সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির বৈঠকে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে—এমন খবর স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর নগর পুলিশিং ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশও এ উদ্যোগ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ দেখিয়েছে।
এক দেশের জননীতি-সংক্রান্ত উদ্যোগ সম্পর্কে অন্য দেশের আগ্রহী হওয়ায় অস্বাভাবিক কিছু নেই। কোনো নীতি নিজ দেশে প্রয়োগের আগে নীতিনির্ধারকরা নিয়মিতভাবেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেন এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য বিচার করেন। কিন্তু বিষয়টি যখন রাষ্ট্রের বৃহৎ পরিসরের নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, তখন অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অর্থ শুধু তার সাফল্য জানা নয়; তার সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা থেকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা নেওয়া।
বাংলাদেশ যখন একটি ডিজিটাল সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ‘সেফ সিটি’ ধারণাটি ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সমন্বিত কমান্ড সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ (এএনপিআর) এবং হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার সমন্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের এক নতুন যুগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ধারণাটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়—আরো উন্নত প্রযুক্তি, আরো দ্রুত সাড়া এবং আরো নিরাপদ শহর।
বিশেষ করে লাহোরের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পকে সামনে রেখে পাকিস্তানকে প্রায়ই এ ধরনের মডেলের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে খুব একটা সন্দেহ নেই যে, এ ব্যবস্থা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সুফল এনে দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরো সমন্বিত হয়েছে, যানবাহন ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটেছে এবং বহু অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব অর্জন অবশ্যই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
তবে কোনো জননীতিকে কখনোই শুধু তার কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। সেটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা কতটা সুদৃঢ় করে—সেটিও সমানভাবে বিবেচ্য। আর ঠিক এখানেই পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান শিক্ষা বহন করে, যদিও সেটি অনুকরণের উপযোগী মডেল নাও হতে পারে।
‘সেফ সিটি’ প্রকল্প নিয়ে প্রথম ভুল ধারণা হলো— প্রযুক্তি এমন সমস্যার সমাধান করতে পারে, যার মূল কারণ আসলে প্রাতিষ্ঠানিক। নজরদারি অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের পরও পাকিস্তান এখনো সংঘবদ্ধ অপরাধ, নগর সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকির মুখোমুখি। নজরদারি প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত পরিচালনা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রদানের সক্ষমতা বাড়িয়েছে; কিন্তু পুলিশিং, প্রসিকিউশন এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের সমাধান করতে পারেনি। প্রযুক্তি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু তা কখনোই পেশাদার তদন্ত, স্বাধীন প্রসিকিউশন কিংবা সময়মতো বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। বাংলাদেশও একই ধরনের বহু কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশিক্ষিত তদন্তকারীর ঘাটতি, সীমিত ফরেনসিক সক্ষমতা এবং বিচারব্যবস্থায় মামলার জট—এসব সমস্যার সমাধান শুধু আরো বেশি ক্যামেরা বসিয়ে সম্ভব নয়। বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া ব্যয়বহুল নজরদারি ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত এমন এক উন্নত প্রযুক্তিগত সমাধানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে, যা পুরনো ও অপরিবর্তিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
দ্বিতীয় উদ্বেগটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। বৃহৎ পরিসরের নজরদারি নাগরিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের চরিত্রই বদলে দেয়। আধুনিক ‘সেফ সিটি’ ব্যবস্থা শুধু অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করে না—এটি সাধারণ মানুষের চলাচল, ব্যবহৃত যানবাহন, ভ্রমণের ধরন এবং অনেক ক্ষেত্রে মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের জৈবিক পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। জননিরাপত্তার বৈধ প্রয়োজনে এ ধরনের সক্ষমতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে তার সঙ্গে সমান শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়, নজরদারি প্রযুক্তির সক্ষমতা যখন তা নিয়ন্ত্রণকারী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর চেয়ে দ্রুত বিস্তৃত হয়, তখন কী ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। পাকিস্তানের ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, দেশটিতে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সুরক্ষা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই। নজরদারিতে সংগৃহীত তথ্য কত দিন সংরক্ষিত থাকবে এবং কে বা কিভাবে তা ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর স্বাধীন তদারকিও অনুপস্থিত। এসব উদ্বেগ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তব অপব্যবহারে রূপ নিয়েছে কি না, সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। তবে এগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে—নজরদারির ক্ষমতা সম্প্রসারণের আগে কার্যকর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা কতটা জরুরি। বাংলাদেশের জন্য এ শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
দেশটি এখনো ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আইনি কাঠামো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে নজরদারি কার্যক্রমের স্বাধীন তদারকিও সীমিত। ফলে পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আগেই যদি ব্যাপক নজরদারিব্যবস্থা চালু করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনো সরকার পর্যাপ্ত জবাবদিহি ছাড়াই সেই ক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে।
ইতিহাস এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনো সরকারই সাধারণত অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলে না। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো, যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই অসাধারণ ক্ষমতাগুলোকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের আওতায় রাখা। জনসাধারণের প্রতিষ্ঠান এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যাতে তা শুধু বর্তমান সরকারের জন্য নয়, ভবিষ্যতের সরকারগুলোর জন্যও সমানভাবে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক থাকে।
স্বাধীন তদারকি, স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচারিক সুরক্ষা না থাকলে নজরদারি ব্যবস্থা রাজনৈতিক অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সাংবাদিক, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠন কিংবা শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের ওপর নজরদারির হাতিয়ার হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে। এ ধরনের অপব্যবহারের সম্ভাবনাই গণতান্ত্রিক সমাজগুলোকে নজরদারির ক্ষমতার সঙ্গে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিতে বাধ্য করেছে।
এ কথাও মনে রাখা জরুরি যে, ‘সেফ সিটি’ প্রযুক্তি ব্যবহারে পাকিস্তান কোনো ব্যতিক্রম নয়। সিঙ্গাপুর, লন্ডন, দুবাইসহ বিশ্বের বহু শহরেই অনুরূপ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পার্থক্য প্রযুক্তিতে নয়; পার্থক্য এর শাসনব্যবস্থায়। যেসব দেশ নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে, তারা সাধারণত তা করেছে শক্তিশালী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আইন, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, অনুপ্রবেশমূলক নজরদারির ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদন, তথ্য সংরক্ষণের নির্দিষ্ট আইনি সীমা এবং নিয়মিত জনসম্মুখে স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে।
বাংলাদেশেরও উচিত, প্রযুক্তিগত মডেলের পাশাপাশি এসব শাসনব্যবস্থা থেকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা নেওয়া।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—অগ্রাধিকার কী হবে?
