• ই-পেপার

জনগণের জানমাল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর : এমপি নিজাম

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রোধে মাদারীপুরে জিওব্যাগ ডাম্পিং

মাদারীপুর প্রতিনিধি
আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রোধে মাদারীপুরে জিওব্যাগ ডাম্পিং
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী জাহান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে আপাতত জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এটি সাময়িক সমাধান হলেও ভবিষ্যতে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, সদর উপজেলার পুরাতন ফেরিঘাট, বাহেরচর, জাজিরাসহ ১৭টি ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি স্থানে ৮ হাজার করে জিওব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে থেকে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল কাদের খান বলেন, ‘জেলার ১৭টি ভাঙনপ্রবণ স্থানে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পয়েন্টে প্রায় ৮ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হবে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুর্তজা আলম ঢালী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মুনমুন আক্তার, রফিকুল ইসলাম মাতুব্বরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত ৫
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ডিমবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে ছড়িয়ে থাকা ডিম উত্তোলন করতে যায়। তখন দ্রুতগতিতে নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ওপর তুলে দেয়। ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে অনেকে হতাহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ের বাসটিসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, ডিমভর্তি একটি গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত হলে ওই গাড়িটি উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। তখন বিপরীত দিক থেকে একটি যাত্রীবাহী পরিবহন স্থানীয় লোকজনের ওপর উঠে গেলে বেশ কয়েকজন মারা যায়। মৃতের সংখ্যা কত তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালুদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী উত্তেজিত অবস্থায় রয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।’

লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

লাকসাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় একটি মালবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি মারা যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তার পরনে ছিল নীল রঙের হাফপ্যান্ট, লাল-সাদা রঙের টি-শার্ট এবং নীল রঙের কাপড়ের জুতা। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ওসি মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) খবর দেওয়া হয়েছে। পিবিআই সদস্যরা এসে আঙুলের ছাপ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা
ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে জমা পড়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, ১৯ গ্রাম স্বর্ণ (এর মধ্যে ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু) এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এ হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি জানান, নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দিরহাম ২০ পয়সা, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া দান হিসেবে পাওয়া ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপাও উদ্ধার করা হয়েছে।

কমিটি জানায়, একই সময়ে মাজারে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান করা হয়। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়া গেছে।

সকাল সাড়ে ১১টায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং দরগাহ মাদরাসার ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্সের অর্থ গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টার দিকে কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ সংশ্লিষ্টরা মাজারে উপস্থিত হন।

পরে সিলগালা করা তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ খুলে সেখান থেকে অর্থ বের করে মসজিদের সামনের খোলা প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে টাকা গণনা করেন। নিরাপত্তার জন্য মাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। সে সময় চার দিনে জমা হওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা শেষে সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হয়েছিল।