• ই-পেপার

আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রোধে মাদারীপুরে জিওব্যাগ ডাম্পিং

প্রায় দুই মাস পর আবারও সচল পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথরখনি

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রায় দুই মাস পর আবারও সচল পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথরখনি
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে।

খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরকের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৯ মে থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এক মাস ২২ দিন পর নতুন চালানের বিস্ফোরক খনিতে পৌঁছালে আবারও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বিস্ফোরকের ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। শুক্রবার ৮৮ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে পৌঁছেছে। এই মজুত দিয়ে আনুমানিক আড়াই মাস উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট এড়াতে আরো ৩০০ টন বিস্ফোরকের চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

খনি সংশ্লিষ্টরা জানান, সময়মতো বিস্ফোরক সরবরাহ না পাওয়ায় অতীতেও কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তাই উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিস্ফোরকের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিতে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে খনিতে প্রায় ৭০০ শ্রমিক তিন শিফটে কাজ করছেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে ছয় বছরের নতুন চুক্তির আওতায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়িতে মজুদ করা ককটেল বিস্ফোরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়িতে মজুদ করা ককটেল বিস্ফোরণ
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বসতবাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা নারায়ানপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের জোহরপুর বেলপাড়া গ্রামে মনোয়ারুল ইসলাম কালুর (৫০) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পরপরই ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের জোহরপুর বিওপি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় গ্রাম্য রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে। বিবদমান দুটি গ্রুপ রয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনের পর মারামারির ঘটনা ঘটে। যারা গ্রাম্য রাজনীতিতে জড়িত তারা বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত। কালু পূর্বে আওয়ামী লীগ করলেও এখন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। 

ইউপি সদস্য মো. রবু বলেন, কালুর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপির লোকজন তাদের বাড়িতে বোমা রেখে গিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন বলেন, কালুর বাড়ির রান্নাঘরে অন্তত দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

ওসি বলেন, কালু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘেঁষা এমন শোনা গেছে। তবে ওই এলাকায় সম্প্রতি স্থানীয় কোন রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সমস্যার কথা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
 

১৭ বছর দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১৭ বছর দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার : প্রতিমন্ত্রী টুকু
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন দেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থবির ছিল। একসময় টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম দর্শকে পরিপূর্ণ থাকত, টিকিট কেটে মানুষ খেলা দেখতে আসত। কিন্তু গত ১৭ বছর অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করেছিল। বর্তমান সরকার খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।’

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারা দেশে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।’

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলা নিয়ে কোনো বিদ্বেষমূলক আচরণ বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে। সবাই আনন্দের সঙ্গে খেলা উপভোগ করবে।’

তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে আনন্দ দেয় এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করে। তাই টাঙ্গাইলে আরো বেশি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব আরিফুল হক প্রিন্সসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়া সংগঠকরা।

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার ১২টি উপজেলা অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচজন বিদেশি ফুটবলার খেলার সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বাসাইল উপজেলার মুখোমুখি হয়। একই দিনে জেলার বিভিন্ন ভেন্যুতে আরো পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ১৩ জুলাই দ্বিতীয় লেগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ থেকে ১৯ জুলাই সুপার সিক্স পর্ব, ২৮ ও ২৯ জুলাই সেমিফাইনাল এবং আগামী ১ আগস্ট টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল ইসলামের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। একসময় দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সর্বশেষ ২০১৫ সালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৪ গাড়িতে আগুন

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৪ গাড়িতে আগুন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনার পর দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসসহ অন্তত চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ভাঙ্গা উপজেলার সোয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ডিমবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে ছড়িয়ে থাকা ডিম উত্তোলন করতে যায়। তখন দ্রুতগতিতে নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ওপর তুলে দেয়। ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে অনেকে হতাহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নড়াইল এক্সপ্রেসওয়ের বাসটিসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, ডিমভর্তি একটি গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত হলে ওই গাড়িটি উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। তখন বিপরীত দিক থেকে একটি যাত্রীবাহী পরিবহন স্থানীয় লোকজনের ওপর উঠে গেলে বেশ কয়েকজন মারা যায়। মৃতের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালুদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী উত্তেজিত অবস্থায় রয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।’