‘সেফ সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু ক্যামেরা কেনাই নয়; কমান্ড সেন্টার, সফটওয়্যার লাইসেন্স, সাইবার নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিশেষায়িত জনবল এবং নিয়মিত প্রযুক্তি হালনাগাদের জন্যও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। এসব ব্যয় এককালীন নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরাবৃত্ত। ফলে পুলিশের প্রশিক্ষণ, ফরেনসিক পরীক্ষাগার, কমিউনিটি পুলিশিং, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের সঙ্গে এ প্রকল্পের অর্থায়নের প্রতিযোগিতা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
সীমিত সরকারি সম্পদসম্পন্ন একটি উন্নয়নশীল দেশের নীতিনির্ধারকদের তাই নিজেদের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন রাখা উচিত—জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো এক হাজার নজরদারি ক্যামেরা কি বেশি কার্যকর হবে, নাকি আরো এক শ দক্ষ তদন্তকারী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কিংবা প্রসিকিউটর? এর উত্তর মোটেও সহজ নয়।
এর কোনোটির অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের প্রযুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। বরং বুদ্ধিমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত জরুরি সাড়া কেন্দ্র, ডিজিটাল অপরাধ মানচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় লক্ষ্যভিত্তিক সিসিটিভি কভারেজ এবং আধুনিক আলামত ব্যবস্থাপনা—এসবই দায়িত্বশীলভাবে বাস্তবায়িত হলে জননিরাপত্তাকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। প্রকৃত পার্থক্যটি উদ্দেশ্য ও শাসনব্যবস্থায়। প্রযুক্তি হবে জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ের সহায়ক; প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিকল্প নয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা যদি বাংলাদেশকে ‘সেফ সিটি’ কর্মসূচি বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত মনে হওয়ার কারণে পুরো একটি মডেল আমদানি করার প্রলোভন এড়িয়ে চলা। যেকোনো প্রস্তাব প্রথমে সংসদীয় পর্যালোচনা, স্বাধীন গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন, জনপরামর্শ এবং কঠোর ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে শুধু কোন প্রযুক্তি গ্রহণ করবে তা-ই নির্ধারণ করলেই চলবে না; বরং সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে কোন কোন আইনি সুরক্ষা অবিচ্ছেদ্যভাবে নিশ্চিত করতে হবে, সেটিও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
সর্বশেষে, একটি নিরাপদ শহরের প্রকৃত মানদণ্ড রাস্তার মোড়ে কতগুলো ক্যামেরা বসানো হয়েছে কিংবা তার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার কতটা আধুনিক—তা নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, নাগরিকরা নিজেদের নিরাপদ অনুভব করেন কি না, অথচ সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকার অনুভূতি ছাড়াই; প্রযুক্তি জনগণের আস্থা ক্ষয় না করে বরং তা আরো সুদৃঢ় করে কি না; এবং রাষ্ট্র যত সক্ষম হয়, ততই কি আরো জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখায়, নজরদারি প্রযুক্তি পুলিশিং এবং নগর ব্যবস্থাপনার কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে পারে। একই সঙ্গে সেটি এটিও প্রমাণ করে যে প্রযুক্তি একা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করতে পারে না এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে পারে না।
সুতরাং কার্যক্রম পরিচালনার সাফল্যকে নীতিগত সাফল্য বলে ধরে নেওয়ার ভুল বাংলাদেশের করা উচিত নয়। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার প্রকৃত শিক্ষা কেবল কিভাবে একটি ‘সেফ সিটি’ গড়ে তুলতে হয়, তা নয়; বরং এমন একটি শহর গড়ে তুলতে যে শক্তিশালী আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি অপরিহার্য—যে ভিত্তি জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম—সেটিই আরো বড় শিক্ষা।
বাংলাদেশ অবশ্যই আরো নিরাপদ শহর পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। তাই নিশ্চিত করতে হবে, নিরাপদ শহর নির্মাণের আগে শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নির্মাণের কাজটি সম্পন্ন হয়।




