মাইকে প্রচার চালিয়ে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ সদর এলাকায় ‘খাস আদায়ের’ নামে ফের টোল বা টাকা আদায় শুরু করেছে স্থানীয় পৌরসভা। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন যানবাহন মালিক ও চালকরা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই এই স্থানে সব ধরনের টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মাইকিং করে পুনরায় এই টাকা আদায় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত থেকে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় মাইকে প্রচার চালিয়ে বলা হচ্ছে–একটি বিজ্ঞপ্তি, এত দ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘পৌর অটোস্ট্যান্ড থেকে ২০ টাকা হারে খাস আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি পৌরসভার একটি নিয়মিত কাজ ও চলমান অংশ। আহরিত অর্থ পৌরসভার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। ধন্যবাদান্তে প্রশাসক ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা।’ অথচ যেখানে খাস আদায় করা হচ্ছে তা মহাসড়ক। প্রকাশ্যে যানবাহন আটকিয়ে ২০ টাকার রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভার পক্ষ থেকে এটিকে বৈধ এবং নিয়মিত কার্যক্রম দাবি করা হলেও ক্ষুব্ধ চালকরা একে ভিন্ন চোখে দেখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অটোরিকশা ও সিএনজিচালক জানান, মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে এভাবে টাকা আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত ৫ আগস্টের পর আমরা স্বস্তিতে গাড়ি চালাতে পারছিলাম, কোনো চাঁদা বা টোল দিতে হয়নি। কিন্তু এখন আবার নতুন করে টাকা তোলা শুরু হওয়ায় আমাদের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঈশ্বরগঞ্জ একটি ‘প্রথম শ্রেণির’ (ক-শ্রেণি) পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মমাফিক উন্মুক্ত ইজারা না দিয়ে সরাসরি এভাবে ‘খাস আদায়’ করার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ চালক ও সচেতন মহলের মতে, ইজারা প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের খাস আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যায় এবং এটি পরোক্ষভাবে চালকদের ওপর বাড়তি হয়রানি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে সাধারণ চালক ও পরিবহন মালিকরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ বা প্রশ্নবিদ্ধ অর্থ আদায় অবিলম্বে বন্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, এটা চাঁদা নয়। পৌরসভার স্বার্থে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশন কেন–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগেও তো ছিল।’
স্ট্যান্ডে খাস কালেকশন না করে মহাসড়কে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও স্ট্যান্ড।










