• ই-পেপার

লুডো খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতুড়িপেটায় যুবক নিহত

গাজীপুরে কারখানা বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় প্রায় হাজার শ্রমিক

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরে কারখানা বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় প্রায় হাজার শ্রমিক
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শফিপুরের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের একটি পোশাক কারখানার শাখা শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১১ জুলাই) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। কারখানার মূল ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বিকেল থেকে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই শ্রমিকরা উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। পরদিন ৯ জুলাইও একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কাজে যোগ দেননি। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারার আওতায় ১১ জুলাই থেকে কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে কারখানা পুনরায় চালুর তারিখ জানানো হবে। তবে করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের নিটিং সেকশন এবং একই মালিকানাধীন অন্য কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক জানান, গত দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। কবে বেতন পাবেন, সেটিও নিশ্চিত নন। ফলে সংসার চালানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন দাবিতে কারখানাটিতে একাধিকবার শ্রমিক বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

কারখানাটির মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আশিক ফেরদৌস শাহ বলেন, শ্রমিকরা ৮ ও ৯ জুলাই কাজে যোগ না দেওয়ায় আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় চালুর তারিখ জানানো হবে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে করণী নীট ফ্যাশনসের গার্মেন্টস শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এক দিনে নদী ও পুকুরে ডুবে বৃদ্ধ-শিশুসহ দুজনের মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
এক দিনে নদী ও পুকুরে ডুবে বৃদ্ধ-শিশুসহ দুজনের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় নদী ও পুকুরের পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সাতমেরা ও মাগুড়া ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বোদাপাড়া এলাকায় গরু নিয়ে করতোয়া নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যান গুল মোহাম্মদ আলী (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, নদীর ওই স্থানে পানির প্রবল স্রোত থাকায় তিনি নিজেকে সামলাতে না পেরে পানিতে তলিয়ে যান।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তর ধনিপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আলিফ (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে বাড়িতে খেলাধুলা করছিল আলিফ। পরে দুপুর ২টার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, দুই ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

নিখোঁজের একদিন পর পানিভর্তি গর্তে মিলল শিশুর মরদেহ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নিখোঁজের একদিন পর পানিভর্তি গর্তে মিলল শিশুর মরদেহ
ইমরান হাসান। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর ৩ বছর বয়সী শিশু ইমরান হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের হাশের আলগী গ্রামে ঘরের পেছনের পানিভর্তি একটি গর্তে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।

শিশু ইমরান হাসান ওই গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও শিরিন আক্তার দম্পতির ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু ইমরান হাসান। বাড়ির আশপাশে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তার সন্ধান পেতে এলাকায় মাইকিং করে পরিবার। তবুও হদিস মেলেনি ইমরানের। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির লোকজন ইমরানের মরদেহ ঘরের পেছনের পানিভর্তি একটি গর্তে ভেসে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে গর্ত থেকে ইমরানের মরদেহ তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে ইমরানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি।

জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের বিশ্বাস ও আস্থা রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার সমূর্ত জাহান মহিলা কলেজ মাঠে পৌর বিএনপি আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের সচেতন জনগণ তাদের বিশ্বাস না করে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। এখন জনগণের সেই বিশ্বাস ও আস্থার সঠিক প্রতিফলন ঘটানো আমাদের দায়িত্ব। ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ি, তাহলে জনগণ আমাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে।’ তিনি দাবি করেন, নান্দাইলে সব ধরনের চাঁদাবাজি ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের প্রথা দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। নান্দাইলকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

নান্দাইলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নান্দাইলের উন্নয়ন নিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। পৌরসভার উন্নয়নকাজে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৬টি সেতু ও কালভার্ট এবং চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্যও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১২০ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সব জায়গায় কিছু না কিছু লোডশেডিং আছে। তবে আমি বিশেষ উদ্যোগে নান্দাইলের জন্য অতিরিক্ত ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত করেছি। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নান্দাইলে কম লোডশেডিং হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবেশে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েততুল্লাহ কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক পল্লব রায়, পৌর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনিরসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।