• ই-পেপার

দেশবাসীর সামনে শেখ হাসিনার সাজা কার্যকর হবে : শামা ওবায়েদ

পে স্কেলের গেজেট যেভাবে চূড়ান্ত হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলের গেজেট যেভাবে চূড়ান্ত হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে নানা ধরনের জটিলতায় এর গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাচ্ছে। যদিও সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই থেকেই এটি বাস্তবায়ন হবে। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং ভাতা কাঠামো—সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি কোনো নীতিগত বিলম্ব নয়; বরং প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সময় লাগছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া পে স্কেলের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছে না সরকার। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন অংশ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ কয়েকটি ভাতা ও সুযোগ সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, নবম পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে ওই তারিখ থেকেই বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই অর্থবছরে সর্বোচ্চ তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাড়িভাড়া এবং একই অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া সচিব কমিটির আলোচনায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি এবং গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কম হারে বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে। এসব বিষয় কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও কাজ করছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পে স্কেলের বিষয়টি তাড়াহুড়া করে নয়, বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত দিক যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এর আগে আরো দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই নবম পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

প্রথম দিনেই নতুন ৬ রেকর্ড

জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা শুরু

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ৩৮তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিকেল ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আয়োজকরা জানান, চার দিনে সাঁতারে ১০০টি এবং ডাইভিংয়ে ৬টিসহ মোট ১০৬টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ডাইভিংয়ের ইভেন্টগুলো হল ১ মিটার স্প্রিংবোর্ড, ৩ মিটার স্প্রিংবোর্ড এবং ৫ মিটার প্ল্যাটফর্ম।

প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে নির্ধারিত ২৪টি ইভেন্টের মধ্যে ২৩টি সাঁতার এবং ২টি ডাইভিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সাঁতারে ৫টি ও ডাইভিংয়ে ১টিসহ মোট ৬টি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া হয়।

প্রথম দিনের পদক তালিকায় বিকেএসপি ১৫টি স্বর্ণ, ১১টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে। মেঘনা মোহনা সুইমিং ক্লাব চাঁদপুর ৩টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। একই সংখ্যক পদক জিতে নিকলী সুইমিং ক্লাব কুষ্টিয়াও যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান শাহীন।

ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী : বিটিআরসির চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী : বিটিআরসির চেয়ারম্যান
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।

শনিবার (১১ জুলাই) এফডিসিতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, সমাজে যা ঘটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একাংশ প্রতিফলিত হয়। এই মাধ্যমের অপব্যবহার একটি জটিল ও যৌগিক সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার কখনো কখনো নিষ্ঠুরতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ফেসবুক এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এর মূল শক্তি হচ্ছে সারা বিশ্বে তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন।

মো. এমদাদ উল বারী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি বাকসংযমও থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যক্তির মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দিয়ে থাকে। ডেসটিনি, ইভ্যালির মতো অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা করেছে। অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের মাধ্যম চিহ্নিত করা গেলে অপরাধীদের সনাক্ত করা সহজ হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গত বছর বিটিআরসি ২৬ হাজার অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছে এবং ২০ হাজার ঘৃণিত বক্তব্য বিভিন্ন সাইট থেকে অপসারণ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে কিছু কিছু অসাধু চক্র ও গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে লিপ্ত রয়েছে। মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধমীর্য় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করছে এসব অসাধু চক্র। তাদের এসব হটকারি কনটেন্টের কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি, ভাঙচুর, রক্তপাত এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
 
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ যে ভাষা ব্যবহার করে, তা অত্যন্ত জঘন্য, নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। এসব মুখেও আনা যায় না। বর্তমানে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওয়েব সিরিজের নামে নির্লজ্জতায় ভরা কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। অশ্লীলতায় ভরা এসব ওয়েব সিরিজে আসক্ত হয়ে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজেবাজে কনটেন্ট দেখার যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়ানক।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে হানিট্রাপে ফেলে বহু মানুষের জীবন, সংসার, ব্যবসা—বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। দেশে অনলাইন জুয়ার আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা লোভে পড়ে টাকা পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভিউ বাণিজ্যের লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব মিথ্যা, গুজব, অপতথ্য, নোংরা, অরুচিকর কনটেন্ট বন্ধে বিটিআরসিকে আরও কঠোর হতে হবে। রেগুলেটরি বডি হিসেবে বিটিআরসির সঙ্গে নাগরিকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সীমিত। সুশাসন, উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে বিটিআরসি নাগরিক সংলাপের আয়োজন করতে পারে।
 
‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিজয়ী হয়।
 
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, রোকেয়া পারভীন জুই, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সমীর কুমার দে ও সাংবাদিক মনির মিল্লাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন : মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

সারা দেশে বন্যা দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটর করছেন এবং তার বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটর করাচ্ছেন। 

বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ নিয়ে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু জায়গায় বন্যা হয়েছে, পাহাড় ধ্বংস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এ পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটর করছেন এবং তাঁর বিভিন্ন টিমের সদস্যদের মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন। 

গতকাল (শুক্রবার) পাঁচ জেলার যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন, সরকারের ভেতরে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসের সবার সাথে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কিভাবে জনগণের সাথে থাকতে হবে, কিভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে। আগামীকালও (আজ) প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করবেন। তাঁদের মতামত নেবেন এবং তাঁর নির্দেশনা প্রদান করবেন।

তিনি  বলেন, যে উদ্ধার তৎপরতা রয়েছে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব অনুষঙ্গ অর্থাৎ একদম ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যারা রয়েছেন, ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের একটা সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ছুটি গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সরাসরি মনিটর করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবাই যার যার এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বিশেষভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কাঁধে কাধ মিলিয়ে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বিএনপির চেয়ারম্যান, স্বাভাবিকভাবে তিনি তার পুরো দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন  বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিটি জায়গায় স্থানীয়ভাবে সাধারণ জনগণের সাথে থেকে কাজ করছেন এবং যেভাবে পারছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

বন্যাকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খুব দ্রুতগতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় আমরা একই সাথে রেসকিউ, রিলিফ এবং রিহ্যাবিলিটেশন এই তিনটা ফেসকে নিয়ে একই সাথে কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘পরীক্ষা বিলম্বিত করার মাধ্যমে বহুমুখী একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা চাই, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে, সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমনা সকল পরীক্ষা আগামি ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো: সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।