ওডেগার্ড, মিডফিল্ডটা পুরো কন্ট্রোল করতে পারেন।
হার্ড রক স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে বসে নামী-দামি ইংরেজ ফুটবল বিশেষজ্ঞরা যে সব প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন, তার মমার্থ একটাই। কী করে হাল্যান্ড-ফ্যাক্টরকে সামলাবেন তুচেল। অথচ স্বয়ং হাল্যান্ড মজা করতে ব্যস্ত। প্র্যাক্টিসে হাসছেন, নাচছেন। বলছেন, ‘জীবনে রসিকতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি থাকবে, কিন্তু আমার কাছে হাসিটা দরকার। বাকিটা তো ম্যাচে দেখা যাবে। কোনওদিন ভাবিইনি, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলব।’
এরই মধ্যে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডকে খোঁচা দিচ্ছেন জ্লাটান ইব্রোহিমোভিচ। হাল্যান্ড স্বয়ং বলছেন, ‘জ্লাটান আমাকে কী বলেছে, জানেন? বলেছে, তোমার ওই চুলে ঝুটি কখনও কেটো না। ওটাই কিন্তু তোমার আসল শক্তি।’
ইব্রাহিমোভিচ সারা জীবন ঝুটি রেখেছেন। তিনি বলে দিচ্ছেন, ‘হাল্যান্ড আর আমার একই এজেন্ট ছিল। আমি ওকে বলেছিলাম, হাল্যান্ডকে বলো ঝুটি রাখতে। সেটা ওকে ওর স্বপ্নের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।’
স্বপ্নের কাছাকাছি সত্যিই দাঁড়িয়ে আর্লিং হাল্যান্ড। আইকনিক চুলের ঝুটিই কি মায়ামির মাঠেও শেষ কথা বলবে?




